ট্রাম্পের নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রাপ্তির চাপ ক্রমেই বাড়ছে

কৌশলী ইমা: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জনের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী সমর্থন জোগাড় করছেন- পাকিস্তান, কম্বোডিয়া, ইসরায়েল এবং রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের মনোনয়ন পাচ্ছেন তিনি, বিভিন্ন বৈশ্বিক সংঘাতের সমাধান প্রচেষ্টায় তার ভূমিকা তুলে ধরে।
আগামী শুক্রবার হতে পারে ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক পরীক্ষা, যখন তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা করতে একটি বিষয় যা তিনি দুই প্রতিপক্ষের মধ্যে সমাধান করতে হিমশিম খাচ্ছেন।
তবে অন্য দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে ট্রাম্প কিছুটা সাফল্য পেয়েছেন। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত একটি মার্কিন-সমন্বিত শান্তি সম্মেলনে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের নেতারা, যারা দশক ধরে সীমান্ত নিয়ে যুদ্ধ করছে, ট্রাম্পের যৌথ মনোনয়নের প্রস্তাব দেন।
হোয়াইট হাউস প্রকাশ্যে বলছে, এখনই সময় ট্রাম্প এই পুরস্কার পাওয়ার। ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসন এই বিষয়ে 'খুবই সিরিয়াস', এবং 'যোগ্যতার বিচারে বিষয়টি যথেষ্ট স্পষ্ট। সমর্থকদের তালিকা বাড়ছে।
পাকিস্তান মে মাসে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি মধ্যস্থতার জন্য ট্রাম্পকে মনোনয়ন দেয়। কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের মধ্যে আরেকটি সংঘাতের অবসানের পর কম্বোডিয়া এ মাসেও ট্রাম্পকে মনোনয়নের ঘোষণা দেয়।
মার্চে কংগ্রেসম্যান ড্যারেল ইসা (আর-ক্যালিফোর্নিয়া) এবং জুনে কংগ্রেসম্যান বাডি কার্টার (আর-জর্জিয়া) ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যস্থতার জন্য ট্রাম্পকে মনোনয়ন দেন।
নরওয়ের নোবেল কমিটি প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা ব্যক্তি বা সংস্থাকে এই পুরস্কার প্রদান করে।
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদের এক সাবেক সহকারী জানান, সিনিয়র স্টেট ডিপার্টমেন্ট কর্মকর্তারা নোবেল শান্তি পুরস্কার সবসময় মাথায় রাখেন, যা তাদের নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলে।
সাবেক সহকারী বলেন, 'এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে এখন চাপ বেড়েছে। ট্রাম্প মনে করেন এই পুরস্কার হবে ইতিহাসে তার উত্তরাধিকারের চূড়ান্ত স্বীকৃতি।
কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত এই সপ্তাহে মনোনয়নের ঘোষণায় ট্রাম্পের 'বিশ্ব শান্তি অগ্রগতিতে ঐতিহাসিক অবদান”-এর প্রশংসা করেন। পাকিস্তানও তাকে 'বাস্তববাদী কূটনীতি ও কার্যকর শান্তি প্রতিষ্ঠা'-এর জন্য প্রশংসা করেছে। তবে ভারত বলেছে, তাদের সামরিক সিদ্ধান্তে ট্রাম্পের কোনো ভূমিকা ছিল না।
হোয়াইট হাউসের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো জুলাইয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতি পুনর্গঠনে ট্রাম্পের সাহসী শুল্কনীতির জন্যও তিনি নোবেল পাওয়ার যোগ্য।
নিজেও ট্রাম্প বলেন, রুয়ান্ডা ও কঙ্গোর মধ্যে সংঘাত শেষ করার চুক্তির পর তিনি এই পুরস্কারের দাবিদার।
তবে রাশিয়া-ইউক্রেন ও ইসরায়েল-হামাস বিশ্বের দুই বড় সংঘাতে এখনো সাফল্য পাননি ট্রাম্প, যদিও তিনি তার দরকষাকষির দক্ষতা নিয়ে উচ্চ প্রত্যাশা তৈরি করেছিলেন। ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান না করতে পারায় তিনি হতাশ, যদিও নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি 'প্রথম দিনেই' শান্তি আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
শুক্রবার আলাস্কায় ট্রাম্প-পুতিন বৈঠককে হোয়াইট হাউস মাঝে মাঝে 'শুনানি সভা' হিসেবে বর্ণনা করেছে, এবং কোনো নির্দিষ্ট সাফল্যের পূর্বাভাস দেয়নি।
ইসরায়েল প্রসঙ্গে, সম্প্রতি গাজায় দুর্ভিক্ষের কথা স্বীকার করে ট্রাম্প বিরলভাবে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মতবিরোধ প্রকাশ করেন এবং সাহায্য বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। নেতানিয়াহু জুলাইয়ে হোয়াইট হাউস সফরে নোবেল কমিটিতে পাঠানো একটি চিঠি ট্রাম্পকে উপহার দেন, যেখানে লেখা ছিল, 'আপনি এই পুরস্কারের যোগ্য, এবং এটি পাওয়া উচিত।' তবে গাজার যুদ্ধ ও ইউক্রেন সংঘাতে বছরের বিভিন্ন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ভেঙে পড়েছে।
ট্রাম্পের নোবেল চাওয়ার বিষয়ে কেউ কেউ সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। সমালোচকরা বলছেন, তিনি নোবেলের প্রতি আসক্ত, অথচ নতুন নেতৃত্বের ধারা প্রদর্শনের দাবি করেন।
ইতিহাসে মাত্র কয়েকজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই পুরস্কার পেয়েছেন — উড্রো উইলসন (১৯২০), থিওডোর রুজভেল্ট (১৯০৬), জিমি কার্টার (২০০২), বারাক ওবামা (২০০৯)। এছাড়া আল গোর ২০০৭ সালে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কাজের জন্য এই পুরস্কার পান।
এনওয়াইইউ-এর অধ্যাপক মার্ক সিগেল এই সপ্তাহে একটি মতামত নিবন্ধে বলেন, কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা 'অপারেশন ওয়ার্প স্পিড'-এর জন্যও ট্রাম্পের পুরস্কার পাওয়া উচিত।
হোয়াইট হাউস শুক্রবার আর্মেনিয়া-আজারবাইজান শান্তিচুক্তি ঘোষণা করে, যা দক্ষিণ ককেশাসের দশকব্যাপী সংঘাতের অবসান ঘটায়, এবং দুই দেশের নেতারাও নোবেল মনোনয়নে ট্রাম্পকে সমর্থন জানান।
তাদের মতে, ট্রাম্পের সরাসরি সম্পৃক্ততা ও কূটনৈতিক প্রভাব বহু পুরনো যুদ্ধের অবসানে সহায়ক হয়েছে, যা তাকে “পিসমেকার-ইন-চিফ” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
তবে বাইডেন প্রশাসনের এক সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, এসব চুক্তির অধিকাংশ ভিত্তি পূর্ববর্তী প্রশাসন তৈরি করেছিল, আর ট্রাম্প কেবল শেষ মুহূর্তে এসে কৃতিত্ব নিতে চান।
[বাংলা প্রেস বিশ্বব্যাপী মুক্তচিন্তার একটি সংবাদমাধ্যম। স্বাধীনচেতা ব্যক্তিদের জন্য নিরপেক্ষ খবর, বিশ্লেষণ এবং মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজ আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।] বিপি। সিএসআপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
গুলির শব্দে হোয়াইট হাউস অবরুদ্ধ, সরিয়ে নেওয়া হলো সংবাদকর্মীদের
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি