৫ মে ২০২৬

হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্য দেশের গণতন্ত্র ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৫১ এএম
হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্য দেশের গণতন্ত্র ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়


বাংলাপ্রেস ডেস্ক: মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের নয়াদিল্লিতে প্রকাশ্যে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়ার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছে সরকার। রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গত ২৩ জানুয়ারি নয়াদিল্লির ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সরকার উৎখাতের আহ্বান জানান এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ভণ্ডুল করার লক্ষ্যে সহিংসতায় উসকানিমূলক বক্তব্য দেন বলে বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে ঢাকা।


বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে দলীয় অনুসারী ও সাধারণ জনগণকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে প্রকাশ্যভাবে উসকানি দিয়েছেন। এতে বাংলাদেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক উত্তরণ মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে বলে সরকার মনে করে।

এতে আরও বলা হয়, দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের জন্য ভারতকে বারবার অনুরোধ জানানো হলেও এখনো এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। বরং, ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে তাকে এ ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিকে গভীরভাবে আঘাত করেছে।


বাংলাদেশ সরকার মনে করে, ভারতের রাজধানীতে এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজনের অনুমতি দেয়া এবং একজন দণ্ডিত ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে ঘৃণামূলক বক্তব্য দেয়ার সুযোগ করে দেয়া রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্পর্কের প্রচলিত নীতিমালা- যেমন সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপ না করা এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের পরিপন্থি। এটি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি একটি স্পষ্ট অবমাননা বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। একইসঙ্গে এতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারগুলোর পক্ষে পারস্পরিক কল্যাণমূলক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তোলা ও এগিয়ে নেয়ার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের সাম্প্রতিক উসকানিমূলক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকার জানায়, এসব কর্মকাণ্ডই প্রমাণ করে কেন অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। নির্বাচনের আগে ও নির্বাচন দিবসে সংঘটিত যেকোনো সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায় সংশ্লিষ্ট সংগঠনের ওপর বর্তাবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।


এছাড়াও বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের সহিংসতা ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতেপ্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং দেশের শান্তি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষায় সরকার কঠোর অবস্থান নেবে।

 


বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি