৭ মে ২০২৬

হার্ভার্ডের বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বড় ক্ষতির সম্ভাবনা

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪২ পিএম
হার্ভার্ডের বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বড় ক্ষতির সম্ভাবনা
  ইমা এলিস: হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যই নয়, গোটা যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই ভয়াবহ অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হার্ভার্ডের শিক্ষার্থীরা দেশটির সেরা উদ্ভাবকদের মধ্যে অন্যতম এবং বিদেশি সাবেক শিক্ষার্থীরা অসংখ্য সফল স্টার্টআপের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাদের ব্যবসায়িক অবদানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা স্থানীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে—তারা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বছরে প্রায় ৪৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে থাকেন। আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিষয়ক সংগঠন এনএএফএসএ-এর নির্বাহী পরিচালক ফান্টা অ বলেন, আমরা যদি বৈশ্বিক প্রতিভাকে ফিরিয়ে দিই, তাহলে সেটার মূল্য আমাদেরই দিতে হবে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অবদান হারালে দেশীয় শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক বাস্তবতা বুঝতে পারবে না এবং এর ফলে দেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় চরম নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এই সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসনের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ ( ডিএইচএস) শুধু নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের হার্ভার্ডে আসা নিষিদ্ধ করেনি, বরং বিদ্যমান বিদেশি শিক্ষার্থীদেরও অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যেতে বলেছে। তবে শুক্রবার একজন বিচারক সাময়িকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেন এবং বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন। বিচারক অ্যালিসন বুরো এক আদেশে বলেন, হার্ভার্ড 'তাৎক্ষণিক ও অপূরণীয় ক্ষতির মুখোমুখি হতে পারে'। যদি ভবিষ্যতে আদালতের রায় প্রশাসনের পক্ষে যায়, তবে হার্ভার্ড সরাসরি এর প্রভাব অনুভব করবে। কারণ ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে হার্ভার্ডের শিক্ষার্থীদের ২৭ শতাংশ—প্রায় ৬,৮০০ জন—আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী। এরা দেশীয়দের চেয়ে সাধারণত বেশি টিউশন ও অন্যান্য ফি দিয়ে থাকে। এনএএফএসএ-এর তথ্য অনুযায়ী, হার্ভার্ডে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা প্রতি বছর স্থানীয় অর্থনীতিতে আনুমানিক ৩৮৩.৬ মিলিয়ন ডলার অবদান রাখে এবং প্রায় ৩,৯১০টি চাকরি সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে, হার্ভার্ডের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা ম্যাসাচুসেটসের ৫ম কংগ্রেশনাল জেলার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ব্যয়ের ৫৪.৫ শতাংশের উৎস ছিল। পুরো রাজ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মোট ব্যয় প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার, যার ১০ শতাংশ আসে হার্ভার্ড থেকেই। এছাড়া তারা শুধু টিউশন নয়, বাসস্থান, খাবার, বই, স্বাস্থ্যবিমা, যোগাযোগ ও যাতায়াত খাতেও ব্যয় করে থাকে। এএক্সআইওএস-এর এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ডজনখানেক বিলিয়ন ডলার মূল্যের স্টার্টআপের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন হার্ভার্ডে পড়া বিদেশি শিক্ষার্থীরা। এছাড়া, ডিএইচএস-এর ঘোষণা অনুযায়ী, প্রশাসনের অপছন্দসই অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও ভবিষ্যতে এমন নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে পারে। হার্ভার্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞাকে “সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সতর্কবার্তা” বলে অভিহিত করেছেন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা সচিব ক্রিস্টি নোম। এনএএফএসএ জানায়, প্রতি তিনজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ব্যয়ে যুক্তরাষ্ট্রে একটি করে চাকরি তৈরি হয়। মোট মিলিয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা প্রায় ৩৮০,০০০টি চাকরি তৈরি বা রক্ষা করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অবস্থান আগেই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। অনেকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে, অনেক সময় কোনো ব্যাখা ছাড়াই। বিশেষ করে, গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে প্রো-প্যালেস্টাইন বিক্ষোভে যুক্ত শিক্ষার্থীদের টার্গেট করেছে প্রশাসন। এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে হার্ভার্ড ডিএইচএস-এর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মামলা করেছে। প্রথম মামলা হয়েছিল যখন প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ ও ভর্তি নীতিমালা বদলাতে চাপ দিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফেডারেল তহবিল বন্ধ করে দেয়। এছাড়া, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হার্ভার্ডের করমুক্ত মর্যাদা বাতিলেরও আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও প্রশাসনের অভিযোগ, হার্ভার্ডসহ অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ইহুদি-বিরোধিতা মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হচ্ছে, বিশেষ করে গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে হওয়া বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে। বিশ্ববিদ্যালয় যদি শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করতে চায়, তবুও শরৎ সেমিস্টারের আগে তা সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইউনিভার্সিটি অব টেনেসির রবার্ট কেলচেন বলেন, 'হার্ভার্ড চাইলে সব বিদেশি শিক্ষার্থীর জায়গায় আমেরিকান শিক্ষার্থী নিতে পারে, তবে তা অল্প সময়ের মধ্যে সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, অন্য অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এমন শিক্ষার্থীদের নিতে আগ্রহী হবে, তবে প্রশাসন যদি হুমকি দেয় যে তাদের তহবিল ঝুঁকিতে পড়বে, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। কেলচেন বলেন, এ পর্যন্ত কেবল শিক্ষার্থীদের ফেডারেল আর্থিক সহায়তা বন্ধ করাই বাকি আছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটাও সম্ভব। [বাংলা প্রেস বিশ্বব্যাপী মুক্তচিন্তার একটি সংবাদমাধ্যম। স্বাধীনচেতা ব্যক্তিদের জন্য নিরপেক্ষ খবর, বিশ্লেষণ এবং মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজ আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।] বিপি।এসএম  
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি