৫ মে ২০২৬

যে কারণে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মাছ নিষিদ্ধ করলো যুক্তরাষ্ট্র?

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৮ পিএম
যে কারণে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মাছ নিষিদ্ধ করলো যুক্তরাষ্ট্র?
নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি: যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের ঘরে হিমযন্ত্রে (রেফ্রিজারেটর) রাখা বোয়াল পাবদা মাগুর ও শিং মাছ ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ইউনাইটেড ষ্টেটস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার এর অধিনস্ত ফুড সেফটি অ্যান্ড ইন্সপেকশন সার্ভিস (এফএসআইএস)। যারা ইতোমধ্যে যারা এসব মাছ কিনেছেন তারা যেন এ মাছগুলো না খান। এগুলো ছুঁড়ে ফেলা উচিত অথবা যেখান থেকে কেনা হয়েছে সেখানে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত। এফএসআইএস এর পরিদর্শন বিভাগ বলছে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত এসব মাছ রফতানির উপযুক্ত নয়। নিউ ইয়র্কের বাজার থেকে ৭৬ হাজার পাউন্ড আমদানি নিষিদ্ধ মাছ তুলে নেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল গত জুলাই মাসে। প্রিমিয়াম ফুডসের মালিকানাধীন, শাহজালাল ব্র্যান্ডের প্যাকেটে করে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার থেকে আমদানি করা এসব মাছ নি উইয়র্ক এবং আশপাশের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বিক্রি করা হতো। প্রিমিয়াম ফুডস মিথ্যা তথ্য দিয়ে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার থেকে আমদানি করা ৭৬ হাজার পাউন্ড ফ্রোজেন মাছ শাহজালাল ব্র্যান্ড নামে, নিউ ইয়র্ক ও তার আশপাশে সরবরাহ করে আসছিলো। গত ২৯ জুলাই নিউ ইয়র্ক পোস্টে শাহজালাল ব্র্যান্ডের ফ্রোজেন মাছের আমদানি নিষিদ্ধের খবর প্রকাশিত হলে, প্রবাসীদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় ওঠে। মূলত ক্যাটফিশ জাতীয় মাছ, যেমন বোয়াল, পাবদা, আইড়, বাতাশী, মাগুরসহ আঁশবিহীন মাছগুলোকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নিষিদ্ধ করে তাঁদের কৃষি দফতরের খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগ। বাংলাদেশ থেকে আমদানিকৃত বিপুল সংখ্যক মাগুর প্রজাতির মাছ ইতোমধ্যে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থা (এফএসআইএস)-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে আমদানিকৃত ৪০ হাজার পাউন্ড মাছের ব্যাপারে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। তবে এর বেশিরভাগই বাংলাদেশ থেকে কেনা হয়েছিল। এ নিয়ে এফএসআইএস-এর তরফে গত জুলাই থেকে এ পর্যন্ত মোট এক লাখ ৭১ হাজার পাউন্ডেরও বেশি এ প্রজাতির মাছের ব্যাপারে নেতিবাচক সিদ্ধান্ত এলো। এফএসআইএস থেকে বলা হয়েছে, মাগুর বা ক্যাটফিশ জাতীয় মাছ রফতানির অনুমোদন নেই বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের। এই দুই দেশ থেকে গত ২৬ মার্চ ২০১৮ থেকে ৮ মার্চ ২০১৯ সালের মধ্যে মাছগুলো আমদানি করা হয়েছে। পরে খুচরা বিক্রির জন্য এসব মাছের চালান গেছে কলোরাডো, কানেক্টিকাট, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, মিশিগান, নিউ জার্সিসহ নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশিদের গ্রোসারিতে। তবে এসব নিষিদ্ধ মাছের বিক্রি বন্ধ করতে কিছুদিন ধরে বিভিন্ন গ্রোসারিতে হানা দিচ্ছে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ এগ্রিকালচারাল ফুড সেফটি অ্যান্ড ইন্সপেকশন সার্ভিসেস। ফলে যেসব গ্রোসারির মালিকরা প্রিমিয়াম ফুড ইউএসএর কাছ থেকে শাহজালাল ব্রান্ডের মাছ কিনেছেন, তারা মাছ বিক্রি করতে না পেরে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে ক্যাটফিশ জাতীয় এসব মাছ চাষের সময় এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়। যদি ফ্রোজেন করা হয় তাহলে এসব মাছ মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে যেহেতু ফ্রোজেন করা ছাড়া মাছ আমদানির কোনো সুযোগ নেই, তাই ২০১৮ সালের শুরুতে এসব মাছ আমদানি নিষিদ্ধ করে ইউএসডিএ। আমদানিকৃত মাগুর প্রজাতির এসব মাছ প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়ায় মূলত ক্ষতিগ্রস্ত হবে হোলসেল চেইন প্রিমিয়াম ফুড ইউএসএ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশি-আমেরিকান মালিকানাধীন এ প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মাছ, সবজি ও স্ন্যাক্সের একটি শীর্ষস্থানীয় পরিবেশক ও পাইকারি বিক্রেতা। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থাটি বলছে, এসব মাছ পুনরায় পরিদর্শনের জন্য হাজির করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি অধুষ্যিত প্রায় ২০টি অঙ্গরাজ্যের খুচরা বিক্রেতাদের কাছে এসব সরবরাহ করেছে প্রিমিয়াম ফুডস ইউএসএ। এখন এসব মাছ প্রত্যাহারের নোটিস পেয়ে প্রতিষ্ঠানটি এর প্রক্রিয়া শুরু করলেও এফএসআইএস আশংকা করছে এ মাছগুলো এখনও ভোক্তাদের রেফ্রিজারেটরে রয়ে গেছে। যারা ইতোমধ্যেই এসব মাছ কিনে ফেলেছেন তাদের প্রতি অনুরোধ তারা যেন এগুলো না খান। এগুলো ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া কিংবা ক্রয়কৃত দোকানে ফেরত দেওয়া উচিত। বিপি।সিএস
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি