৭ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে ৭ শতাংশ শিশুর জন্ম অবৈধ অভিবাসীদের ঘরে

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪২ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রে ৭ শতাংশ শিশুর জন্ম অবৈধ অভিবাসীদের ঘরে
  আবু সাবেত: যুক্তরাষ্ট্রের মোট জন্মের প্রায় ৭ শতাংশ অবৈধ অভিবাসীদের ঘরে জন্ম নেওয়া সন্তান। অভিবাসন বিষয়ে গবেষণামূলক অলাভজনক সংস্থা ইমিগ্রেশন স্টাডিজ সেন্টারের গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) সংস্থাটি জানায় যে তাদের প্রাথমিক ফলাফলের ভিত্তিতে ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুদের সংখ্যা ২,২৫,০০০ থেকে ২,৫০,০০০ জন। যা ওই বছরে ছিল মোট জন্মের প্রায় ৭ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্ক এই সপ্তাহে জাতীয় আলোচনায় নতুন করে উঠে এসেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন এটি নিষিদ্ধ করার জন্য একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। ট্রাম্পের এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে। তবে সিয়াটলের একজন ফেডারেল বিচারক বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) অস্থায়ীভাবে এই আদেশ স্থগিত করেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এই বিষয়টি শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে নিষ্পত্তি হতে পারে। যদি নিষেধাজ্ঞাটি কার্যকর হয় তাহলে এটি সম্ভবত হাজার হাজার এমন শিশুদের ওপর প্রভাব ফেলবে। যারা অবৈধ অভিবাসীদের বাবা-মায়ের ঘরে জন্মগ্রহণ করেছে। তারা জানায় এ সংখ্যাটি পৃথকভাবে নেওয়া প্রায় সব রাজ্যের মোট জন্মসংখ্যার চেয়ে বেশি। তাছাড়া অবৈধ অভিবাসী বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুদের সংখ্যা বৈধ ননসিটিজেন বাবা-মায়ের তুলনায় বেশি। সংগঠনটি বলেছে, ২০২৪ সালের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে কারণ বাইডেন প্রশাসনের অধীনে দেশে অবৈধ অভিবাসীদের সংখ্যা অনেকাংশে বেড়েছে। ইমিগ্রেশন স্টাডিজ সেন্টার জানিয়েছে যে তারা সর্বশেষ ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ও অবৈধ অভিবাসীদের জন্মের বিষয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেছিল। যা সেনসাস ব্যুরোর আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভে (এসিএস) এর উপর ভিত্তি করে। ২০২৩ সালের প্রাথমিক ফলাফলের জন্য তারা একই পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। তারা জানিয়েছে যে অবৈধ অভিবাসীরা সেনসাস ডেটায় উপস্থিত থাকলেও ব্যুরো দ্বারা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয় না। ফক্স নিউজ ডিজিটাল সেনসাস ব্যুরো এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি থেকে তথ্য চেয়েছিল। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ২০১৮ সালের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচটির মধ্যে একটি (৭৯১,০০০) জন্ম অভিবাসী মায়ের ঘরে হয়েছিল (বৈধ বা অবৈধ)। প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছিল যে বৈধ অভিবাসীরা মোট জন্মের ১২.৪ শতাংশ (৪৯৪,০০০) এবং অবৈধ অভিবাসীরা ৭.৫ শতাংশ (২৯৭,০০০) ছিল। 'আমেরিকান নাগরিকত্বের অর্থ এবং মূল্য সংরক্ষণ' শিরোনামের ট্রাম্পের আদেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছে 'যে সমস্ত ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ বা নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন এবং এর অধিক্ষেত্রের আওতাধীন থাকেন তারা যুক্তরাষ্ট্রের অথবা যে রাজ্যে বাস করেন তার নাগরিক।' এটি স্পষ্ট করে যে অবৈধ অভিবাসী বাবা-মায়ের সন্তান অথবা যারা অস্থায়ী ননইমিগ্র্যান্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন তারা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পায় না। ট্রাম্প বারবার জন্মসূত্রে নাগরিকত্বকে 'অযৌক্তিক' বলে অভিহিত করেছেন এবং এটি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৩০টি দেশের একটি, যেখানে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব প্রযোজ্য। বৃহস্পতিবার রোনাল্ড রেগানের মনোনীত ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ জন কফেনাউর চারটি রাজ্য- অ্যারিজোনা, ইলিনয়, ওরেগন এবং ওয়াশিংটনের মামলার ভিত্তিতে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশকে অস্থায়ীভাবে স্থগিত করেছেন। কফেনাউর বলেন, 'জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিষিদ্ধ করার নির্বাহী আদেশটি মনকে বিভ্রান্ত করে তোলে'। ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে বিচারকের দায়িত্ব পালনকালে তিনি এমন একটি 'খোলাখুলি অসাংবিধানিক' মামলা এর আগে কখনও দেখেননি বলে আদালতে জানিয়েছেন।কফেনাউর প্রদত্ত ১৪ দিনের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা পুরো যুক্তরাষ্ট্রে প্রযোজ্য হবে। এই সময়ে প্রশাসন সান ফ্রান্সিসকোর একটি ফেডারেল আপিল আদালতে অস্থায়ী আদেশটি তুলে নেওয়ার জন্য আবেদন করতে পারে এবং মামলা চলাকালীন আদেশটি কার্যকর করার অনুমতি চাইতে পারে। মামলাটি কয়েক মাস ধরে চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিচার বিভাগের একজন মুখপাত্র ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন যে তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ 'যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করে' দৃঢ়ভাবে রক্ষা করবে। তিনি বলেন, আমরা আদালতে এবং আমেরিকান জনগণের সামনে পুরোপুরি আমাদের যুক্তি তুলে ধরার জন্য উন্মুখ। তারা আমাদের দেশের আইন কার্যকর হতে দেখতে চায়। বিপি।এসএম  
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি