হার্ভার্ডের তথ্য জালিয়াতির অভিযোগে অধ্যাপক ফ্রানচেসকা গিনোর মেয়াদ বাতিল
বাংলা প্রেস
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪২ পিএম
নোমান সাবিত: হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক ফ্রানচেসকা গিনোর বিরুদ্ধে চার বছর ধরে চলা তথ্য জালিয়াতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে শেষ পর্যন্ত তার মেয়াদ বাতিল করেছে হার্ভার্ড এবং তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত সপ্তাহে একজন মুখপাত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে গিনোর টিকে থাকার দুই বছরের লড়াইয়ের ইতি ঘটল এবং হার্ভার্ডের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত তৈরি হলো। অন্তত ১৯৪০-এর দশকে মেয়াদ সংক্রান্ত নিয়ম চালু হওয়ার পর থেকে কোনো অধ্যাপকের মেয়াদ বাতিলের ঘটনা সামনে আসেনি।
গিনো একজন বিহেভিয়ারাল সায়েন্টিস্ট, যিনি সততা ও নৈতিক আচরণ নিয়ে গবেষণা করে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, তিনি গবেষণার পর্যবেক্ষণ ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করেছেন যাতে নিজের উপসংহারকে আরও জোরালোভাবে প্রমাণ করা যায়। তার কাজ নিয়ে সন্দেহের আগেই তিনি ছিলেন এই ক্ষেত্রে একজন গুরুত্বপূর্ণ গবেষক এবং ২০১৮ ও ২০১৯ সালে হার্ভার্ডের পঞ্চম সর্বোচ্চ বেতনভোগী কর্মী, যিনি প্রতি বছর এক মিলিয়নেরও বেশি ডলার পারিশ্রমিক পেতেন।
হার্ভার্ড করপোরেশন চলতি মাসের শুরুতে গিনোর মেয়াদ বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। গিনোর মুখপাত্র এবং আইনজীবীরা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
২০২১ সালের আগস্টে, ডেটা কোলাডা নামে একটি তদন্তমূলক ব্লগ প্রথম তার এক গবেষণা প্রবন্ধে জালিয়াতির অভিযোগ তোলে। এই প্রবন্ধটি পরবর্তীতে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরেই প্রত্যাহার করা হয়।
২০২২ সালে, হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল (এইচবিএস) ১৮ মাসব্যাপী তদন্ত শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তে আসে যে গিনো একাডেমিক অসদাচরণ করেছেন। এরপর এইচবিএস ডিন শ্রীকান্ত এম. দাতার গিনোকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠান (বেতন ছাড়া), তাকে ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেন এবং তার নামাঙ্কিত অধ্যাপক পদও বাতিল করেন ২০২৩ সালের জুনে। একই মাসে ডেটা কোলাডা আরও তিনটি গবেষণা প্রবন্ধে তার বিরুদ্ধে তথ্য জালিয়াতির অভিযোগ আনে।
২০২৩ সালের জুলাইতে, দাতারের অনুরোধে বিশ্ববিদ্যালয় গিনোর মেয়াদের পুনর্বিবেচনার প্রক্রিয়া শুরু করে। এক মাস পর, গিনো ২৫ মিলিয়ন ডলারের মামলা করেন, যাতে তিনি অভিযোগ করেন যে বিশ্ববিদ্যালয়, ডিন দাতার এবং ডেটা কোলাডা ব্লগাররা—উরি সিমনসন, লেইফ ডি. নেলসন এবং জোসেফ পি. সিমন্স— তার মানহানি ঘটানোর জন্য ষড়যন্ত্র করেছেন।
মামলায় চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল এইচবিএস-এর ২০২১ সালের আগস্টে গৃহীত নতুন এক নীতিমালাকে, যা গিনোর বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ ওঠার পর চালু করা হয়। এই নীতিটি—যা এইচবিএস-এর সাধারণ প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে শিক্ষক সমাজের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই গৃহীত হয়—গবেষণাগত অসদাচরণের সংজ্ঞা বিস্তৃত করে এবং জানিয়ে দেয়, এই নীতিমালা ভঙ্গকারীকে বরখাস্ত পর্যন্ত করা যেতে পারে।
গিনোর অভিযোগ, এই নতুন নীতি শুধুমাত্র তাকেই টার্গেট করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
তবে আদালতে গিনোর আইনি লড়াই এখন পর্যন্ত মিশ্র ফল দিয়েছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক মিয়ং জে. জাউন গিনোর মানহানি অভিযোগ খারিজ করে দেন, তবে তিনি মামলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ চলতে দেওয়ার অনুমতি দেন—হত্যারণ যে, হার্ভার্ড তাদের মেয়াদের নীতিমালা লঙ্ঘন করে গিনোর বিরুদ্ধে অন্যায় শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে।
এক মাস পর, ২০২৪ সালের অক্টোবরে গিনো তার মামলায় টাইটেল ৭ এবং বৈষম্যের অভিযোগ যুক্ত করার আবেদন করেন।
গিনো তার অবস্থান জনসমক্ষে পরিষ্কার করতেও উদ্যোগ নিয়েছেন। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে, তিনি HBS-এর শিক্ষকদের উদ্দেশে এক চিঠি লেখেন যেখানে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং বলেন, “এই অন্যায়ের প্রতিকার করতেই হবে।” তিনি একটি ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটও চালু করেন, যেখানে তিনি HBS-এর বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ আনেন এবং বলেন, ডেটা কোলাডা’র সঙ্গে মিলে তারা তার সম্মানহানি করেছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে তিনি তার ওয়েবসাইটে লেখেন, 'আমার ক্যারিয়ারকে ধ্বংস হতে এবং আমার সম্মানকে সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হতে দেখা এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা।'
[বাংলা প্রেস বিশ্বব্যাপী মুক্তচিন্তার একটি সংবাদমাধ্যম। স্বাধীনচেতা ব্যক্তিদের জন্য নিরপেক্ষ খবর, বিশ্লেষণ এবং মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজ আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]
বিপি।এসএম
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রে ৭ বছরের শিশু হত্যার দায়ে সাবেক ফেডএক্স চালকের মৃত্যুদণ্ড
৫ ঘন্টা আগে
by বাংলা প্রেস
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি