৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাঁধনের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজপথে শিল্পীরা

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৪ পিএম
বাঁধনের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজপথে শিল্পীরা

সংগৃহীত ছবি

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:  অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর ‘মব সন্ত্রাস’ ও হামলার প্রতিবাদে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের শিল্পীরা। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ‘আমরা শিল্পীবৃন্দ’-এর আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বাঁধনের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানান। একই সঙ্গে হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং দেশের শিল্পী ও সাংস্কৃতিককর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা রিয়াজুল রিজু বলেন, ‘আমরা শিল্পী, আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের নই। দেশকে ভালোবেসে ’২৪-এর জুলাইয়ে রাস্তায় নেমেছিলাম।

কিন্তু গত দুই বছরে আমাদের ওপরই বেশি হামলা হয়েছে। শোরুম উদ্বোধন করতে দেওয়া হয়নি, বিভিন্ন জায়গায় কনসার্ট বন্ধ হয়েছে, নৌকাবাইচ বন্ধ হয়েছে। আমাদের সংস্কৃতির ইতিহাস হাজার বছরের। সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ মানে দেশের ওপর আক্রমণ, অস্তিত্বের ওপর আক্রমণ।বাঁধন সব সময় অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে। আমরা শিল্পীরাও তাই। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব সময় আমরা সোচ্চার আছি, থাকব।’

সংগীতশিল্পী মুহিন খান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। তারা সঙ্গে সঙ্গে এ ঘটনায় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন।

এর সঙ্গে আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যে মব সন্ত্রাস হয়েছে, তা আমরা আর মেনে নেব না। দেশের কোনো অংশে এমন মব হলে আমরা বসে থাকব না।’

মানববন্ধনে বক্তারা আরো বলেন, কোনো শিল্পী বা সাংস্কৃতিককর্মীর ওপর হামলা কিংবা মব সন্ত্রাস কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শিল্পীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং স্বাধীনভাবে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

এদিকে চলতি সপ্তাহে ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার দলের সঙ্গে অংশ নেন বাঁধন। উৎসবের প্রতিযোগিতামূলক অরিজন্তি বিভাগে জায়গা পেয়েছে সিনেমাটি। গত ৬ সেপ্টেম্বর সালা দারসেনা থিয়েটারে সিনেমাটির বিশ্ব প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়।

প্রিমিয়ার শেষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘুরতে বের হলে হামলা ও হেনস্তার শিকার হন বাঁধন। 

তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে পানি, কোমল পানীয় ও ডিম ছুড়ে মারা হয়। একপর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং তার হাত থেকে মুঠোফোনও ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার সময় বাঁধনের ভাইয়ের স্ত্রী ও তিন বছরের শিশুসন্তানও তার সঙ্গে ছিল।

বাঁধন জানান, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকার কারণেই তাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। 

তার দাবি, হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) কর্মী এবং ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। এমনকি তাকে জোর করে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে বলা হয়। সেই দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার ও প্রকাশের চেষ্টা করেন হামলাকারীরা।
বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি