৬ মে ২০২৬

করোনার ভারতীয় ধরনের নতুন নাম ডেল্টা: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৯ পিএম
করোনার ভারতীয় ধরনের নতুন নাম ডেল্টা: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: প্রাণঘাতী রোগ করোনার জন্য দায়ী ভাইরাস সার্স-কোভ-২ বা করোনাভাইরাসের ভারতীয় যে ধরনটি (ভ্যারিয়েন্ট) শনাক্ত হয়েছে, সেই বি.১.৬১৭ কে এখন থেকে সাধারণভাবে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট নামে উল্লেখ করা হবে। সোমবার করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের নতুন এই নাম ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভায় ডব্লিউএইচও কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এই নতুন নামকরণের বিষয়টি জানিয়েছেন সংস্থাটির বিশেষজ্ঞ ও কোভিড ১৯ টেকনিক্যাল টিমের প্রধান ডা. মারিয়া ভ্যান কারখোভ।

গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষসহ বিভিন্ন পশুপাখির মধ্যে সংক্রমিত হওয়ার ফলে ক্রমাগত অভিযোজন বা মিউটেশনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে সার্স-কোভ-২ বা করোনাভাইরাস। পরিবেশ পরিস্থিতি ও আক্রান্তের শারিরীক অবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার প্রক্রিয়ায় মূল ভাইরাসটির পাশাপাশি এর কয়েকটি পরিবর্তিত/ অভিযোজিত ধরনেরও আগমন ঘটেছে পৃথিবীতে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ পর্যন্ত মূল করোনাভাইরাসের ৪ টি প্রধান ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে এবং এই ধরন বা ভ্যারিয়েন্টগুলোর প্রত্যেকটির বৈজ্ঞানিক নামের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে যে দেশে প্রথম কোনো একটি ধরন পাওয়া গিয়েছিল সেই দেশের নামে সেই ভ্যারিয়েন্টের নামকরণ করা হয়। যেমন—করোনাভাইরাসের যে ধরনের নাম বি.১.১.৭, সাধারণ মানুষজন সেই ধরনটিকে চেনেন ব্রিটিশ ভ্যারিয়েন্ট বা ইউকে ভ্যারিয়েন্ট নামে। তেমনি এতদিন ভারতীয় ধরন বা ভ্যারিয়েন্ট হিসেবে এতদিন আমরা ভাইরাসের যে ধরনটিকে চিনতাম, সেটির বৈজ্ঞানিক নাম বি.১.৬১৭। সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের আরো যে দু’টি প্রধান ধরন ইতোমধ্যে শনাক্ত হয়েছে সেগুলো হলো ব্রাজিলীয় ভ্যারিয়েন্ট ও দক্ষিণ আফ্রিকা ভ্যারিয়েন্ট। গত বছর অক্টোবরে প্রথম শনাক্ত হয় বি.১.৬১৭। এর পর থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বের ৫৩ টি দেশ ও অঞ্চলে এটির উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। আন্তর্জাতিক জীবাণু বিশেষজ্ঞদের মত, মূল করোনাভাইরাস তো বটেই, এমনকি এই ভাইরাসের ব্রিটিশ ধরনের চেয়েও বেশি সংক্রামক ও প্রাণঘাতী বি.১.৬১৭। ভারতে এই ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি প্রথম শনাক্ত হওয়ায় সাধারণভাবে এটি এতদিন পরিচিত হয়ে আসছিল করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরন হিসেবে; কিন্তু সম্প্রতি ভারতের সরকার এই নামকরণে আপত্তি জানিয়েছে। দেশটির সরকারের অভিযোগ- এই নামকরণের মাধ্যমে দেশ হিসেবে ভারতের মর্যাদা খাটো হচ্ছে। এই প্রেক্ষিতেই এই ধরনটির সাধারণ নামে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডব্লিউএইচও কর্মকর্তারা। সোমবারের ঘোষণায় ডব্লিউএইচও বিশেষজ্ঞ ও সংস্থাটির কোভিড-১৯ টেকনিক্যাল টিমের প্রধান ডা. মারিয়া ভ্যান কারখোভ বলেন, ‘এই ভ্যারিয়েন্টটির বৈজ্ঞানিক নামে কোনো পরিবর্তন আসছে না। কারণ, সেক্ষেত্রে গবেষণায় জটিলতা সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি আর একটি ব্যাপার যেটি উল্লেখ করা প্রয়োজন, ডব্লিউএইচও মনে করে, কোনো দেশে করোনাভাইরাসের নতুন কোনো ধরনের সন্ধান পাওয়া গেলে ওই দেশকে কখনওই এ জন্য নেতিবাচকভাবে দেখা বা বিবেচনা করা ঠিক নয়।’

বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি