৬ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী অবৈধ অভিবাসী যে কাউকেই গ্রেপ্তার করবে আইসিই: টড লায়ন্স

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪২ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী অবৈধ অভিবাসী যে কাউকেই গ্রেপ্তার করবে আইসিই: টড লায়ন্স

কৌশলী ইমা: যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন শুল্ক প্রয়োগ (আইসিই)-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক টড লায়ন্স বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন এমন কাউকে পেলেই তাঁর সংস্থার কর্মকর্তারা গ্রেপ্তার করবেন, যদিও তাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড না থাকে। একইসঙ্গে, অবৈধ অভিবাসীদের নিয়োগ দেয় এমন কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হবে। সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন

লায়ন্স বলেন, আইসিই তাদের 'সীমিত সম্পদ' ব্যবহার করবে মূলত 'সবচেয়ে ভয়ংকর অপরাধী' যাদের ফৌজদারি ইতিহাস আছে তাদের গ্রেপ্তার ও নির্বাসনের কাজে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যারা কোনো অপরাধ না করেই যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে আছেন, তারাও যদি আইসিই অভিযানে ধরা পড়েন, তাহলে তাদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, যেসব রাজ্য ও শহরে 'সাংচুয়ারি' নীতিমালা চালু আছে এবং যারা স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আইসিই’র সহযোগিতা সীমিত করেছে, তারা বাধ্য করছে আইসিই কর্মকর্তাদের কমিউনিটিতে ঢুকে অভিযান চালাতে।

লায়ন্স বলেন, 'যদি স্থানীয় বা অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ কাউকে জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখে এবং গ্রেপ্তার করে, তাহলে আমরা চাই তাদের জেল থেকেই হেফাজতে নিতে। কিন্তু এখন আমাদের কমিউনিটিতে ঢুকে যেতে হচ্ছে, আর সেখান থেকেই দেখা যাচ্ছে ‘কোল্যাটারাল’ গ্রেপ্তারের হার বাড়ছে

কোল্যাটারাল গ্রেপ্তার’ আবার চালু

বাইডেন প্রশাসন এসব কোল্যাটারাল গ্রেপ্তার কার্যত বন্ধ করে দিয়েছিল। সেই সময় শুধু গুরুতর অপরাধী, জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি এবং সাম্প্রতিক সীমান্ত অতিক্রমকারী অভিবাসীদের লক্ষ্য করে গ্রেপ্তার চালানোর নির্দেশ ছিল। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পরই এই নীতির অবসান ঘটে। ট্রাম্পের অধীনে আইসিই এখন আবার সর্বাত্মক অভিযান চালাতে শুরু করেছে, এবং হোয়াইট হাউসের উপপ্রধান স্টিফেন মিলার এজেন্সিকে প্রতিদিন ৩,০০০ জন গ্রেপ্তারের লক্ষ্য দিয়েছেন।

যদিও এখনও সেই লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, তবে কংগ্রেস আইসিই-কে ডিপোর্টেশন কার্যক্রম জোরদারের জন্য কয়েক হাজার কোটি ডলার নতুন অর্থ বরাদ্দ করেছে।

লায়ন্স বলেন, এই অতিরিক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে বছরে ১০ লাখ অভিবাসী নির্বাসনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব।

সরকারিভাবে প্রাপ্ত তথ্যমতে ট্রাম্পের প্রথম ছয় মাসে আইসিই প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার জনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করেছে। এর মধ্যে ৭০ হাজার জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দণ্ড ছিল, যদিও অনেক ক্ষেত্রেই এসব অপরাধ ছিল ইমিগ্রেশন বা ট্রাফিক সংক্রান্ত।

কর্মপন্থা নিয়ে সমালোচনার মুখে আইসিই

গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত অভিবাসীদের গ্রেপ্তারের ঘটনা তুলে ধরলেও, আইসিই-র কর্মকাণ্ড নিয়ে দেশের বিভিন্ন কমিউনিটিতে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মুখোশ পরা এজেন্টদের ব্যবহার, রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের আদালতের পথে গ্রেপ্তার এবং কর্মস্থলে অভিযান।

লায়ন্স বলেন, আইসিই সবসময় সবচেয়ে খারাপ অপরাধীদের টার্গেট করে। তবে নতুন প্রশাসনে আমরা পুরো অভিবাসন কাঠামোকে খুলে দিয়েছি।

কোম্পানিগুলোকেও শাস্তির আওতায় আনবে আইসিই

দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে আইসিই আবারও বড় পরিসরে কর্মস্থল অভিযান শুরু করেছে, যা বাইডেন আমলে কার্যত স্থগিত ছিল। সম্প্রতি নেব্রাস্কার একটি মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ প্লান্ট, লুইজিয়ানার একটি হর্স রেসিং ট্র্যাক এবং দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার গাঁজা চাষের খামারগুলোতে অভিযান চালিয়ে শত শত সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুধু গাঁজা চাষখাতে ৩০০ জনের বেশি অভিবাসী ধরা পড়েছেন, যাদের মধ্যে ১০ জন শিশু।

শুরুতে এই কঠোরতা কৃষক ও হোটেলরেস্তোরাঁ খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করছিল বলে জুনে আইসিই কৃষি ও হসপিটালিটি সেক্টরে অভিযান স্থগিত করেছিল। তবে তা কেবল কয়েক দিনের জন্য। প্রেসিডেন্ট পরে বলেছিলেন, কৃষকদের হয়তো “ছাড়” দেওয়া হতে পারে, তবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

সিবিএস নিউজকে লায়ন্স বলেন, কর্মস্থলে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং তা আইনি ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। “এটি কোনো অপরাধহীন বিষয় নয়

তিনি বলেন, এ ধরনের তদন্ত প্রায়ই জোরপূর্বক শ্রম বা শিশু পাচারের মতো অপরাধ প্রকাশ করে।

তাঁর কথায়, শুধু অবৈধভাবে কাজ করা অভিবাসীদের নয়, আমরা তাক করছি সেইসব আমেরিকান কোম্পানির দিকেও যারা এই শ্রমিকদের শোষণ করছে।

জিজ্ঞাসা করা হলে, আইসিই কি শুধু শ্রমিকদেরই নয়, নিয়োগদাতাদেরও শাস্তির আওতায় আনবে? লায়ন্সের উত্তর: 'একশ ভাগ।'

[বাংলা প্রেস বিশ্বব্যাপী মুক্তচিন্তার একটি সংবাদমাধ্যম। স্বাধীনচেতা ব্যক্তিদের জন্য নিরপেক্ষ খবর, বিশ্লেষণ এবং মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজ আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।] বিপি।সিএস
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি