৭ মে ২০২৬

হার্ভার্ড থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার কেটে নিয়ে ট্রেড স্কুলে দেওয়ার কথা ভাবছেন ট্রাম্প

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪২ পিএম
হার্ভার্ড থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার কেটে নিয়ে ট্রেড স্কুলে দেওয়ার কথা ভাবছেন ট্রাম্প
  নোমান সাবিত: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বলেছেন, তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ বিলিয়ন ডলারের অনুদান বাতিল করে সেই অর্থ দেশজুড়ে ট্রেড স্কুলগুলোর মধ্যে বণ্টনের কথা বিবেচনা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চলমান বিরোধের মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করেন। সোমবার সকালে ট্রুথ সোশালে এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, আমি ভাবছি, অত্যন্ত ইহুদিবিদ্বেষী হার্ভার্ড থেকে তিন বিলিয়ন ডলারের অনুদান কেটে নিয়ে তা দেশের ট্রেড স্কুলগুলোতে দিয়ে দেব, আমেরিকার জন্য এটা হবে এক দারুণ বিনিয়োগ, এবং এটার এখন ভীষণ প্রয়োজন! প্রশাসনের সঙ্গে আইভি লিগ বিশ্ববিদ্যালয়টির টানাপোড়েন আরও বাড়ছে। গত বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) নির্দেশ দিয়েছে, হার্ভার্ডের স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রাম (এসইভিপি) সার্টিফিকেশন বাতিল করতে, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানোর জন্য অপরিহার্য। ডিএইচএস সচিব ক্রিস্টি নোম বলেন, 'সহিংসতা উসকে দেওয়া, ইহুদিবিদ্বেষ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং ক্যাম্পাসে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে সমন্বয়ের' জন্য হার্ভার্ডকে জবাবদিহি করতে হবে। শুক্রবার সকালে হার্ভার্ড এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করে, অভিযোগ করে যে তাদের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী মতপ্রকাশের অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা পর যুক্তরাষ্ট্রের জেলা জজ অ্যালিসন বুরোস সাময়িকভাবে হার্ভার্ডের এসইভিপি সার্টিফিকেশন বাতিলের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দেন। গত সপ্তাহেই ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা করেছিল, হার্ভার্ডকে দেওয়া ৬ কোটি ডলারের অনুদান বাতিল করা হবে। পুরো অনুদান বাতিলের পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়। ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় গঠিত প্রশাসনের যৌথ টাস্কফোর্স পূর্বে বলেছিল, “হার্ভার্ড বারবার তাদের ক্যাম্পাসে চলমান জাতিগত বৈষম্য এবং ইহুদিবিদ্বেষী হয়রানির বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।” শুধু বিদেশি শিক্ষার্থী সংক্রান্ত সিদ্ধান্তই নয়, এপ্রিলের শেষদিকে হার্ভার্ড প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল, যাতে ফেডারেল অর্থায়ন আবার চালু করার আবেদন জানানো হয়। ট্রাম্প প্রশাসন হার্ভার্ডকে চাপ দিয়ে বলেছে, তারা যেন তাদের ‘বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি ( ডিইআই)’ কার্যক্রম বন্ধ করে এবং নিয়োগ ও ভর্তি প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনে—তার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে ইহুদিবিদ্বেষ দমনে আরও বেশি কিছু করে। সোমবার সকালে ট্রুথ সোশালে আরেকটি পোস্টে ট্রাম্প বলেন, প্রশাসন এখনো অপেক্ষা করছে—হার্ভার্ড যেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত তথ্য পাঠায়, যাতে তারা নির্ধারণ করতে পারে, “এই বিশাল অর্থব্যয়ের পর, কতজন ‘উগ্রপন্থী উন্মাদ’-কে দেশে ফিরতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।” তিনি বলেন, হার্ভার্ড এই নথিপত্র দিতে অত্যন্ত ধীরগতি দেখাচ্ছে, সম্ভবত ভালো কোনো কারণেই, হার্ভার্ডের জন্য সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, তারা নিজের জন্য সবচেয়ে উপযোগী বিচারক খুঁজে পেয়েছে – তবে ভয় নেই, শেষ পর্যন্ত সরকারই জিতবে! রবিবার ট্রাম্প বলেন, তিনি হার্ভার্ডে পড়া সব বিদেশি শিক্ষার্থীর তথ্য জানতে চান। এর কয়েক ঘণ্টা পর তিনি বলেন, অনেক আমেরিকান শিক্ষার্থী হার্ভার্ডে ভর্তি হওয়ার সুযোগ হারাচ্ছে, কারণ বিদেশি শিক্ষার্থীরা তাদের স্থান দখল করে নিচ্ছে। ট্রাম্প বলেন, আমার বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ৩১ শতাংশ হওয়া ঠিক নয়। এটা বেশি হয়ে যাচ্ছে, কারণ আমেরিকানরা সেখানে যেতে চায়, অন্যান্য জায়গায় যেতে চায়—কিন্তু তারা যেতে পারে না, কারণ ৩১ শতাংশ আসন বিদেশিদের দখলে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে হার্ভার্ডে ৬,৭৯৩ জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ছিল, যা মোট শিক্ষার্থীর ২৭.২ শতাংশ—বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি তথ্য অনুযায়ী। [বাংলা প্রেস বিশ্বব্যাপী মুক্তচিন্তার একটি সংবাদমাধ্যম। স্বাধীনচেতা ব্যক্তিদের জন্য নিরপেক্ষ খবর, বিশ্লেষণ এবং মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজ আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।] বিপি।এসএম  
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি