৬ মে ২০২৬

তুরস্কে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ১ কোটি মানুষকে সতর্ক করতে ব্যর্থ হয়েছিল গুগল

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪২ পিএম
তুরস্কে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ১ কোটি মানুষকে সতর্ক করতে ব্যর্থ হয়েছিল গুগল
বাংলাপ্রেস ডেস্ক:  ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তুরস্কে ঘটে যাওয়া প্রাণঘাতী ভূমিকম্পে গুগলের ভূমিকম্প সতর্কতা ব্যবস্থা (অ্যানড্রয়েড আর্থকোয়েক এলার্টস) কার্যকরভাবে মানুষকে সতর্ক করতে পারেনি বলে স্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ সালে দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্কে দুই দফা বড় ভূমিকম্পে ৫৫ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারায় এবং আহত হয় এক লাখেরও বেশি। অনেকেই ঘুমন্ত অবস্থায় ভবনের নিচে চাপা পড়ে মারা যান। ৭.৮ মাত্রার প্রথম ভূমিকম্পের সময় কেন্দ্রস্থল থেকে ৯৮ মাইলের মধ্যে থাকা ১ কোটিরও বেশি মানুষকে গুগলের সর্বোচ্চ স্তরের ‘টেক অ্যাকশন’ সতর্কতা পাঠানো উচিত ছিল, যা প্রায় ৩৫ সেকেন্ড সময় দিতে পারত নিরাপদ আশ্রয় নেওয়ার জন্য।কিন্তু বাস্তবে মাত্র ৪৬৯ জনকে এই জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। এ ছাড়া আরো প্রায় পাঁচ লাখ মানুষকে কম গুরুত্বের ‘বি অ্যাওয়ার’ সতর্কতা পাঠানো হয়, যা শুধু হালকা কম্পনের জন্য ব্যবহার করা হয়।প্রথমে গুগল দাবি করেছিল, তাদের সতর্কতাব্যবস্থা ‘ভালোভাবে কাজ করেছে’। তবে পরে বিবিসিকে জানানো হয়, সিস্টেমটি ভূমিকম্পের মাত্রা ভুলভাবে অনুমান করেছিল। কীভাবে কাজ করে এই সিস্টেম এই সতর্কতাব্যবস্থা শুধু অ্যানড্রয়েড ফোনে কাজ করে। তুরস্কে ৭০ শতাংশের বেশি মোবাইল ফোন অ্যানড্রয়েডচালিত। ভূমিকম্পের সময় অ্যানড্রয়েড ফোনের সেন্সর কম্পন শনাক্ত করে এবং দ্রুত সতর্কবার্তা পাঠায়।‘টেক অ্যাকশন’ সতর্কতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ – এটি একটি উচ্চ শব্দে অ্যালার্ম চালু করে, ফোনের স্ক্রিন কাভার করে এবং ডিস্টার্ব মোডকে অগ্রাহ্য করেতবে ২০২৩ সালের প্রথম ভূমিকম্পটি ঘটেছিল ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে – যখন অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে ছিল। এই সময়ে শুধু ‘টেক অ্যাকশন’ সতর্কতা কার্যকর হতে পারত। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা প্রায় কেউই পায়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি। সিস্টেম ব্যর্থতার কারণ গুগলের গবেষকরা সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, ‘শনাক্তকরণ অ্যালগরিদমের সীমাবদ্ধতার কারণেই প্রথম ভূমিকম্পকে মাত্র ৪.৫-৪.৯ মাত্রা হিসেবে ভুলভাবে নির্ধারণ করেছিল সিস্টেমটি, যদিও আসল মাত্রা ছিল ৭.৮।দ্বিতীয় ভূমিকম্পের সময়ও একই সমস্যা দেখা দেয় – যদিও এবার ৮ হাজার ১৫৮ জনকে ‘টেক অ্যাকশন’ সতর্কতা পাঠানো হয় এবং প্রায় ৪০ লাখকে পাঠানো হয় ‘বি অ্যাওয়ার’ বার্তা।ভবিষ্যতে এমন ভুল এড়াতে গুগল অ্যালগরিদমে পরিবর্তন এনেছে।সিমুলেশনে দেখা যায়, যদি নতুন অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হতো, তবে ১ কোটি মানুষকে টেক অ্যাকশন বার্তা এবং আরো ৬.৭ কোটি মানুষকে বি অ্যাওয়ার বার্তা পাঠানো যেত। গুগল জানিয়েছে, ‘প্রত্যেকটি ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা থেকেই আমরা আমাদের সিস্টেম আরো উন্নত করছি।’ তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এত বড় ঘটনার পরও সঠিক তথ্য প্রকাশে গুগলের এত দেরি করা হতাশাজনক। কলোরাডো স্কুল অব মাইনসের সহকারী অধ্যাপক এলিজাবেথ রেডি বলেন, ‘মানুষ মারা গেছে। এমন সময়ে আমরা চাই, এ ধরনের সতর্কব্যবস্থা সত্যিকার অর্থেই কাজ করুক। অথচ তা হয়নি।’বিশেষজ্ঞ হ্যারল্ড টোবিন বলেন, ‘এটা গুরুত্বপূর্ণ যে গুগল কতটা কার্যকরভাবে কাজ করছে, সেই বিষয়ে তারা সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা দেখাক। নইলে অনেক দেশ ভুলভাবে ধরে নেবে যে গুগল করছে, তাই তাদের কিছু করার দরকার নেই।’ গুগল বলেছে, ‘তাদের সিস্টেম মূলত একটি সহায়ক ব্যবস্থা এবং এটি জাতীয় সতর্কতাব্যবস্থার বিকল্প নয়।’ বিবিসি গুগলের কাছে জানতে চেয়েছে, ২০২৫ সালের মিয়ানমার ভূমিকম্পে অ্যানড্রয়েড আর্থকোয়েক এলার্টস সিস্টেম কেমন কাজ করেছে? এর উত্তর পাওয়া যায়নি।
[বাংলা প্রেস বিশ্বব্যাপী মুক্তচিন্তার একটি সংবাদমাধ্যম। স্বাধীনচেতা ব্যক্তিদের জন্য নিরপেক্ষ খবর, বিশ্লেষণ এবং মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজ আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]
বিপি>টিডি
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি