৭ মে ২০২৬

ট্রাম্পের আদেশ আটকে গেল কেন্দ্রিয় আদালতে

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪২ পিএম
ট্রাম্পের আদেশ আটকে গেল কেন্দ্রিয় আদালতে
  ছাবেদ সাথী: যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রিয় ডিস্ট্রিক্ট বিচারক জন সি. কফেনওয়ার বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করেন। এই আদেশটি জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক অধিকার শেষ করার চেষ্টা করছিল। যা পিতামাতার অভিবাসন স্থিতির ওপর নির্ভর করে না। কফেনওয়ার এই রায়টি ওয়াশিংটন, অ্যারিজোনা, ইলিনয় এবং ওরেগন রাজ্যের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে দেন। মামলাগুলোতে যুক্তি দেখানো হয়েছে যে সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী এবং সুপ্রিম কোর্টের মামলাগুলোর রায় জন্মসূত্রে নাগরিকত্বকে সুসংহত করেছে। মামলার পটভূমি এই মামলাটি ২২টি রাজ্য এবং একাধিক অভিবাসী অধিকার গোষ্ঠীর দ্বারা দায়ের করা পাঁচটি মামলার একটি অংশ। মামলাগুলোতে এমন আইনজীবীদের ব্যক্তিগত সাক্ষ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যারা জন্মসূত্রে নাগরিক এবং গর্ভবতী নারীদের কথা বলা হয়েছে যারা তাদের সন্তানের নাগরিকত্ব হারানোর ভয়ে রয়েছেন। মামলায় বলা হয়েছে 'এই আদেশটি কার্যকর হলে, এটি যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কয়েক লক্ষ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলবে।' সংবিধান এবং জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ১৯ ফেব্রুয়ারি কার্যকর হওয়ার জন্য নির্ধারিত ট্রাম্পের আদেশটি যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক অধিকারকে চ্যালেঞ্জ করে। যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৩০টি দেশের মধ্যে একটি যেখানে জুস সোলি (jus soli) বা 'মাটির অধিকার'-এর ভিত্তিতে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়। এই দেশগুলোর বেশিরভাগ আমেরিকাস মহাদেশে অবস্থিত। কানাডা এবং মেক্সিকোও এই নীতিটি প্রয়োগ করে। বাচ্চাদের নাগরিকত্বের ওপর প্রভাব মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে, প্রায় ২৫৫,০০০ শিশুর জন্ম হয়েছিল, যাদের মা অবৈধ অভিবাসী ছিলেন। এর মধ্যে প্রায় ১,৫৩,০০০ শিশুর বাবা-মা উভয়ই অবৈধ অভিবাসী ছিলেন।এই আদেশ বাস্তবায়ন হলে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এই শিশুরা নাগরিকত্ব হারাতে পারে। মামলাগুলো যুক্তি দিয়েছে যে মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী জন্মসূত্রে এবং প্রাকৃতিকীকরণের মাধ্যমে নাগরিকত্বের গ্যারান্টি দেয় এবং গত শতাব্দী ধরে রাজ্যগুলো এই সংশোধনীকে সেইভাবেই ব্যাখ্যা করেছে। ১৪তম সংশোধনী ১৮৬৮ সালে গৃহযুদ্ধের পর অনুমোদন (Ratify) হওয়া এই সংশোধনী বলে: যে সকল ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছেন বা প্রাকৃতিকীকরণ প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের আইনি কর্তৃত্বাধীন, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও যেখানে বসবাস করেন সেই রাজ্যের নাগরিক। ট্রাম্পের আদেশ এবং যুক্তি ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ দাবি করে যে, অ-নাগরিক পিতামাতার সন্তানরা যুক্তরাষ্ট্রের আইনি কর্তৃত্বাধীন নয়। ফলে যেসব সন্তানের অন্তত একজন পিতামাতা নাগরিক নয় তাদের জন্য ফেডারেল সংস্থা নাগরিকত্ব স্বীকার করবে না। ১৮৯৮ সালের গুরুত্বপূর্ণ মামলা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে একটি মূল মামলা হলো ওং কিম আর্ক (Wong Kim Ark) মামলাটি। সুপ্রীম কোর্টের রায়ে বলা হয় সান ফ্রান্সিসকোতে চীনা অভিবাসীদের সন্তান হিসেবে জন্মগ্রহণকারী ওং কিম আর্ক যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন। তিনি বিদেশ সফর শেষে চাইনিজ এক্সক্লুশন অ্যাক্ট এর আওতায় নাগরিকত্বের অস্বীকৃতির মুখোমুখি হন। সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে, যেহেতু তিনি যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছেন, তাই তিনি নাগরিক। কিছু অভিবাসন সীমাবদ্ধতার পক্ষে সমর্থকরা দাবি করেন যে, এই রায়টি মূলত বৈধ অভিবাসীদের সন্তানদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তবে অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য কি না তা পরিষ্কার নয়। ব্যক্তিগত সংযোগ ট্রাম্পের আদেশের বিরুদ্ধে মামলার অংশ হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেলরা তাদের ব্যক্তিগত সংযোগ শেয়ার করেছেন। উদাহরণস্বরূপ-কানেকটিকাট অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম টং, যিনি জন্মসূত্রে নাগরিক এবং প্রথম চীনা-আমেরিকান নির্বাচিত অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন যে এই মামলা তার জন্য ব্যক্তিগত। টং বলেন,'এই প্রশ্নে কোনও বৈধ আইনি বিতর্ক নেই। কিন্তু ট্রাম্প যে পুরোপুরি ভুল তা তাকে আমেরিকান পরিবারের ওপর তাৎক্ষণিক ক্ষতি করা থেকে বিরত রাখতে পারবে না। গর্ভবতী নারীর মামলা মামলাগুলোর একটিতে “কারমেন” নামক একজন গর্ভবতী নারীর ঘটনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি নাগরিক নন, তবে ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তার একটি পেন্ডিং ভিসা আবেদন রয়েছে, যা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দিতে পারে। বিপি।এসএম
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি