৬ মে ২০২৬

আইনের দৃষ্টিতে জোবায়দা রহমান পলাতক : আপিল বিভাগ

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪০ পিএম
আইনের দৃষ্টিতে জোবায়দা রহমান পলাতক : আপিল বিভাগ
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বলেছেন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান আইনের দৃষ্টিতে পলাতক। দুর্নীতির মামলা বাতিলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ক ধারায় করা তার আবেদন শুনে ও আদেশ দিয়ে হাইকোর্ট আইনানুযায়ী ভুল করেছেন। প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ ‌ডা. জোবাইদা রহমান বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। বুধবার ১৬ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশিত হয়েছে। দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিচারপতি বোরহানউদ্দিন রায়টি লিখেছেন। রায়ে একমত পোষণ করেছেন প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান ও বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম। রায়ে বলা হয়েছে, দুর্নীতির মামলায় জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেননি বিচারিক আদালত। যেখানে অভিযোগ আমলে নেয়নি সেখানে কি করে উনি মামলা বাতিল চেয়ে ৫৬১ক ধারায় আবেদন করেছেন। আর যখন আবেদনটি করেছেন তখন উনি আইনের দৃষ্টিতে পলাতক। আইনের দৃষ্টিতে একজন পলাতক ব্যক্তির করা ওই আবেদন শুনে মামলার বিচার কাজ স্থগিতের পাশাপাশি রুল জারি করেছেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। আমরা মনে করি হাইকোর্টের এ ধরনের আদেশ প্রদান আইনানুযায়ী সঠিক ছিল না। কারণ আইনের দৃষ্টিতে পলাতক ব্যক্তির আইনি প্রতিকার চাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আপিল বিভাগ রায়ে বলেছেন, সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারকরা ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে ও পক্ষপাতিত্বের আশ্রয় না নিয়ে বিচার কাজ পরিচালনার শপথ নিয়েছেন। যেকোনো পরিস্থিতিতে বিচার বিভাগ এ নীতিতে অবশ্যই অটল থাকবে। বিচার বিভাগ এমন কোনো নজির সৃষ্টি করবে না যা সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। রায়ে আপিল বিভাগ বলেছেন, প্রত্যেক নাগরিকের আদালত থেকে সমান বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছেন। কারণ আইনের দৃষ্টিতে কেউ বড় বা ছোট নয়, সবাই সমান। ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ঘোষিত আয়ের বাইরে ৪ কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ টাকার মালিক হওয়া ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে রাজধানীর কাফরুল থানায় এ মামলা দায়ের করে দুদক। মামলায় তারেক রহমান, ডা. জোবায়দা রহমান ও তার মা ইকবাল মান্দ বানুকে আসামি করা হয়। ওই বছরই জোবায়দার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করে হাইকোর্ট। ওই রুলের শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল রায় দেয় হাইকোর্ট। রায়ে মামলা বাতিলে জারি করা রুল খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে জোবায়দা রহমানকে আট সপ্তাহের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন তিনি। ওই আবেদনের ওপর গত ১৩ এপ্রিল রায় দেন আপিল বিভাগ। বিপি/কেজে
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি