৬ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের অভিবাসন জটের মুখে পড়েছে গ্রিন কার্ডধারীরা

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪২ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের অভিবাসন জটের মুখে পড়েছে গ্রিন কার্ডধারীরা
  নোমান সাবিত: যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মুলতুবি আবেদনপত্রের সংখ্যা রেকর্ড ১ কোটি ১৩ লাখে পৌঁছেছে, যা অভিবাসন ব্যবস্থার ইতিহাসে সর্বোচ্চ। প্রক্রিয়াকরণে ধীরগতির কারণে দীর্ঘ বিলম্ব দেখা দিয়েছে, ফলে লক্ষ লক্ষ আবেদনকারী আইনি ও ব্যক্তিগত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গ্রিন কার্ড প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়ার বিলম্ব, যা আবেদনকারীদের হতাশা আরও বাড়িয়েছে। ফর্ম আই-৯০ অর্থাৎ গ্রিন কার্ড নবায়নের আবেদনের প্রক্রিয়াকরণ সময় বর্তমানে ৮ মাসের বেশি সময় নিচ্ছে। তবে এই দীর্ঘসূত্রিতা সত্ত্বেও, বিশেষজ্ঞদের মতে গ্রিন কার্ডধারীদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আইন সংস্থা মেয়ার ব্রাউন-এর অংশীদার ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মরগান বেইলি বলেন, 'আইনগত এবং বাস্তব দৃষ্টিকোণ থেকে ফর্ম আই-৯০ প্রক্রিয়ার সময় এতটা বেড়ে যাওয়া উদ্বেগজনক কিছু নয়। এর জন্য ইতিমধ্যেই একটি নীতিগত সমাধান বিদ্যমান।' তিনি ব্যাখ্যা করেন, একজন বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা যখন মেয়াদোত্তীর্ণ গ্রিন কার্ড নবায়নের জন্য আই-৯০ ফর্ম জমা দেন, তখন ইউএসসিআইএস সঙ্গে সঙ্গে একটি রিসিপ্ট নোটিশ ইস্যু করে যা মেয়াদোত্তীর্ণ কার্ডের বৈধতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৪৮ মাসের জন্য বৃদ্ধি করে। বেইলি বলেন, 'মেয়াদোত্তীর্ণ গ্রিন কার্ডের সঙ্গে রিসিপ্ট নোটিশ প্রদর্শন করাই আইনের দৃষ্টিতে বৈধ গ্রিন কার্ড প্রদর্শনের সমান। রিসিপ্টে এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে, তাই নিয়োগকর্তা, বিমান সংস্থা বা অন্যদের বিভ্রান্ত হওয়ার কথা নয়।' তিনি আরও যোগ করেন, একটি মেয়াদোত্তীর্ণ গ্রিন কার্ড মানেই মেয়াদোত্তীর্ণ অভিবাসন স্ট্যাটাস নয়। ইউএসসিআইএস দীর্ঘদিন ধরেই স্বীকার করে আসছে, তারা এমন আবেদনগুলোকে অগ্রাধিকার দেয় যেগুলো সরাসরি কারও অভিবাসন মর্যাদায় প্রভাব ফেলে, ফলে গ্রিন কার্ড নবায়নের মতো অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলোতে সংস্থার কম মনোযোগ যায়। তবুও, এই বিশাল ব্যাকলগের মাঝেও গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য মূল বার্তা হলো: তাদের স্থায়ী বসবাসের অধিকার বহাল আছে, এবং দেরিতে পৌঁছানো কাগজপত্র সে অধিকারকে বাতিল করে না। যদি কোনো গ্রিন কার্ডধারী নতুন কার্ড না পাওয়া পর্যন্ত তাদের স্ট্যাটাস প্রমাণ করতে চান যেমন নিয়োগকর্তা, বিমান সংস্থা, বা অভিবাসন কর্মকর্তার কাছে তাহলে রিসিপ্ট নোটিশ ও মেয়াদোত্তীর্ণ কার্ড দেখালেই তা বৈধ প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য। আর যদি কারও এই দুটি কাগজই না থাকে, তবে ইউএসসিআইএস-এর স্থানীয় কার্যালয় থেকে আদিত (আই‑৫৫১) স্ট্যাম্প সংগ্রহ করা যেতে পারে, যা অস্থায়ীভাবে স্থায়ী বাসিন্দার প্রমাণ হিসেবে কাজ করে চাকরি, ভ্রমণ, বা যুক্তরাষ্ট্রে পুনঃপ্রবেশের ক্ষেত্রেও। বেইলি বলেন, এটা অনেকটা একজন মার্কিন নাগরিকের মতো, যার বৈধ পাসপোর্ট না থাকলেও তার নাগরিকত্বে কোনো পরিবর্তন হয় না। ঠিক তেমনি, মেয়াদোত্তীর্ণ গ্রিন কার্ড থাকলেও ব্যক্তি তার স্থায়ী স্ট্যাটাস হারান না। এই ব্যাকলগ যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার গভীর সংকেত দিলেও, বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গ্রিন কার্ডধারীরা যদি সঠিক নিয়ম ও আইনি নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন থাকেন, তাহলে অপ্রয়োজনীয় উদ্বেগ এড়ানো সম্ভব এবং তারা আইনত সুরক্ষিত থাকবেন যতদিন না তাদের নতুন কার্ড এসে পৌঁছায়। বেইলি বলেন, ফর্ম আই-৯০ দাখিল করাটা আদতে কোনো নতুন অভিবাসন সুবিধা দেয় না, এটি কেবলমাত্র কার্ডের মতো শারীরিক প্রমাণ নবায়ন করে। স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে মর্যাদা একমাত্র সরকারিভাবে বাতিল করা হলেই শেষ হয়, কার্ডের মেয়াদ শেষ হলে নয়। এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন সেইসব বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল করছে, যাদের হামাস-সমর্থিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বা প্রচারপত্র বিতরণের মতো কার্যক্রমও। এই পদক্ষেপ এসেছে ট্রাম্পের কড়া অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে, যেখানে তিনি লক্ষ লক্ষ অননুমোদিত অভিবাসীকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছেন। এই অভিযানের আওতায় শুধু অবৈধ অভিবাসীরা নয়, বরং বৈধ ভিসা ও গ্রিন কার্ডধারীরাও আটক হচ্ছেন। একটি অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অভিবাসন অভিযান চলাকালে একাধিক গ্রিন কার্ডধারী ও আবেদনকারী গ্রেপ্তার বা আটক হয়েছেন, যা অভিবাসন আইনের প্রয়োগে প্রশাসনের কঠোর মনোভাবের ইঙ্গিত দেয়। [বাংলা প্রেস বিশ্বব্যাপী মুক্তচিন্তার একটি সংবাদমাধ্যম। স্বাধীনচেতা ব্যক্তিদের জন্য নিরপেক্ষ খবর, বিশ্লেষণ এবং মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজ আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।] বিপি।এসএম
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি