ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ 'জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব' নিয়ে আদালতে লড়াই
বাংলা প্রেস
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪২ পিএম
আবু সাবেত: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিল নিয়ে আদালতে লড়াই শুরু হয়েছে। জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার নির্বাহী আদেশের পক্ষে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
ওয়াশিংটন, অ্যারিজোনা, ইলিনয়, এবং ওরেগন রাজ্য থেকে দায়ের করা একটি মামলায় এই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে এটি স্থগিত রাখার আবেদন জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) আদালতে উপস্থিত হয়ে সিয়াটলের ফেডারেল কোর্টরুমে সকাল ১০টা (প্যাসিফিক টাইম) থেকে শুনানি শুরু করেন।
ট্রাম্পের এই আদেশটি যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্মগ্রহণকারী সকলের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি সীমিত করে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং গ্রিন কার্ডধারীদের সন্তানদের জন্য।
১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী প্রায় সবাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব লাভ করে। তবে নতুন আদেশে এ বিধানকে সাংবিধানিকভাবে চ্যালেঞ্জ করার চেষ্টা করা হয়েছে।
১৮৫৭ সালের ড্রেড স্কট মামলার সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া হিসেবে সংবিধানের এই সংশোধনীটি তৈরি হয়েছিল, যা বলেছিল যে দাসদের বংশধররা নাগরিক নন। সংশোধনীটি শুরু হয় এই বাক্যে:
'যে সকল ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছেন বা স্বাভাবিকভাবে নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন এবং এখানকার আইনগত অধিকারাধীনের অন্তর্ভুক্ত, তারা যুক্তরাষ্ট্র এবং তারা যেখানে বসবাস করেন সেই রাজ্যের নাগরিক।'
চার রাজ্যের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট বা ফেডারেল এজেন্সিগুলোর সংবিধান অনুসারে এই ধরনের শর্ত আরোপ করার অধিকার নেই।
তারা লিখেছেন,প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ফেডারেল সরকার ড্রেড স্কটের মতো আধুনিক সংস্করণ আরোপ করতে চায়। কিন্তু সংবিধানে কোথাও এই ধরনের শর্ত আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।'
ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে কার্যকর হওয়ার আগে এই আদেশটি আটকানোর জন্য আবেদন করা হয়েছে। এটি পাঁচটি মামলার মধ্যে একটি, যেখানে ডেমোক্র্যাট অ্যাটর্নি জেনারেল এবং অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো একে অসাংবিধানিক হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
রাজ্যের আইনজীবীদের দাবি এই আইনি লড়াই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নতুন প্রশাসনের এজেন্ডার বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি বিরোধের সূচনা হতে পারে। ট্রাম্পের আদেশ কার্যকর হলে আর্থিক ক্ষতি এবং নতুন 'আন্ডারক্লাস' তৈরি হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার আদেশ কার্যকর হলে, এটি মেডিকেইড এবং চিলড্রেনস হেলথ ইনশুরেন্স প্রোগ্রাম (সিএইচআইপি)-এর মতো ফেডারেল অর্থায়িত কর্মসূচির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে রাজ্যের আইনজীবীরা দাবি করেছেন।
আইনজীবীরা বলেছেন, আদেশটি কার্যকর হলে রাজ্যগুলোর "বিরাট আর্থিক ক্ষতি" হবে। পাশাপাশি, এই পরিবর্তন অনুযায়ী এই কর্মসূচিগুলো পরিচালনার জন্য রাজ্যগুলোকে অবিলম্বে তাদের প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তন করতে হবে।
তারা আরও যুক্তি দিয়েছেন,অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা না থাকলে, মামলাকারী রাজ্যগুলোতে জন্ম নেওয়া শিশুরা দ্রুত অনথিভুক্ত হয়ে পড়বে, নির্বাসন বা আটকাদেশের মুখোমুখি হবে এবং অনেকেই রাষ্ট্রবিহীন হয়ে পড়বে।
শিশুরা ভ্রমণের অধিকার হারাবে, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর (SSN) পাবে না এবং তারা বড় হলে বৈধভাবে কাজ করার সুযোগও হারাবে। ভোটাধিকার, জুরি বোর্ডে অংশগ্রহণ এবং নির্দিষ্ট সরকারি পদে প্রার্থী হওয়ার অধিকার থেকেও তারা বঞ্চিত হবে। এর ফলে তারা একটি নতুন প্রেসিডেন্ট-সৃষ্ট 'আন্ডারক্লাস'-এর অংশ হয়ে যাবে, যা তাদের জীবনে অনিশ্চয়তা ও অস্থিতিশীলতা নিয়ে আসবে।”
ন্যায়বিচার বিভাগের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছেন যে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার আদেশ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসন ব্যবস্থা সংশোধন এবং দক্ষিণ সীমান্তে চলমান সঙ্কট মোকাবেলার প্রচেষ্টার একটি 'অবিচ্ছেদ্য অংশ'।
তারা আরও দাবি করেছেন যে, এই আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের রয়েছে এবং রাজ্যগুলোর এই মামলার পক্ষে দাঁড়ানোর বৈধ অধিকার নেই।
বিচার বিভাগের আইনজীবী ব্র্যাড রোজেনবার্গ বলেন, 'ফেডারেল সরকার কাকে নাগরিকত্ব দেবে বা দেবে না, সেই বিষয়ে রাজ্যগুলোর কোনো আইনগত স্বার্থ নেই। অর্থনৈতিক সুবিধা বা ক্ষতি, যা নাগরিকত্বের সাথে সম্পৃক্ত, তা আইনগতভাবে স্বীকৃত নয়।'
রোজেনবার্গ দাবি করেছেন যে, সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী ১০০ বছরের বেশি সময় ধরে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। প্রচুর ঐতিহাসিক প্রমাণ রয়েছে যে, অনিবাসী বিদেশিদের সন্তানরা বিদেশি ক্ষমতার অধীনস্থ এবং তাই তারা যুক্তরাষ্ট্রের আইনি অধিকারাধীন নয় এবং জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকারী নয়।
বিচারক জন সি. কফেনওয়ার বৃহস্পতিবার শুনানির সময় তাত্ক্ষণিক সিদ্ধান্ত দিতে পারেন অথবা পরে লিখিত রায় ঘোষণা করতে পারেন।
তবে এই মামলার যে কোনো সিদ্ধান্ত বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিপি।এসএম
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তর্জাতিক
দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা বৈঠকে বসেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ও সর্বোচ্চ নেতা
৭ ঘন্টা আগে
by বাংলা প্রেস
আন্তর্জাতিক
সৌদির আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞার পর হরমুজে নৌ অভিযান স্থগিত ট্রাম্পের
৭ ঘন্টা আগে
by বাংলা প্রেস
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি