যুক্তরাষ্ট্রে ১ কোটি ৮৬ লাখ অবৈধ অভিবাসী, ছয় মাসে কমেছে ১৬ লাখ

নোমান সাবিত: যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে ২০২৩ সালে। এর সংখ্যা ১ কোটি ৪০ লাখে পৌঁছেছে বলে পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ আগষ্ট) প্রকাশিত এই তথ্যে বলা হয়, অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারীর সংখ্যা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যদিও এই সংখ্যা সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও অভিবাসনবিরোধী সমালোচকদের অনুমানের তুলনায় অনেক কম।
পিউ জানিয়েছে, ২০২২ সালে যেখানে এই সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৮ লাখ, ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখে। এর আগে সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল ২০০৭ সালে ১ কোটি ২২ লাখ। সাম্প্রতিক বৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে প্রায় ৬০ লাখ মানুষের মাধ্যমে, যারা কোনো না কোনো ধরনের অস্থায়ী আইনি সুরক্ষার আওতায় ছিলেন। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে এসব সুরক্ষার অনেকগুলোই বাতিল করেন।
১৯৯০ সাল থেকে পিউ এই হিসাব প্রকাশ করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, যদিও ২০২৩ সালের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণই সর্বশেষ, প্রাথমিক তথ্য বলছে ২০২৪ সালেও সংখ্যা বেড়েছে, তবে ধীর গতিতে। কারণ তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ২০২৪ সালের জুনে সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থনা কঠোরভাবে সীমিত করেছিলেন। ট্রাম্পের সময় এই সংখ্যা কিছুটা কমলেও তা এখনো ১ কোটি ৪০ লাখের উপরে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে মোট অভিবাসীর সংখ্যা আইনি বা অবৈধ উভয় মিলিয়ে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ৫ কোটি ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে, যা মোট জনসংখ্যার ১৫.৮ শতাংশের রেকর্ড। তবে পরে সংখ্যা কমতে শুরু করেছে, যা ১৯৬০-এর দশকের পর প্রথমবারের মতো হ্রাস হিসেবে চিহ্নিত করেছে পিউ।
যদিও এই তথ্য অভিবাসন নিয়ে বিতর্ক মেটাবে না, পিউ-এর প্রতিবেদনকে অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা নির্ধারণের অন্যতম পূর্ণাঙ্গ প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় সবকিছুই এসেছে মেক্সিকো ছাড়া অন্যান্য দেশ থেকে। মেক্সিকোর পর সবচেয়ে বেশি এসেছে গুয়াতেমালা, এল সালভাদর, হন্ডুরাস ও ভারত থেকে। ভেনেজুয়েলা, কিউবা, কলম্বিয়া, নিকারাগুয়া, ইকুয়েডর, ইউক্রেন ও পেরু থেকেও মাত্র দুই বছরে সংখ্যাটি দ্বিগুণের বেশি হয়েছে।
ট্রাম্প ২০২৫ সালের মার্চে কংগ্রেসে বক্তৃতা দিয়ে দাবি করেন, গত চার বছরে ২ কোটি ১০ লাখ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকেছে, যা পিউ-এর অনুমান এবং সীমান্তে গ্রেপ্তারের পরিসংখ্যানের তুলনায় অনেক বেশি। তার নীতির পক্ষে থাকা সংগঠন 'ফেয়ার' অনুমান করেছে মার্চ মাসে অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা ১ কোটি ৮৬ লাখ।
অভিবাসন সীমিত করার পক্ষে অবস্থান নেওয়া সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজ জানিয়েছে, গত মাসে অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৪২ লাখ, যা জানুয়ারিতে সর্বোচ্চ ১ কোটি ৫৮ লাখে পৌঁছেছিল। মাত্র ছয় মাসে ১৬ লাখ কমেছে বলে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা সচিব ক্রিস্টি নোম বলেছেন, 'এটি বিশাল অগ্রগতি।'
তবে নোমের দপ্তরের অফিস অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি স্ট্যাটিস্টিকস জানিয়েছে, ২০২২ সালে অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১০ লাখ। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জরিপকারী প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর মাইগ্রেশন স্টাডিজ সর্বশেষ হিসাব করেছে ২০২২ সালে সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২২ লাখ।
পিউ জানিয়েছে, এই বৃদ্ধি মূলত সীমান্ত পেরিয়ে আশ্রয়প্রার্থীদের প্রবেশ এবং বাইডেন সরকারের কিছু নীতি থেকে এসেছে, যার মধ্যে ছিল CBP One অ্যাপের মাধ্যমে সীমান্ত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা ও কিউবা, হাইতি, নিকারাগুয়া ও ভেনেজুয়েলার নাগরিকদের জন্য অস্থায়ী আইনি মর্যাদা প্রদান।
ট্রাম্প এই নীতিগুলো বন্ধ করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে আগে থেকেই অবস্থানকারী ঝুঁকিপূর্ণ দেশের নাগরিকদের জন্য বাইডেনের টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস সম্প্রসারণও প্রত্যাহারের চেষ্টা করছেন।
অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে মেক্সিকান নাগরিকই সর্বাধিক, যাদের সংখ্যা ২০২৩ সালে সামান্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩ লাখে। তবে সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি এসেছে অন্যান্য দেশ থেকে, যা ৬৪ লাখ থেকে দুই বছরে বেড়ে ৯৭ লাখে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি যেসব অঙ্গরাজ্যে তালিকার শীর্ষে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, ফ্লোরিডা, নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি ও ইলিনয়। তবে টেক্সাস দ্রুত ক্যালিফোর্নিয়ার কাছাকাছি চলে এসেছে। সাম্প্রতিক বৃদ্ধির পরও ২০০৭ সালের তুলনায় ছয়টি অঙ্গরাজ্যে সংখ্যা কম: অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া, নেভাদা, নিউ মেক্সিকো, নিউইয়র্ক ও ওরেগন।
পিউ-এর হিসাবে ২০২৩ সালে রেকর্ড ৯৭ লাখ অবৈধ অভিবাসী কর্মক্ষেত্রে যুক্ত ছিলেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের মোট শ্রমশক্তির ৫.৬ শতাংশ। নেভাদা, ফ্লোরিডা, নিউ জার্সি ও টেক্সাসে এর হার সর্বোচ্চ ছিল।
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
গুলির শব্দে হোয়াইট হাউস অবরুদ্ধ, সরিয়ে নেওয়া হলো সংবাদকর্মীদের
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি