৭ মে ২০২৬

ভুলভাবে নির্বাসিত আব্রেগো গার্সিয়াকে ফিরিয়ে আনছে যুক্তরাষ্ট্র

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪২ পিএম
ভুলভাবে নির্বাসিত আব্রেগো গার্সিয়াকে ফিরিয়ে আনছে যুক্তরাষ্ট্র
  নোমান সাবিত: টেনেসির ২০২২ সালের একটি ট্রাফিক থামানোর ঘটনায় দায়ের করা ফৌজদারি মামলায় বিচার মুখোমুখি করতে কিলমার আব্রেগো গার্সিয়াকে এল সালভাদরের কারাগার থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনছে ট্রাম্প প্রশাসন। আব্রেগো গার্সিয়া একজন এমন ব্যক্তি যিনি আদালতের আদেশে নিজ দেশে নির্বাসনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন, কিন্তু ভুলভাবে তাকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। তার প্রত্যাবর্তনের আদেশ নিয়ে দীর্ঘদিন আদালতের সাথে আইনি লড়াই করেছিল প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, গার্সিয়া যুক্তরাষ্ট্রে কখনোই "শান্তিপূর্ণ জীবন" কাটাতে পারবেন না। নতুনভাবে প্রকাশিত অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আব্রেগো গার্সিয়া অবৈধভাবে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের পরিবহন এবং একটি ষড়যন্ত্রমূলক অপরাধে অভিযুক্ত। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি টেক্সাস থেকে দেশের বিভিন্ন অংশে অভিবাসীদের অর্থের বিনিময়ে পরিবহন করতেন এবং এভাবে শতাধিক যাত্রা সম্পন্ন করেছেন। ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে টেনেসি হাইওয়ে প্যাট্রোল গার্সিয়াকে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর অপরাধে থামায়। সে সময় তিনি মিসৌরির সেন্ট লুইস থেকে মেরিল্যান্ডের নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তার ভ্যানে থাকা যাত্রীদের লাগেজ না থাকায় পুলিশ কর্মকর্তার সন্দেহ হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি পুলিশকে মিথ্যা বলেন যে যাত্রীরা নির্মাণ শ্রমিক, কিন্তু বাস্তবে তারা ছিলেন অনথিভুক্ত অভিবাসী। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এই ঘটনায় গার্সিয়ার বিরুদ্ধে দুটি অপরাধে অভিযোগ আনা হয়েছে। গার্সিয়ার আইনজীবী সায়মন স্যান্ডোভাল-মোশেনবার্গ "দ্য হিল"কে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, “সরকার আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করে গার্সিয়াকে একটি বিদেশি কারাগারে গায়েব করে দেয়। এখন মাসের পর মাস গোপন রাখার পর তারা তাকে ফিরিয়ে আনছে, কিন্তু তাদের ভুল সংশোধন করার জন্য নয়, বরং তাকে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য তিনি বলেন, “এটি আদালতের সাথে প্রতারণা। যথাযথ প্রক্রিয়া মানে হলো শাস্তি দেওয়ার আগে নিজেকে রক্ষার সুযোগ দেওয়া। এটি ন্যায়বিচার নয়, এটি ক্ষমতার অপব্যবহার।” তিনি আরও বলেন, “সরকার যদি তার বিচার করতে চায়, তা হোক ২০১৯ সালে যার আদালতে শুনানি হয়েছিল, সেই একই ইমিগ্রেশন বিচারকের সামনে। যাতে এটি সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, যেমনটি সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল।” আইনমন্ত্রী পাম বোন্ডি মামলাটিকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, “আমাদের সরকার এল সালভাদরকে একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেয় এবং তারা তাকে ফেরত পাঠাতে সম্মত হয়। গত নয় বছরে সে একটি মানব পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য ছিল এবং এটি ছিল তার পূর্ণকালীন কাজ।” তিনি আরও জানান, গার্সিয়া যদি দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে সাজা ভোগের পর তাকে এল সালভাদরে ফেরত পাঠানো হবে। যদিও ২০১৯ সালের এক ইমিগ্রেশন বিচারক তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো নিষিদ্ধ করেছিলেন। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস, বিচার বিভাগ বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ট্রাম্প প্রশাসনকে একাধিক আদালত গার্সিয়াকে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছিল, যার সর্বশেষ ছিল এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্টের রায়। সেখানে হোয়াইট হাউসকে বলা হয় তাকে ফিরিয়ে আনতে “সহযোগিতা” করতে হবে। কিন্তু হোয়াইট হাউস যুক্তি দেয়, তারা শুধু বিমানের ব্যবস্থা করতে বাধ্য, যদি এল সালভাদর সরকার তাকে ফেরত পাঠাতে চায়। প্রেসিডেন্ট নাইব বুকেলে ট্রাম্পের সাথে হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে বলেন, তিনি তা করবেন না। তবে সাম্প্রতিক আরেক ঘটনায়, ট্রাম্প প্রশাসন একটি গৌতমালান নাগরিককে, যাকে ভুলবশত মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানো হয়েছিল, একটি ফেরত বিমানে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনে। এটি ছিল আদালতের আদেশ মানার প্রথম প্রমাণিত ঘটনা। এদিকে সোমবার, বিচার বিভাগ বিচারপতি পলা জিনিসকে জানায় যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গার্সিয়াকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই মামলাটি রাজনৈতিক আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে। বোন্ডি বলেন, “গার্সিয়াকে ঘিরে আলোচনার কারণে তদন্ত জোরদার করা সম্ভব হয়েছে এবং এর ফলে একটি আন্তর্জাতিক পাচার চক্র ভেঙে ফেলা হয়েছে।” শুক্রবারের আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, গার্সিয়া সম্ভবত এমএস-১৩ গ্যাংয়ের সদস্য এবং প্রায় সময় গ্যাং সদস্যদের সাথে ভ্রমণ করতেন। তবে তার পরিবার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। আদালতের রেকর্ড পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এ অভিযোগ মূলত এক গোপন সূত্রের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, গার্সিয়া প্রায় সময় আত্মীয়দের সাথে নিয়ে ভ্রমণ করতেন। তবে যখন তিনি একা ভ্রমণ করতেন, তখন এক অজ্ঞাত সহযোগী অভিযোগ পেতেন যে তিনি নারী অভিবাসীদের ওপর নির্যাতন চালাতেন। এই মামলার বিচারপতি পলা জিনিস এখনো মামলাটি তদারকি করছেন, এবং তার আদেশ লঙ্ঘন করায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে অবমাননার প্রক্রিয়া বিবেচনা করছেন। এ সপ্তাহেই তিনি গার্সিয়ার আইনজীবীদের প্রশাসনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করার অনুমতি দিয়েছেন। মামলার ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে উপ অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ সাংবাদিকদের বলেন, “অভিযোগ গঠনের আগে ও পরে পরিস্থিতির মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। এখন যেহেতু গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে, তাই এটাই তাকে ফিরিয়ে আনার কারণ। ফলে আমার ধারণা, মেরিল্যান্ডের চলমান মামলাটি এখন আর কার্যকর থাকবে না।” সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন (ডেমোক্র্যাট-মেরিল্যান্ড) যিনি গার্সিয়াকে এল সালভাদরে গিয়ে দেখেছিলেন, বলেন, “ট্রাম্প প্রশাসনের উচিত ছিল আদালতের আদেশ মেনে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আদালতেই বিচার করা।” তিনি আরও বলেন, “আমি আগেই বলেছি, এটি কোনো ব্যক্তির বিষয় নয়—এটি একটি সাংবিধানিক অধিকার। এখন প্রশাসনকে আদালতে তাদের অবস্থান প্রমাণ করতে হবে, যেটা শুরুতেই করা উচিত ছিল।” এই প্রতিবেদনটি মূলত দ্যহিল ডটকম-এ প্রকাশিত। [বাংলা প্রেস বিশ্বব্যাপী মুক্তচিন্তার একটি সংবাদমাধ্যম। স্বাধীনচেতা ব্যক্তিদের জন্য নিরপেক্ষ খবর, বিশ্লেষণ এবং মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজ আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।] বিপি।এসএম  
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি