৫ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের দাম ঊর্ধ্বমুখী, কেজি কত জানেন?

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৪:০২ এএম
যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের দাম ঊর্ধ্বমুখী, কেজি কত জানেন?

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের দাম এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এটি এখন একটি রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এমনকি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ বিষয় নিয়ে মুখ খুলেছেন। এই ঊর্ধ্বমুখী দাম ট্রাম্পের পূর্ববর্তী মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতিকে ব্যর্থ করার হুমকি দিচ্ছে।

ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় পশুপালকদের তাদের গবাদি পশুর দাম কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তার এই প্রস্তাব এবং প্রশাসনের অন্যান্য পদক্ষেপ নিয়ে পশুপালকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, ট্রাম্পের নীতিমালা তাদের জীবিকা সংকুচিত করবে, তবে মুদি দোকানিদের জন্য কার্যকর কোনো সহায়তা থাকবে না।

১৯৮০ সাল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গবাদি পশু খামার ও পশুপালকদের সংখ্যা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। এতে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ কমেছে এবং চাহিদা বেশি থাকার কারণে দাম বাড়ছে। বর্তমানে দেশটির গবাদি পশুর মজুদ প্রায় ৭৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমেছে। ২০১৭ সাল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি গবাদি পশু খামার হারিয়েছে, যা কৃষি বিভাগের মতে, ১৭ শতাংশ কমেছে। 

পশুপালকরা বলছেন, চার দশক ধরে মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ সংস্থার একত্রীকরণের কারণে তারা চাপের মধ্যে রয়েছেন। সার, সরঞ্জামসহ গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি এবং কয়েক বছরের খরা তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। 

ইলিনয়ের গবাদি পশুপালক ক্রিশ্চিয়ান লোভেল বলেন, তার খামারের অনেক চারণভূমি শুকিয়ে গেছে, ফলে গরুর জন্য পর্যাপ্ত চারণভূমি নেই।

মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যে দেখা যায়, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১২ মাসে খুচরা বাজারে কিমা গরুর মাংসের দাম ১২.৯ শতাংশ এবং গরুর স্টেকের দাম ১৬.৬ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে এক পাউন্ড (৪৫৩.৬ গ্রাম) কিমার দাম গড়ে ৬.৩৩ ডলার, যা এক বছর আগে ছিল ৫.৫৮ ডলার। এই বৃদ্ধি সামগ্রিক খাদ্য মুদ্রাস্ফীতিকে (৩.১%) অনেকাংশে ছাড়িয়ে গেছে।

উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের রিভার ফলস শাখার কৃষি অর্থনীতির অধ্যাপক ব্রেন্ডা বোয়েটেল বলেন, গবাদি পশুর পাল ছোট হচ্ছে, তবুও ভোক্তারা এখনো ‘আমেরিকান গরুর মাংস’ চাইছেন—এ কারণে দাম বেড়েছে। 

ওকলাহোমা স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডেরেল পিল বলেন, গবাদি পশুর সংখ্যা পুনর্গঠন করতে কয়েক বছর সময় লাগবে, তাই দাম এই দশকের শেষ পর্যন্ত বেশি থাকবে।

মার্কিন কৃষি বিভাগ গবাদি পশুর চারণভূমি বাড়ানো এবং ছোট মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ‘বড় প্যাকেজ’ ঘোষণা করেছে। তবে ট্রাম্পের আর্জেন্টিনা থেকে আরও বেশি গরুর মাংস আমদানি করার প্রস্তাব খামারিদের ক্ষোভের মুখে পড়েছে। ন্যাশনাল ক্যাটলম্যানস বিফ অ্যাসোসিয়েশন মন্তব্য করেছে, এটি খামারিদের জন্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, কিন্তু মুদিপণ্যের দামের কোনো হ্রাস ঘটাবে না। 

ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ব্রাজিল থেকে আমদানি সীমিত করতে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। তবে মার্কিন ক্যাটলম্যানস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জাস্টিন টাপার বলেন, আমদানি পরিকল্পনা থেকে শুধু কয়েকটি বড় মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী কোম্পানি লাভবান হবে। দেশের ভেতরে দাম কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে খামারিরা মনে করছেন, বাজারে কয়েকটি বড় কোম্পানির আধিপত্য কমালে দাম নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। বর্তমানে মাত্র চারটি কোম্পানি—টাইসন, জেবিএস, কারগিল এবং ন্যাশনাল বিফ—গরুর মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণের বাজারের ৮০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।

ক্যানসাসের সেন্ট ফ্রান্সিসের খামারি মাইক ক্যালিক্রেট বলেন, শিল্পে টিকে থাকার একমাত্র উপায় হলো মধ্যস্বত্বভোগীদের বাদ দিয়ে সরাসরি ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা। তবে অধিকাংশ খামারির পক্ষে তা সম্ভব নয়। 

ক্যালিক্রেট আরও বলেন, আমরা গরুর পাল পুনর্গঠন করব না—যতক্ষণ না বাজারের একচেটিয়াকরণ সমস্যার সমাধান হচ্ছে।


বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি