৫ মে ২০২৬

গৃহকর্মী থেকে বিধায়ক হলেন বিজেপির কলিতা মাঝি

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬, ১১:১৫ পিএম
গৃহকর্মী থেকে বিধায়ক হলেন বিজেপির কলিতা মাঝি


বাংলাপ্রেস ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে এবার বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি এক অনন্য মানবিক ও সামাজিক জয়ের গল্প তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি যখন দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন আউসগ্রামের কলিতা মাঝি। পেশায় এক সময়ের সাধারণ গৃহকর্মী থেকে তিনি এখন বিধানসভার নবনির্বাচিত সদস্য (এমএলএ)।

প্রতিকূলতা জয়ের লড়াই

পূর্ব বর্ধমানের গুসকরা পৌরসভার বাসিন্দা কলিতা মাঝির জীবন ছিল জীবনসংগ্রামের এক জীবন্ত দলিল। সাত বোন ও এক ভাইয়ের বিশাল সংসারে অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। দিনমজুর বাবার সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর দশায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ পাননি তিনি। নিজের সংসার চালাতে চারটি বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতেন তিনি, যেখান থেকে মাসিক আয় ছিল মাত্র ২ হাজার ৫০০ রুপি। স্বামী পেশায় প্লাম্বার; এই সামান্য আয়েই চলত তিন জনের সংসার। অথচ আজ সেই অভাবী ঘর থেকেই উঠে এসে তিনি ঠাঁই করে নিয়েছেন রাজ্য রাজনীতিতে।

অদম্য হার না মানা মানসিকতা

কলিতা মাঝির এই জয় হুট করে আসা কোনো সাফল্য নয়। গত এক দশক ধরে বুথ স্তরের কর্মী হিসেবে রাজনীতির মাঠে ঘাম ঝরিয়েছেন তিনি। ২০২১ সালের নির্বাচনে প্রথমবার সুযোগ পেয়েও সামান্য ব্যবধানে হেরে গিয়েছিলেন। তবে দমে যাননি। দল তার স্থানীয় জনপ্রিয়তা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের ওপর আস্থা রেখে ২০২৬ সালের নির্বাচনে আবারও তাকে মনোনয়ন দেয়। এবার আর ভুল হয়নি—১ লাখ ৭ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়ে তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করেছেন।

সামাজিক বিবর্তনের প্রতিচ্ছবি

কলিতা মাঝির এই সাফল্য ভারতের নির্বাচনী রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। হলফনামা অনুযায়ী তার মোট সম্পদের পরিমাণ মাত্র ১ লাখ ৬১ হাজার ২১৬ রুপি। অর্থবিত্তের ঝনঝনানি বা বংশীয় প্রভাব ছাড়াই যে সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও দলের তৃণমূল কর্মীদের সমর্থন থাকলে ক্ষমতার উচ্চশিখরে পৌঁছানো যায়, কলিতা মাঝি তার উজ্জ্বল উদাহরণ।

বিজেপির উত্থান ও নতুন সমীকরণ

২৯৪ আসনের বিধানসভায় ২০৬টি আসন জিতে বিজেপি এবার পশ্চিমবঙ্গে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই জয়কে ‘পদ্ম ফোটা’র সাথে তুলনা করেছেন। তবে বড় রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝেও কলিতা মাঝির মতো প্রান্তিক মানুষের প্রতিনিধিরা যখন বিধানসভায় পৌঁছান, তখন তা শুধু রাজনৈতিক পালাবদল নয়, বরং গণতন্ত্রের এক বিশেষ অর্জন হিসেবেই গণ্য হয়।

তৃণমূল পর্যায়ের এই নেত্রীর জয় এখন পুরো রাজ্যে সামাজিক বাস্তবতাকে জয় করার এক বিরল রূপকথা হিসেবে চর্চিত হচ্ছে। আউসগ্রামের সাধারণ মানুষের আশা, তাদের ঘরের মেয়ে এবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তাদের প্রাত্যহিক অভাব-অভিযোগের কথা তুলে ধরবেন।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি