নিউ ইয়র্ক সিটির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের মামলা
কৌশলী ইমা: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নিউ ইয়র্ক সিটির স্যাংচুয়ারি বা অভয়ারণ্য অভিবাসন নীতিমালা আইনগুলোকে অসাংবিধানিক দাবি করে আদালতে নিয়ে গেছে, কারণ গত সপ্তাহে এক মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) এজেন্টকে গুলি করে আহত করার ঘটনায় অভিযুক্তরা ছিলেন অপরাধপ্রবণ অবৈধ অভিবাসী।
এই মামলার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্দেশ্য হলো নিউ ইয়র্ক সিটির অভয়ারণ্য অভিবাসন আইনের বৈধতা বাতিল করা। এই পদক্ষেপ মেয়র এরিক অ্যাডামসকে একটি বিব্রতকর অবস্থানে ফেলেছে, কারণ তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন এবং অভিবাসন দমন নীতিতে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছুক বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তবে এর আগেও সিটি হল ও হোয়াইট হাউসের মধ্যে আইনি লড়াই হয়েছে। মেয়র অ্যাডামসের প্রশাসন ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে এবং আরও পাঁচটিতে পক্ষভুক্ত।
এই মামলা ২৪ জুলাই নিউ ইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, স্যাংচুয়ারি আইনগুলো 'ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষমতা ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে তৈরি' এবং তাই এগুলো মার্কিন সংবিধানের ‘সাপ্রেমেসি ক্লজ’ লঙ্ঘন করে। কারণ অভিবাসন আইন প্রয়োগে ফেডারেল সরকারের পূর্ণ অধিকার আছে।
মামলার আসামীদের তালিকায় রয়েছে নিউ ইয়র্ক সিটি নিজে, মেয়র এরিক অ্যাডামস, সিটি কাউন্সিল স্পিকার অ্যাড্রিয়েন অ্যাডামস, সংশোধন বিভাগের কমিশনার লিনেল ম্যাগিনলি-লিডি এবং পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ।
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি এক্স (পূর্বে টুইটার)-এ একটি পোস্টে লেখেন, 'ন্যায়বিচার বিভাগ নিউ ইয়র্ক সিটি ও মেয়র এরিক অ্যাডামসের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, কারণ তারা স্যাংচুয়ারি সিটি নীতির মাধ্যমে আইন প্রয়োগে বাধা দিচ্ছে। নিউ ইয়র্কের নেতারা যদি নিজেদের নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে না পারেন, তাহলে আমরাই সেই দায়িত্ব নেব।
এই মামলা এমন এক সময়ে দায়ের করা হয়েছে, যখন মাত্র এক সপ্তাহ আগে দুই অবৈধ অভিবাসী অভিযোগ অনুযায়ী এক সিবিপি অফিসারকে তার মুখ ও পায়ে গুলি করে আহত করে, একটি ডাকাতির চেষ্টার সময়। মামলায় বলা হয়েছে, অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে আগে একাধিকবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, এবং তাদের একজনকে আইসিই-এর ট্রান্সফার অনুরোধ সত্ত্বেও সিটির স্যাংচুয়ারি আইনের কারণে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মামলায় বলা হয়েছে, নিউ ইয়র্ক সিটির স্যাংচুয়ারি নীতিমালা না থাকলে এই মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো যেত।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, এই আইনগুলো স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও ফেডারেল ইমিগ্রেশন এজেন্টদের মধ্যে সহযোগিতা সীমিত করে দেয়, যার ফলে অগণিত অপরাধী মুক্তি পেয়েছে, যাদের অভিবাসন আইনের আওতায় আটক রাখা উচিত ছিল।
সিটি আইনের অধীনে, কেবল তখনই আইসিই -এর ডিটেইনার অনুরোধ মানা হয়, যদি তারা একটি স্বাক্ষরিত বিচারিক পরোয়ানা পেশ করে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রায় ১৭০টি সহিংস অপরাধের কোনো একটিতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে থাকে।
এছাড়া এই আইন আইসিই-কে সিটি কারাগার বা শহরের অন্যান্য স্থাপনায় বিচারিক পরোয়ানা ছাড়া প্রবেশ করতে বাধা দেয়।
মেয়রের মুখপাত্র কায়লা মামেলাক আল্টাস বলেন, মেয়র বারবার বলেছেন, তিনি স্যাংচুয়ারি আইনের মূল ভাবনার সঙ্গে একমত, তবে মনে করেন এই আইনগুলো সহিংস অপরাধীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ছাড় দেয়।
তিনি আরও বলেন, মেয়র কাউন্সিলকে এই আইনগুলো পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ করেছেন, যাতে আমরা ফেডারেল সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কাউন্সিল তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
তিনি জানান, আমরা মামলাটি পর্যালোচনা করব।
সিটি কাউন্সিলের মুখপাত্র রেন্ডি ডেসামোরস এক বিবৃতিতে জানান, তারাও মামলাটি পর্যালোচনা করছেন। তিনি দাবি করেন, স্যাংচুয়ারি আইন থাকা শহরগুলো নিরাপত্তার দিক থেকে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকে।
ডেসামোরস বলেন, যখন বাসিন্দারা অপরাধ রিপোর্ট করতে ও স্থানীয় আইন প্রয়োগকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তখন সবাই আরও নিরাপদ থাকে। নিউ ইয়র্ক সিটির রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাট উভয় মেয়রই তা স্বীকার করেছেন। বিপরীতে, ট্রাম্প প্রশাসন নাগরিক আদালতের শুনানিতে নির্বিচারে লোকদের টার্গেট করছে, হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের আটক করছে এবং পরিবারগুলোকে আলাদা করছে—যা আমাদের শহর ও দেশকে আরও অনিরাপদ করে তুলছে।
নিউ ইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের প্রেসিডেন্ট ও সিইও মুরাদ আওয়াদে এই মামলাকে সবচেয়ে ভালোভাবে বললেও তুচ্ছ এবং সবচেয়ে খারাপভাবে বললে নিউ ইয়র্কের স্বশাসনের ওপর হামলা” বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি বলেন, নিউ ইয়র্ককে অবশ্যই ট্রাম্পের এই সাংবিধানিক অধিকারের ওপর আক্রমণ প্রত্যাখ্যান করতে হবে, কারণ আমাদের স্থানীয় আইন আমাদের সম্প্রদায়ের জন্য কার্যকরভাবে কাজ করে।
তিনি আহ্বান জানান, মেয়র অ্যাডামস যেন এই ফেডারেল হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান এবং নিউ ইয়র্কবাসীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা করেন।
[বাংলা প্রেস বিশ্বব্যাপী মুক্তচিন্তার একটি সংবাদমাধ্যম। স্বাধীনচেতা ব্যক্তিদের জন্য নিরপেক্ষ খবর, বিশ্লেষণ এবং মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজ আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।] বিপি। সিএসআপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
গুলির শব্দে হোয়াইট হাউস অবরুদ্ধ, সরিয়ে নেওয়া হলো সংবাদকর্মীদের
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি