ভুলভাল বলছেন বাইডেন!
বাংলা প্রেস
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৯ পিএম
নিজস্ব প্রতিবেদক: বয়সের ভারে স্মৃতিভ্রম বেড়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের।কোন কিছুই যেন মনে রাখতে পারছেন না তিনি। তাঁর নব গঠিত সরকারের সচিব-আমলাদের নাম বলতে গিয়ে ভুলভাল বলছেন তিনি।শুধু তাই নয় অন্যান্য রাজনীতিকের নামও মনে রাখতে পারছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সম্প্রতি হোয়াইট হাউজের একাধিক অনুষ্ঠানে মন্ত্রীদের নাম বলতে গিয়ে ভুল করেছেন তিনি।
বুধবার ফক্স নিউজ দাবি করেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের স্মৃতিভ্রম বাড়ছে। ইদানীং সবকিছু ভুলে যাচ্ছেন তিনি। সেইসঙ্গে প্রশ্ন তুলে বলেছে, তাহলে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব কি ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস পালন করছেন?
এমন প্রশ্নের কারণ হিসাবে মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, বিশ্বনেতাদের সঙ্গে কথা বলা ও পররাষ্ট্রনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের বেশিরভাগ এখন কমলা হ্যারিসই সামলাচ্ছেন। প্রথানুসারে যা করার কথা প্রেসিডেন্টের।
দায়িত্ব নেওয়ার পর গত কয়েক সপ্তাহে একাধিক রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গেই কথা বলেছেন কমলা। সর্বশেষ মঙ্গলবার নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী এরনা সলবেগের সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয় তার। ফলে প্রশ্ন উঠেছে ‘প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে আসলে কে’- বাইডেন নাকি কমলা।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট হিসাবে ইতিহাস গড়েছেন বাইডেন। ৭৮ বছর বয়সে চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব নেন তিনি। কিছুদিন ধরে তার মানসিক স্বাস্থ্য, বিশেষ করে স্মৃতিভ্রম নিয়ে বেশ আলোচনা-বিতর্ক হচ্ছে।
ফক্স নিউজ জানায়, কারও নাম-পদবিই ভালো করে বলতে পারছেন না বাইডেন। এমনকি নিজের মন্ত্রিসভার সদস্য ও ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের নামও।
দায়িত্ব নেওয়ার আগে গত ডিসেম্বরেও স্বাস্থ্য ও গণপূর্ণবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সেভিয়ার বিসেরার নাম ঘোষণার সময় একই ধরনের ভুল হয় তার। শুধু এদিনই নয়, এমন ভুল প্রায়ই করছেন তিনি।
সর্বশেষ গত সোমবার হোয়াইট হাউজে এমনই এক কাণ্ড করেছেন তিনি। এদিন এক অনুষ্ঠানে কোনো এক প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পেন্টাগন প্রধান লয়েড অস্টিনের নাম বলতে গিয়ে স্মরণ করতে পারেননি। পরে আমতা আমতা করে অস্টিনকে বোঝানোর চেষ্টা করেন।
এ ঘটনার পর তার স্মৃতিশক্তি নিয়ে কানাঘুষা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই বলছেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেন স্মৃতিভ্রমে ভুগছেন। এ অবস্থায় প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনে তার মানসিক যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এর মধ্যে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারের পররাষ্ট্রনীতির বেশিরভাগই সামলাচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা। এ ছাড়া দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন ইস্যুতে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তিনিই কথা বলছেন। বুধবার পৃথক এক প্রতিবেদনে ফক্স নিউজ জানিয়েছে, সর্বশেষ নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী এরনা এরনা সলবেগের সঙ্গে কথা বলেছেন কমলা।
এক ফোনালাপে ‘যুক্তরাষ্ট্র ও নরওয়ের মধ্যকার শক্তিশালী সম্পর্ক আরও গভীর করার’ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন তিনি। এর আগে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাঁক্রো, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে একাকী কথা বলেন।
ফক্স নিউজ বলেছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়ে কমলা যে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও গভীরভাবে কাজ করছেন, দু-মাসেরও কম সময়ের মধ্যে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তার একাকী যোগাযোগ সে কথারই প্রমাণ দিচ্ছে। যদিও এক্ষেত্রে তার অভিজ্ঞতা একেবারেই ঘরোয়া পর্যায়ের।’
প্রতিবেদনমতে, বিশ্বনেতারা ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলাকে বাইডেনের উত্তরসূরি হিসাবে দেখতে পারেন। একইসঙ্গে আগ্রহী হতে পারেন তার সঙ্গে সেভাবে সম্পর্ক গড়ার ব্যাপারে।
বিপি।এসএম
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তর্জাতিক
গুলির শব্দে হোয়াইট হাউস অবরুদ্ধ, সরিয়ে নেওয়া হলো সংবাদকর্মীদের
১ দিন আগে
by বাংলা প্রেস
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি