৮.৮ মাত্রার ভূমিকম্পেও কেন রক্ষা পেল রাশিয়ার উপকূলীয় অঞ্চল?
বাংলা প্রেস
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪২ পিএম
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প বুধবার রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলে আঘাত হেনেছে। তবে আশঙ্কা করা হলেও এটি মারাত্মক সুনামি সৃষ্টি করেনি। স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ২৫ মিনিট) রিখটার স্কেলে ৮.৮ মাত্রার এই ভূমিকম্পটি কামচাটকা উপদ্বীপে আঘাত হানে। ফলে পুরো প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় সুনামির সতর্কতা জারি করা হয় এবং লাখ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
২০০৪ সালের ভারত মহাসাগরীয় সুনামি এবং ২০১১ সালের জাপানের সুনামির স্মৃতি মানুষের মনে ফিরে আসে। তবে এবার সুনামির প্রভাব তুলনামূলকভাবে অনেক হালকা ছিল, যদিও কিছু এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কেন হয়েছিল ভূমিকম্প?
কামচাটকা উপদ্বীপটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত, যেখানে ঘন ঘন ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ ঘটে। এই অঞ্চলে ভূত্বকের টেকটোনিক প্লেটগুলো একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত থাকে।বিশেষত, প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেটটি প্রতিবছর প্রায় ৮ সেন্টিমিটার গতিতে উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে যাচ্ছে এবং এটি অপেক্ষাকৃত হালকা ওখোৎস্ক মাইক্রোপ্লেটের নিচে ঢুকে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে যে ঘর্ষণ সৃষ্টি হয়, তা একসময় হঠাৎ বিস্ফোরণের মতো মুক্ত হয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প তৈরি করে। যাকে বলা হয় ‘মেগাথ্রাস্ট’ ভূমিকম্প।
এই ধরনের ভূমিকম্পের সময় শুধু একটি নির্দিষ্ট স্থানে নয়, বরং কয়েক শ কিলোমিটারজুড়ে ফাটল সৃষ্টি হয়, যা এর তীব্রতাকে আরো বাড়িয়ে তোলে।বিশেষজ্ঞদের মতে, কামচাটকা অঞ্চলে এমন শক্তিশালী ভূমিকম্প নতুন নয়। ১৯৫২ সালেও একই এলাকায় ৯.০ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছিল।
সুনামি এত ভয়াবহ হয়নি কেন?
ভূমিকম্পের ফলে সমুদ্রের নিচের স্তর যখন হঠাৎ সরতে থাকে, তখন ওপরের পানি ধাক্কা খেয়ে বিশাল ঢেউ তৈরি করে – যেটি উপকূলে পৌঁছে সুনামি সৃষ্টি করতে পারে। গভীর সমুদ্রে এই ঢেউ ঘণ্টায় ৮০০ কিমি বেগে ছুটে যায়, কিন্তু সেখানে এর উচ্চতা সাধারণত ১ মিটারের নিচেই থাকে। কিন্তু উপকূলের কাছে এসে পানি কম গভীর হলে ঢেউগুলো ধীরগতিতে চলতে শুরু করে এবং উচ্চতা বাড়িয়ে দেয় — ফলে উপকূলে একটি জলের প্রাচীরের মতো ধেয়ে আসে।
এবারের ঘটনায় পূর্ব রাশিয়ার কিছু অংশে প্রায় ৪ মিটার (১৩ ফুট) উঁচু ঢেউ উঠেছিল। তবে এটি ২০০৪ বা ২০১১ সালের মতো বিশাল আকার নেয়নি। ভূমির গঠন ও সমুদ্রের তলদেশের আকৃতি এখানে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
আগাম সতর্কতা ব্যবস্থায় প্রাণরক্ষা
এখন বিশ্বের অনেক দেশে উন্নত সুনামি সতর্কতা ব্যবস্থা রয়েছে। ভূমিকম্পের পর দ্রুত এলার্ম চালু করে জনসাধারণকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। এটি ২০০৪ সালের ভারত মহাসাগরীয় সুনামির সময় সম্ভব হয়নি — ফলে ১৪টি দেশে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। বর্তমানে ভূমিকম্পের সঠিক সময় আগে থেকে পূর্বানুমান করা সম্ভব না হলেও, প্লেটের গতি এবং ভূমিকম্পের সম্ভাব্যতা নিয়ে বিজ্ঞানীরা পূর্বাভাস দিতে পারেন।
এই ভূমিকম্পের ১০ দিন আগেও একই অঞ্চলে ৭.৪ মাত্রার একটি ভূকম্প হয়েছিল, যা হতে পারে একটি পূর্ব-ভূকম্পন, তবে এটি থেকেও সুনির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা যায় না। রাশিয়ার ভূ-ভৌগোলিক জরিপ সংস্থা (জিএস আরএএস) জানিয়েছে, পরবর্তী এক মাসে একাধিক আফটারশক বা অনুস্পন্দন অনুভূত হতে পারে, যা তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।
[বাংলা প্রেস বিশ্বব্যাপী মুক্তচিন্তার একটি সংবাদমাধ্যম। স্বাধীনচেতা ব্যক্তিদের জন্য নিরপেক্ষ খবর, বিশ্লেষণ এবং মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজ আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]
বিপি>টিডি
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তর্জাতিক
গুলির শব্দে হোয়াইট হাউস অবরুদ্ধ, সরিয়ে নেওয়া হলো সংবাদকর্মীদের
১ দিন আগে
by বাংলা প্রেস
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি