৬ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে ১৩ হাজারের বেশি অনাথ অভিবাসী শিশু শনাক্ত

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪২ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে ১৩ হাজারের বেশি অনাথ অভিবাসী শিশু শনাক্ত

 ইমা এলিস: যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে প্রাপ্তবয়স্ক অভিভাবক ছাড়া আসা ১৩ হাজারেরও বেশি অভিবাসী শিশুকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস (এইচএইচএস) বিভাগের একজন কর্মকর্তা

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৪ সালের নির্বাচন আগে এবং পরে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, বাইডেন প্রশাসনের সময় যারা প্রাপ্তবয়স্ক ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে অনুপ্রবেশ করেছে, সেই কয়েক লক্ষ শিশুকে খুঁজে বের করবে তার প্রশাসন।

ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ইন্সপেক্টর জেনারেলের পূর্ববর্তী তথ্য অনুযায়ী, বাইডেন প্রশাসনের আমলে প্রায় ৩ লাখ হাজার অনাথ শিশু সীমান্ত অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে।

বুধবার সিএনএন জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন এখন বাইডেনের সময় প্রাপ্তবয়স্ক অভিভাবক ছাড়া আসা কিছু শিশুদের দ্রুত দেশ থেকে বহিষ্কার করতে উদ্যোগ নিচ্ছে। ডিএইচএস কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, শনাক্তকৃত শিশুদের জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে তারা স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে চায় কি না।

প্রথাগতভাবে শিশুদের এমনভাবে জিজ্ঞাসা করা হতো না; বরং তাদের সরাসরি হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস (এইচএইচএস)-এর আওতায় নিয়ে যাওয়া হতো। এবার ট্রাম্প প্রশাসন সেই নিয়মে পরিবর্তন আনছে।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মুখপাত্র ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন সিএনএন-কে বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা এবং তাদের বাবা-মা বা নিরাপদ অভিভাবকের সঙ্গে পুনর্মিলন করানো ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এটি বাইডেন প্রশাসনের অধীনে হারিয়ে যাওয়া প্রায় ৩ লাখ শিশুর বিপরীতে একটি স্পষ্ট অবস্থান।

এইচএইচএস সূত্র জানিয়েছে, ১৩ হাজার ৬১ জন অভিবাসী শিশুকে শনাক্ত করার পাশাপাশি, অভিভাবক হিসেবে থাকা ৪২২ জন স্পনসরকে গ্রেফতার করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই), যারা শিশুদের নির্যাতন বা অন্যান্য অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত।

এই নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে 'বহুমুখী তদন্ত' চলছে বলে সূত্র জানিয়েছে। স্থানীয় পুলিশ, শিশু সুরক্ষা বিভাগ এবং ফেডারেল এজেন্সিগুলোর সমন্বয়ে এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সিএনএন জানিয়েছে, যারা স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে রাজি হয়েছে, তাদেরকে আইসিই-কে হস্তান্তর করা হচ্ছে। তবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যদি আইসিই হেফাজতে না নেয়, তাহলে কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) তাদেরকে এইচএইচএস-এর হাতে তুলে দেবে।

ডিএইচএস-এর ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয় এর আগেই উল্লেখ করেছে, ২০১৯ সাল থেকে যেসব অনাথ শিশু যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে, তাদের কার্যকরভাবে ট্র্যাক করতে অক্ষম আইসিই

প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব শিশুর অনেকেই ডিএইচএস থেকে এইচএইচএস-এর রিফিউজি রিসেটেলমেন্ট বিভাগের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৩৩ হাজার শিশুর বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আদালতে হাজিরার জন্য কোনও নোটিশ জারি করা হয়নি।

গত অক্টোবরের তথ্য অনুযায়ী, আদালতের হাজিরার নির্দেশপ্রাপ্ত ৪৩ হাজার শিশু নির্ধারিত তারিখে আদালতে উপস্থিত হয়নি। এছাড়াও, যেসব শিশুকে স্পনসরের কাছে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তাদের ৩১ হাজারের মুক্তির নথিতে সঠিক ঠিকানা নেই, অ্যাপার্টমেন্ট নম্বর বাদ পড়েছে, বা ঠিকানা অপ্রাপ্য ছিল।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আইসিই-কে দায়িত্ব দেওয়া হয় যেসব শিশুদের খুঁজে পাওয়া যায়নি, তাদের শনাক্ত করতে। তখনকার তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ শিশুদের ৬১ শতাংশই ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর, যাদের বেশিরভাগই এসেছে গুয়েতেমালা (৩২%), হন্ডুরাস (২০%), মেক্সিকো (২০%) ও এল সালভাদোর (৮%) থেকে।

ট্রাম্প এ মাসের শুরুতে সাংবাদিকদের জানান, আগের তালিকায় অনুপস্থিত থাকা ১০ হাজার শিশু 'ফিরে পাওয়া গেছে এবং আরও অনেককে শনাক্ত করার পরিকল্পনা চলছে। তিনি বলেন, 'হাজারে হাজারে' শিশুদের ফিরিয়ে আনা হচ্ছে এবং এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ম্যাকলাফলিন বলেন, অনুপ্রবেশকারী শিশুদের স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া ২০২২ সালের পাচারের শিকার ব্যক্তিদের প্রতিরোধ ও সুরক্ষা পুনঃঅনুমোদন আইন অনুযায়ী অনুমোদিত। তিনি জানান, 'ট্রাম্পের বিগ বিউটিফুল বিল'-এর অর্থায়নে এখন মেক্সিকো ও কানাডা ছাড়াও অন্য দেশগুলোতে এসব শিশুদের ফেরত পাঠানো যাচ্ছে।

[বাংলা প্রেস বিশ্বব্যাপী মুক্তচিন্তার একটি সংবাদমাধ্যম। স্বাধীনচেতা ব্যক্তিদের জন্য নিরপেক্ষ খবর, বিশ্লেষণ এবং মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজ আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।] বিপি। সিএস
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি