৭ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে ২,২০০ অভিবাসী গ্রেপ্তার,পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪২ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে ২,২০০ অভিবাসী গ্রেপ্তার,পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড
  আবু সাবেত: যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইসিই) মঙ্গলবার সংস্থার ইতিহাসে একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। এর সংখ্যা ২ হাজার ২০০-এর বেশি। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন এই বিষয়ে অবহিত একটি সূত্র এবং আইসিই-এর একজন মুখপাত্র। হোয়াইট হাউসের চাপের মুখে দ্রুত ও ব্যাপক হারে গ্রেপ্তার বাড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এনবিসি নিউজকে তিনটি সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া অভিবাসীদের শত শত জনই আইসিই-এর 'আটকের বিকল্প' (এটিডি) প্রোগ্রামের আওতায় ছিলেন। এই প্রোগ্রামের অধীনে যেসব অনিবন্ধিত অভিবাসীকে জনসুরক্ষার জন্য হুমকি মনে করা হয় না, তাদের শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর তাদের অবস্থান নজরদারিতে রাখা হয় গোড়ালির মনিটর, স্মার্টফোন অ্যাপ বা অন্যান্য জিওলোকেশন প্রযুক্তি এবং নিয়মিত আইসিই অফিসে রিপোর্ট করার মাধ্যমে। অন্তত কিছু গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আইসিই নতুন একটি কৌশল অবলম্বন করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশজুড়ে অভিবাসন আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এটিডি প্রোগ্রামে থাকা তাদের কিছু ক্লায়েন্টকে আইসিই একটি গণ বার্তার মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের আগেই সাক্ষাতে হাজির হতে বলে। কিন্তু তারা পৌঁছানোর পরই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এনবিসি নিউজের একজন প্রতিবেদক বুধবার নিউ ইয়র্ক সিটির একটি আইসিই অফিসে এমন সাতজনকে দেখেছেন, যারা সাক্ষাতের জন্য এসেছিলেন এবং পরে হাতকড়াসহ অচিহ্নিত গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে একজন ৩০ বছর বয়সী কলম্বিয়ান নাগরিক ছিলেন, যাকে তার স্ত্রী কান্নায় ভেঙে পড়া অবস্থায় অনুসরণ করছিলেন, আর তার মেয়ে তাকে ধাওয়া করার চেষ্টা করছিল, যখন মুখোশ পরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে ও আরও দুইজন পুরুষকে গাড়িতে তুলে নেয়। এই পরিবারের আইনজীবী মার্গারেট কার্জিওলি, যিনি ইমিগ্র্যান্ট ডিফেন্ডার্স ল’ সেন্টারের পরিচালন আইনজীবী, সাংবাদিকদের বলেন, 'তিনি (কলম্বিয়ান নাগরিক) প্রতিটি আইসিই সাক্ষাতে হাজির হয়েছেন। তিনি সকল শর্তই পূরণ করেছেন।' ভেরোনিকা নাভারেতে নামের একজন নারী তার ইকুয়েডর থেকে আসা আশ্রয়প্রার্থী বন্ধুর জন্য অভিবাসন অফিসের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন, যাকে বুধবার হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল। তিনি এনবিসি নিউজকে জানান, সারাদিন অভিবাসীদের অফিসের বাইরে হাঁটাহাঁটি করতে দেখেছেন, যারা যেন চিন্তায় ছিলেন যে তারা আদৌ সাক্ষাতে যাবেন কিনা। তিনি বলেন, 'ভেতরে ঢুকলে ধরা পড়ার আশঙ্কা থাকে। আর না ঢুকলে সাক্ষাত মিস হবে, যার মানে সরাসরি নির্বাসন। আমাদের কোনো বিকল্প নেই।' হাতকড়ার সঙ্গে থাকা অভিবাসীদের গ্রেপ্তার সম্পর্কে আইসিই মুখপাত্র বলেন, 'যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের একজন অভিবাসন বিচারক দ্বারা জারি করা নির্বাসনের চূড়ান্ত আদেশ ছিল এবং তারা সেই আদেশ মানেননি।' এনবিসি নিউজের পক্ষ থেকে গ্রেপ্তারের কারণ ব্যাখ্যা চাওয়া হলে-একাধিক আইনজীবী জানিয়েছেন, তাদের ক্লায়েন্টদের চূড়ান্ত নির্বাসন আদেশ ছিল না- আইসিই মুখপাত্র তখন তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি। এই গ্রেপ্তারের ঢেউ হোয়াইট হাউসের নীতিনির্ধারণী উপ-প্রধান স্টিফেন মিলারের চাপের পরপরই শুরু হয়েছে। তিনি গত মাসে আইসিই নেতৃত্বের সঙ্গে এক বৈঠকে বলেছিলেন, সংস্থাটি প্রতিদিন ৩,০০০ গ্রেপ্তার না করলে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করা হবে—এমন হুমকির কথা জানিয়েছেন দুজন অংশগ্রহণকারী সূত্র। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তিনি 'লক্ষ লক্ষ' অভিবাসীকে নির্বাসিত করবেন, আর তার সীমান্ত নীতিবিষয়ক কর্মকর্তা টম হোম্যান বলেছেন, প্রশাসন “সবচেয়ে বিপজ্জনক” অভিবাসীদের লক্ষ্য করবে। তবে সাবেক আইসিই কর্মকর্তারা বলছেন, ট্রাম্পের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বাস্তবসম্মত নয় এবং শুধুমাত্র অপরাধী অতীত আছে এমনদের লক্ষ্য করতে গিয়ে সংস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। আইসিই-এর তথ্য অনুযায়ী, গত মাসের শেষ নাগাদ সংস্থাটি ২০,০০০-এর বেশি গোড়ালি মনিটর ব্যবহার করছিল। একই তথ্য বলছে, এটিডি প্রোগ্রামে থাকা ৯৮.৫% মানুষ তাদের সাক্ষাতে হাজির হন, ফলে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়াতে তারা সহজ টার্গেট হয়ে উঠেছেন। যাদের নির্বাসনের বিকল্প হিসেবে রাখা হয়েছে, বা যারা সাক্ষাতে যাচ্ছেন, বা ইমিগ্রেশন কোর্টে শুনানিতে অংশ নিচ্ছেন—তাদের গণহারে গ্রেপ্তার করে এমন একটি জাল ফেলা হচ্ছে, যার পক্ষে যুক্তিসম্মতভাবে দাবি করা সম্ভব নয় যে এরা সবাই বিপজ্জনক,” বলেন অভিবাসী অধিকারকেন্দ্র আমিকা’র আইনজীবী আতেনাস বুররোলা এস্ত্রাদা। গ্রেগ চেন, আমেরিকান ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ডিরেক্টর, বলেছেন, তিনি শুনছেন আরও বেশি অভিবাসী এখন আদালতে যাওয়া বা সাক্ষাতে হাজিরা দিতে ভয় পাচ্ছেন, কারণ তারা গ্রেপ্তার হতে পারেন। চেন বলেন 'মানুষ এখন ক্রমশ আতঙ্কিত ও নিরুৎসাহিত হচ্ছেন, কারণ আইসিই যেভাবে এসব আইন প্রয়োগ করছে, তা নির্বিচার, ব্যাপক ও ভীতিকর'। এনবিসি নিউজ পূর্বে জানিয়েছে, আইসিই তাদের জনবল বাড়িয়েছে—অন্য ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থা থেকে ৫,০০০-এর বেশি সদস্যকে এনে এই নতুন অভিযানে যুক্ত করেছে। তবে প্রতিটি গ্রেপ্তারই সরাসরি নির্বাসনে গড়ায় না। বিশেষ করে যাদের আশ্রয় আবেদন বা আপিল বিচারাধীন, তাদের ক্ষেত্রে অভিবাসন আদালত রায় না দেওয়া পর্যন্ত তাদের নির্বাসন সম্ভব নয়। জেসন হাউজার বলেন, আইসিই যে মানুষদের নির্বাসনের বিকল্প প্রোগ্রামে রেখেছিল, তাদের গ্রেপ্তার করাটা একটা আমলাতান্ত্রিক নাটক, যিনি বাইডেন প্রশাসনে আইসিই-এর চিফ অব স্টাফ ছিলেন। 'এই ব্যক্তিরা যাচাই-বাছাই করা, নিয়ম মেনে চলা এবং নজরদারির আওতায় আছেন, এবং তাদের অনেকেরই আইনি অবস্থান রয়েছে।' এই প্রতিবেদনটি মূলত এনবিসি নিউজ ডটকম-এ প্রকাশিত। [বাংলা প্রেস বিশ্বব্যাপী মুক্তচিন্তার একটি সংবাদমাধ্যম। স্বাধীনচেতা ব্যক্তিদের জন্য নিরপেক্ষ খবর, বিশ্লেষণ এবং মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজ আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।] বিপি।এসএম  
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি