
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে ইসরাইল ভ্রমণে 'নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে' মন্তব্য করে বাংলাদেশ সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ইসরাইলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শনিবার (২২ মে) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-মহাপরিচালক গিলাড কোহেন বিষয়টি নিয়ে টুইটারে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
টুইট বার্তায় তিনি বলেন, দারুণ খবর! ইসরাইলে ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই। বাংলাদেশ সরকারকে ইসরাইলের সংগে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই; যেনো দুই দেশের মানুষ লাভবান হতে পারে।
এই টুইটের পর বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরাইল ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়নি। রবিবার (২৩ মে) বিকালে এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইসরাইল ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা বলবত আছে এবং ইসরাইলের প্রতি বাংলাদেশের অবস্থান বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়নি। এই ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে কারণ সম্প্রতি বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট থেকে ইসরাইলে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত যে বক্তব্যটি ছিলো সেটি বাদ দিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্যালেস্টাইনের ওপর ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের রেজুলেশন অনুযায়ী দুই রাষ্ট্র নীতির প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে বাংলাদেশি পাসপোর্টে লেখা থাকত- 'দিস পাসপোর্ট ইজ ভ্যালিড ফর অল কান্ট্রিজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড এক্সসেপ্ট ইসরাইল'। তবে পরিবর্তিত নতুন পাসপোর্টে লেখা হচ্ছে- 'দিস পাসপোর্ট ইজ ভ্যালিড ফর অল কান্ট্রিজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড'।
এই বিষয়ে শনিবার সকালে এক প্রতিক্রিয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন গণমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি শোনার পর আমি আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফোন করি। ওনার কাছে জেনেছি, ছয় মাস আগে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করার পর 'দিস পাসপোর্ট ইজ ভ্যালিড ফর অল কান্ট্রিজ একসেপ্ট ইসরায়েল' থেকে 'একসেপ্ট ইসরায়েল' অংশটি বাদ গেছে। এই পরিবর্তন করা হয়েছে পাসপোর্টের আন্তর্জাতিক মানের স্বার্থে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই পরিবর্তনে ইসরায়েলের সংগে আমাদের সম্পর্ক পরিবর্তনের কিছু নেই। কারণ, আমরা তো ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিইনি।
বিপি২৪/আর এল
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]