৭ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ অঙ্গরাজ্যের রাস্তায় ট্রাম্প-মাস্কের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪২ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ অঙ্গরাজ্যের রাস্তায় ট্রাম্প-মাস্কের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

নোমান সাবিত:  যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর উপদেষ্ট ধনকুবের ইলন মাস্কের বিরুদ্ধে যে বিক্ষোভ হচ্ছে, সেই বিক্ষোভে  এসব প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল 'ট্রাম্পকে থামান, বিচার বিভাগ বাঁচান’, ‘ট্রাম্প নির্বাচিত হয়েছেন জনগণের ভোটে, তাঁকে বেছে নিয়েছেন পুতিন’, ‘ইলন মাস্ককে মঙ্গলে পাঠিয়ে দেওয়া হোক’।

ট্রাম্প সম্প্রতি ১৮৪টি দেশ ও অঞ্চলের ওপর শুল্ক আরোপ করেছেন। নতুন এই শুল্কনীতি অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রে কোনো দেশ পণ্য বিক্রি করতে হলে কমপক্ষে ১০ শতাংশ দিতে হবে। এই নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্ররাও চটেছে। এদিকে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন নীতিতে পরিবর্তন এনেছেন ট্রাম্প। এতে চটেছেন দেশের মানুষ। ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করে গত শনিবার রাস্তায় নেমে এসেছেন তাঁরা।

‘প্রো ডেমোক্রেসি মুভমেন্টের’ ব্যানারে এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, এই বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার জন্য অনলাইনে একটি ইভেন্ট খোলা হয়েছিল। এতে ৬ লাখ মানুষ যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যুক্তরাজ্যের লন্ডন, জার্মানির ফ্র‍াঙ্কফুর্ট, বার্লিনে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান টেসলার শোরুমের সামনে, ফ্রান্সের প্যারিসসহ বড় বড় সব শহরে শনিবার ট্রাম্প ও ধনকুবের ইলন মাস্কের নীতির কড়া সমালোচনা করে বিক্ষোভ হয়েছে। মানবাধিকারের দাবিতে সোচ্চার বিভিন্ন সংগঠন, সাবেক সামরিক কর্মকর্তা, নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন এবং সমকামীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এসব বিক্ষোভে অংশ নেন।

সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ থেকে আয়োজকেরা তিনটি দাবি উত্থাপন করেছেন। এগুলোর মধ্য রয়েছে ধনকুবেরদের হাতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাকাঠামো কুক্ষিগত হয়েছে; এই পরিস্থিতির ইতি টানতে হবে। ট্রাম্প প্রশাসন ব্যাপকভাবে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে; এই অবস্থা চলতে দেওয়া যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা খাত, সামাজিক নিরাপত্তা এবং অন্যান্য কর্মজীবী মানুষের জন্য ফেডারেল সরকারের যে তহবিল রয়েছে, তা কমানো হয়েছে। এই তহবিল কমানো যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী, ট্রান্সজেন্ডার ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের ওপর চলমান হামলা বন্ধ করতে হবে।

আইনপ্রণেতারাও বিক্ষোভে

শনিবারের বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারাও অংশ নিয়েছেন। ওয়াশিংটন ডিসির একটি বিক্ষোভে যোগ দেন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ডেমোক্রেটিক পার্টির জেমি রাসকিন। তিনি বলেন, ‘যিনি অর্থনৈতিকভাবে হারবার্ট হুভার ও রাজনৈতিকভাবে মুসোলিনির মতো করে চিন্তা করেন, সেই প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের ত্রাতা হতে পারেন না।’

ওয়াশিংটন ডিসিতে কথা বলেছেন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের অন্যতম বড় সংগঠন ন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফেডারেল এমপ্লয়িজের প্রেসিডেন্ট

র‍্যান্ডি এরউইন বলেন, ‘দেশের সরকারি সেবা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। এটাই সত্য।’ তারা বলছে, তারা সরকারি অফিসগুলো আরও বেশি কর্মদক্ষ করছে। কিন্তু এটা হাস্যকার। এটা সত্যি ভয়ংকর। কারণ, তারা যা বলছে, তার উল্টোটা করছে।

[বাংলা প্রেস বিশ্বব্যাপী মুক্তচিন্তার একটি সংবাদমাধ্যম। স্বাধীনচেতা ব্যক্তিদের জন্য নিরপেক্ষ খবর, বিশ্লেষণ এবং মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজ আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।] বিপি।এসএম
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি