হান্টাভাইরাস আতঙ্কে প্রমোদতরী, সরানো হলো আরও ৩ জন
জাহাজটি এখন স্পেনের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: কেপ ভার্দের উপকূলে আটকে থাকা একটি প্রমোদতরীতে হানা দিয়েছে প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাস। এতে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে জাহাজটি থেকে ইতোমধ্যে তিন যাত্রীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন গুরুতর অসুস্থ। জাহাজটি এখন স্পেনের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা রয়েছে। খবর বিবিসির।
প্রায় ১৫০ জন যাত্রী নিয়ে চলা এমভি হন্ডিয়াস জাহাজটি আগামী তিন দিনের মধ্যে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের তেনেরিফেতে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাহাজে থাকা অন্যদের মধ্যে এখন পর্যন্ত রোগের কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি।
মাদ্রিদে এক সংবাদ সম্মেলনে স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া জানান, তেনেরিফেতে পৌঁছানোর পর যদি তারা সুস্থ থাকেন, তবে অ-স্প্যানিশ যাত্রীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
তিনি আরও বলেন, ১৪ স্প্যানিশ যাত্রীকে মাদ্রিদের একটি সামরিক হাসপাতালে কোয়ারেনটাইনে রাখা হবে। কোয়ারেনটাইনের মেয়াদ নির্ভর করবে তারা কখন ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছেন তার ওপর।
তিনি উল্লেখ করেন, এই ভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ড ৪৫ দিন।
এ পর্যন্ত হান্টাভাইরাসের প্রভাবে এক ডাচ দম্পতি এবং একজন জার্মান নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, মোট আটজন ব্যক্তি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এদের মধ্যে একজন সুইস নাগরিক ইতোমধ্যে নিজ দেশে ফিরে জুরিখে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ল্যাব পরীক্ষায় তিনজনের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ‘এটি একমাত্র হান্টাভাইরাস স্ট্রেইন যা মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। তবে এমন সংক্রমণ অত্যন্ত বিরল এবং কেবল খুব ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমেই ঘটে। ‘
ডব্লিউএইচও প্রধান টেড্রোস আধানোম গেব্রেয়েসুস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, বুধবার জাহাজ থেকে সরিয়ে নেওয়া তিনজন নেদারল্যান্ডসের পথে রয়েছেন।
ডাচ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরিয়ে নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ডাচ নাগরিক, একজন জার্মান এবং একজন ব্রিটিশ রয়েছেন। তাদের ইউরোপের বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হবে।
জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ওশেনওয়াইড এক্সপেডিশনস জানায়, সরিয়ে নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের তীব্র উপসর্গ ছিল। তৃতীয় ব্যক্তি ২ মে জাহাজে মারা যাওয়া জার্মান যাত্রীর ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে ছিলেন। ডাচ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি সম্ভবত ভাইরাসে আক্রান্ত।
উল্লেখ্য, জাহাজটি মার্চের শেষ দিকে আর্জেন্টিনার দক্ষিণ প্রান্ত থেকে যাত্রা শুরু করে এবং বিশ্বের সবচেয়ে দুর্গম কিছু অঞ্চল ভ্রমণ করে। কেপ ভার্দে ছিল জাহাজটির চূড়ান্ত গন্তব্য। তবে পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলবর্তী এই দ্বীপ রাষ্ট্রটি হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে যাত্রীদের তীরে নামার অনুমতি দেয়নি । সূত্র: যুগান্তর
বিপি>টিডি
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
যুক্তরাষ্ট্রে ৭ বছরের শিশু হত্যার দায়ে সাবেক ফেডএক্স চালকের মৃত্যুদণ্ড
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি