৫ মে ২০২৬

ট্রাম্পের এমআরআই স্ক্যানের গোপনীয়তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৫৩ পিএম
ট্রাম্পের এমআরআই স্ক্যানের গোপনীয়তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন

মিনারা হেলেন: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি হঠাৎ করে একটি এমআরআই স্ক্যান করিয়েছেন যা তার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত গোপনীয়তা ও প্রেসিডেন্টদের স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট এবং তার সহকারীরা দীর্ঘদিন ধরে তাকে শক্তি ও উদ্যমের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করে আসছেন।
এই মাসের শুরুতে ট্রাম্প ওয়াল্টার রিড সামরিক চিকিৎসাকেন্দ্রে যান, যাকে হোয়াইট হাউস রুটিন ফলো-আপ বলে উল্লেখ করে। তবে এটি ছিল গত ছয় মাসে তার দ্বিতীয় সফর।
তার চিকিৎসকের নোটে বলা হয়, ট্রাম্প সামগ্রিকভাবে চমৎকার স্বাস্থ্য-তে আছেন।
পরে ট্রাম্প নিজেই জানান, দ্বিতীয় শারীরিক পরীক্ষার সময় তিনি এমআরআই এবং কগনিটিভ টেস্ট করিয়েছেন। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমি এমআরআই করেছি, ফল ছিল একদম নিখুঁত।
প্রেসিডেন্ট এমআরআই করার কারণ ব্যাখ্যা করেননি, এবং হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটও অতিরিক্ত কোনো তথ্য দেননি।
হোয়াইট হাউসের সাবেক চিকিৎসক জেফ্রি কুলম্যান, যিনি তিনজন প্রেসিডেন্টের অধীনে কাজ করেছেন এবং রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার রূপান্তর  বইয়ের লেখক বলেন, ৭৯ বছর বয়সী কারো জন্য দ্বিতীয়বার চেকআপ করানো অস্বাভাবিক নয়, এবং প্রেসিডেন্টদের উন্নত ইমেজিং পরীক্ষার জন্য ওয়াল্টার রিডে যাওয়া সাধারণ বিষয়।
কুলম্যান বলেন, অধিকাংশ চিকিৎসা হোয়াইট হাউসেই করা যায়,শুধু উন্নত ইমেজিংয়ের জন্যই ওয়াল্টার রিডে যেতে হয়।
তবে তিনি ট্রাম্পের চিকিৎসক শন বারবাবেলার প্রকাশিত সময়সূচি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এমআরআই ছাড়া অন্যান্য পরীক্ষা হোয়াইট হাউসের ডাক্তারদের অফিসেই ১৫ মিনিটের কম সময়ে করা যেত।
কুলম্যান বলেন, হোয়াইট হাউস থেকে ওয়াল্টার রিডে হেলিকপ্টারে যেতে আট মিনিট লাগে। অর্থাৎ তার অন্তত চার ঘণ্টা চিকিৎসার সময় ছিল। সেখানে একটা অসঙ্গতি আছে।
প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য তথ্য গোপন রাখা নতুন কিছু নয়, এবং এ বিষয়ে কোনো আইনি বাধ্যবাধকতাও নেই।
তবে ইতিহাসজুড়ে প্রেসিডেন্টরা নানা অসুস্থতা গোপন করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, প্রেসিডেন্ট গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড মুখের ক্যান্সার অপারেশন গোপন রাখতে ইয়টে করে গোপন অস্ত্রোপচার করেন। প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন ১৯১৯ সালে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে বাকিটা সময় শয্যাশায়ী ছিলেন, তখন কার্যত তার স্ত্রীই প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। আর প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির প্রশাসন তার গুরুতর অ্যাডিসনস ডিজিজসহ অন্যান্য অসুস্থতা গোপন রেখেছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রেসিডেন্টদের চিকিৎসক বা সহকারীদের সৎ থাকার তেমন কোনো প্রণোদনা নেই কারণ তাদের চাকরি প্রেসিডেন্টের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে।
বাইডেন প্রশাসনকেও একই ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে বিশেষ করে তার মানসিক সক্ষমতা নিয়ে বিতর্কের পর। বিতর্কে ব্যর্থতার পর ডেমোক্র্যাটরা তাকে পুনর্নির্বাচন না করার পরামর্শ দেয়। পরে জানা যায়, বাইডেন প্রোস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত।
ট্রাম্পের স্বাস্থ্য ইতিহাস বরাবরই রহস্যে ঘেরা। সমালোচকরা বলছেন, তিনি সবসময় শক্তির প্রদর্শনের আড়ালে বাস্তব তথ্য গোপন করেন।
মাউন্ট সিনাই মেডিকেল স্কুলের মনোরোগবিদ্যা অধ্যাপক ও প্রেসিডেন্টিয়াল হেলথ ইতিহাসবিদ জ্যাকব অ্যাপেল বলেন, তথ্য বেছে বেছে প্রকাশ করা বা রাজনৈতিকভাবে ঘুরিয়ে দেওয়া জনস্বার্থে আসে না। যদি কোনো জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি না থাকে, তাহলে অন্তত প্রেক্ষাপট বোঝার মতো তথ্য জনগণকে দেওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, যদি আপনি বলেন প্রেসিডেন্ট এমআরআই করেছেন, তবে আমাদের জানা উচিত সেটি কেন করা হয়েছে। আমরা জানি না কোন অঙ্গের জন্য পরীক্ষা করা হয়েছে এটি মস্তিষ্ক, হৃদয় বা পা যেকোনো কিছু হতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এস. জে. ওলশানস্কি বলেন, জনগণ কেবল সেই তথ্যই জানতে পারে যা হোয়াইট হাউস প্রকাশ করতে চায়। প্রেসিডেন্টরাও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য তথ্য গোপন রাখার অধিকার রাখেন।
সম্প্রতি অনলাইনে ট্রাম্পের ফোলা পা ও মেকআপে ঢাকা হাতের ছবি ছড়িয়ে পড়ায় নতুন করে নজর পড়ে। পরে হোয়াইট হাউস জানায়, তিনি 'ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিসিয়েন্সি'-তে ভুগছেন এবং হাতের দাগ অতিরিক্ত করমর্দনের কারণে হয়েছে।
২০২০ সালের শরতে ট্রাম্প কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হলেও প্রশাসন শুরুতে তা গোপন রাখে এবং পরে রোগের মাত্রা লঘু করে উপস্থাপন করে। তিনি পরীক্ষাধীন একটি ওষুধ নিয়ে সুস্থ হন।
২০১৫ সালে তার চিকিৎসক হ্যারল্ড বর্নস্টেইনের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে লেখা হয়েছিল, ট্রাম্প 'যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে সুস্থ প্রেসিডেন্ট হবেন।' দুই বছর পর বর্নস্টেইন স্বীকার করেন, চিঠিটি ট্রাম্প নিজেই লিখে দিয়েছিলেন।
বিপি।এসএম

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি