৬ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসী গ্রেফতার হলেই আদালতে তোলার নির্দেশ

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৯ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসী গ্রেফতার হলেই আদালতে তোলার নির্দেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর যে কোন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেফতার করা হলে তাকে ১০ দিনের মধ্যেই আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন নিউ ইয়র্কের ফেডারেল আদালত। গত ৩০ নভেম্বর বিচারক এলিসন জে নাথান এ রায় দেন। এর ফলে ইমিগ্রেশন বিভাগ এখন গ্রেপ্তার করা অভিবাসীদের অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য আর আটক রাখতে পারবে না। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, কোনো অভিবাসীকে বিনা বিচারে অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখা যেতে পারে না। কোন আইন বা নির্দেশনা দিয়ে একজন মানুষের মানবিক এই অধিকার খর্ব করা যেতে পারে না। বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালে এমন আটক অভিবাসীদের গড়ে ১১ দিনের মধ্যে আদালতে উপস্থাপন করা হতো। এমনও ঘটনা ঘটেছে, ইমিগ্রেশন বিভাগ আটক অভিবাসীদের তিন মাসের বেশি সময় পরও আদালতে উপস্থাপন করছে না। বাদী সীমার মাইকেল আদালতে বলেন, ইমিগ্রেশন এজেন্টরা তাঁকে আটক করার সময় বলেছিল, রাতে সন্তানদের নিয়ে খাবার গ্রহণের আগেই তিনি ঘরে পৌঁছতে পারবেন। অথচ তাঁকে ইমিগ্রেশন বিচারকের কাছে উপস্থাপনের জন্য ছয় সপ্তাহ আটককেন্দ্রে অপেক্ষা করতে হয়েছিল সীমার মাইকেল নামের এক অভিবাসী এই মামলায় বাদী ছিলেন। আর আইনজীবী জেইন এই মামলার অন্যতম অ্যাটর্নি হিসেবে কাজ করেছেন। জেইন বলেন, ইমিগ্রেশন বিভাগের আটককেন্দ্রে অমানবিক অবস্থায় কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস অভিবাসীদের আটক রাখার ঘটনা ভয়ংকর। আদালতের রায়ের মাধ্যমে এমন আটক অভিবাসীদের দ্রুত আদালতে উপস্থাপন করার বিষয়টি সামনে এল। চলমান কোভিড-১৯ সংক্রমণের সময় এ বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাদী সীমার মাইকেল আদালতে বলেন, ইমিগ্রেশন এজেন্টরা তাঁকে আটক করার সময় বলেছিল, রাতে সন্তানদের নিয়ে খাবার গ্রহণের আগেই তিনি ঘরে পৌঁছতে পারবেন। অথচ তাঁকে ইমিগ্রেশন বিচারকের কাছে উপস্থাপনের জন্য ছয় সপ্তাহ আটককেন্দ্রে অপেক্ষা করতে হয়েছিল। আদালতের রায় শোনার পর মাইকেল বলেন, আর কোন অভিবাসীকে যেন এমন কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে না হয়। নাগরিক অধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আটক এমন অভিবাসীদের মাসের পর মাস আটককেন্দ্রে রাখা হয়। এর মধ্যে ৪০ শতাংশই পরে জামিনে ছাড়া পেয়ে থাকেন। আটক অভিবাসীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশরেই যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসনের নথিপত্র থাকে। এর মধ্যে অভিবাসন রেকর্ডে সামান্য ভুল বা অন্য কোন অপরাধের জের হিসেবে এদের গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন আপিল করা হবে কি না, তা এখনো জানা যায়নি। ক্ষমতার পালা বদলের এই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন পাল্টা কোন অবস্থান নেবে না বলে আশা করছে নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর অভিবাসন নিয়ে কড়াকড়ি আরোপ শুরু হয়। সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসা বা দেশের অভ্যন্তরে নথিপত্রহীন অভিবাসীদের গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন বিভাগ দীর্ঘদিন আটক রাখছিল। এ নিয়ে নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো মামলা দায়ের করে। ট্রাম্পের ক্ষমতার মেয়াদে প্রথমবারের মতো এমন মামলায় অভিবাসীদের অধিকারের পক্ষে রায় পাওয়া গেছে। সিভিল লিবার্টি গ্রুপের পক্ষ থেকে রায়ের প্রশংসা করে এটিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে বিরাট বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিপি।এসএম
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি