৫ মে ২০২৬

ট্রাম্পের ৮০০ কোটি ডলারের তহবিল ফুরিয়ে আসায় সেনাবাহিনীর বেতন সংকটে কংগ্রেস

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৫, ১০:১৫ পিএম
ট্রাম্পের ৮০০ কোটি ডলারের তহবিল ফুরিয়ে আসায় সেনাবাহিনীর বেতন সংকটে কংগ্রেস

ইমা এলিস: সরকারি অচলাবস্থা চলতে থাকায় সেনাসদস্যদের বেতন দেওয়ার পরবর্তী ব্যবস্থা খুঁজে বের করার সময় ফুরিয়ে আসছে। ট্রাম্প প্রশাসন যে ৮০০ কোটি ডলার খুঁজে বের করেছিল সেনাদের বেতন দিতে, তা মাসের শেষে শেষ হয়ে যাবে।
বৃহস্পতিবার সেনেট ডেমোক্র্যাটরা সিনেটর রন জনসন (উইসকনসিন-রিপাবলিকান)-এর বিলটি নাকচ করে দিয়েছেন, যা অচলাবস্থার সময় সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সেনা ও কর্মরত ফেডারেল কর্মীদের বেতন নিশ্চিত করত। এর ফলে সেনা, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা ৩১ অক্টোবরের বেতন নাও পেতে পারেন।
সরকারি অচলাবস্থার চার সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কোনো সমাধান না আসায় প্রশাসনকে এখন নতুন করে তহবিল জোগাড়ের উপায় খুঁজতে হবে, যদি কংগ্রেস সময়মতো ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়।
ভার্জিনিয়া-রিপাবলিকান প্রতিনিধি ও সাবেক নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার পাইলট জেন কিগানস বলেন, আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞ যে তিনি এখন পর্যন্ত সেনাসদস্যদের বেতন দিয়েছেন, তবে আমি উদ্বিগ্ন যে অক্টোবরের শেষে সেই অর্থ ফুরিয়ে যাবে এবং আমাদের সেনারা সময়মতো বেতন পাবেন না। তিনি সম্প্রতি 'পে আওয়ার ট্রুপস অ্যাক্ট' নামে একটি স্বতন্ত্র বিল উত্থাপন করেছেন। তবে সেই বিল তেমন অগ্রগতি পায়নি।
১১ অক্টোবর ট্রাম্প প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে নির্দেশ দেন, যাতে গবেষণা, উন্নয়ন, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন (আরডিটি অ্যান্ড ই )-এর জন্য বরাদ্দ ৮০০ কোটি ডলার থেকে সেনাদের মধ্যমাসের বেতন দেওয়া হয়।
তবে ওই চক্রে প্রায় ৬৫০ কোটি ডলার খরচ হয়ে যায়, ফলে ৩১ অক্টোবরের বেতন চক্রের জন্য অবশিষ্ট থাকে মাত্র ১৫০ কোটি ডলার, যেখানে বেতন দিতে লাগবে ৬০০–৭০০ কোটি ডলার এমনটি জানিয়েছেন আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো টড হ্যারিসন।
হ্যারিসন বলেন, আমার জানা অনুযায়ী, আরডিটি অ্যান্ড ই অ্যাকাউন্ট থেকে নেওয়া অর্থ শুধু ১৫ অক্টোবরের বেতন চক্র কাভার করার মতোই ছিল। 
তিনি আরও জানান, আগের বছরের কিছু অ্যাকাউন্টে থাকা অতিরিক্ত অর্থ থেকে কিছুদিনের জন্য বেতন দেওয়া সম্ভব, তবে শেষ পর্যন্ত এটা আসলে এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্যটিতে অর্থ স্থানান্তরের মতোই। সরকারি অর্থায়ন পুনরায় চালু হলে, এই অর্থগুলো আবার মূল অ্যাকাউন্টে ফিরিয়ে দিতে হবে।
পেন্টাগন জানায়নি যে তারা অন্য কোনো উৎস থেকে বেতন তহবিলের ব্যবস্থা চিহ্নিত করেছে কি না।
এই আসন্ন সময়সীমা কংগ্রেসের দুই দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার ৫৪-৪৫ ভোটে সিনেটর জনসনের প্রস্তাবটি অগ্রসর হওয়ার অনুমোদন পায়নি।
জর্জিয়ার দুই ডেমোক্র্যাট সিনেটর, জন অসফ ও রাফায়েল ওয়ারনক, এবং পেনসিলভানিয়ার জন ফেটারম্যান রিপাবলিকান প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। 'শাটডাউন ফেয়ারনেস অ্যাক্ট' নামে পরিচিত এই প্রস্তাবটি পাসের জন্য ৬০ ভোট প্রয়োজন ছিল।
যদিও সরকারি কর্মীরা সরকার পুনরায় খোলার পর বকেয়া বেতন পাওয়ার নিশ্চয়তা পান, বিলটি তাদের কিছুটা স্বস্তি দিতে পারত।
কিন্তু ডেমোক্র্যাটরা মনে করেন, এই বিল রিপাবলিকানদের ওপর আলোচনার চাপ কমাবে এবং অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত করবে। সেনেট ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার বলেন, এই বিলটি একটি ছলনা। এটি হোয়াইট হাউসকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেবে ঠিক করার যে কারা বেতন পাবে আর কারা পাবে না।
তিনি আরও বলেন, আমরা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মানুষের জীবিকা নিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ দেব না।
ডেমোক্র্যাটরা বরং সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেনের প্রস্তাব সমর্থন করেন, যা অচলাবস্থায় সব ফেডারেল কর্মীদের বেতন দিত। কিন্তু সেই প্রস্তাবও বৃহস্পতিবার আটকে যায়।
ভ্যান হলেন বলেন, রিপাবলিকানরা ট্রাম্পকে এখানেও বিজয়ী ও পরাজিত নির্ধারণের ক্ষমতা দিতে চায়। অথচ প্রতিটি ফেডারেল কর্মী, সেনাসদস্য এবং ঠিকাদার বেতন পাওয়ার যোগ্য।
সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল বলেন, আমরা শুধু সামরিক কর্মীদের নয়, বরং সব জরুরি কর্মী যেমন আইসিই, টিএসএ ও বিমান নিয়ন্ত্রকদের বেতন দিতে চাই, প্রেসিডেন্টের পছন্দ অনুযায়ী নয়।'
এদিকে সেনেট বৃহস্পতিবার বিকেলে ছুটিতে যাচ্ছে এবং ট্রাম্প শুক্রবার এশিয়া সফরে যাচ্ছেন, ফলে দ্রুত কোনো সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা কম।
যখন সাংবাদিকরা জনসনকে জিজ্ঞাসা করেন, ৩১ অক্টোবরের আগে যদি সেনাদের বেতন না দেওয়া যায় তবে বিকল্প কী, তিনি বলেন, 'ট্রাম্পের হাতে সীমিত সুযোগ আছে তিনি রাজা নন।
তিনি যোগ করেন, আমার ধারণা, এই অর্থের উৎসগুলোও শিগগির ফুরিয়ে আসবে। তাই বিষয়টি এখনই সমাধান করা জরুরি।
গত সপ্তাহে রিপাবলিকান সিনেট মেজরিটি লিডার জন থুন প্রতিরক্ষা বিভাগের জন্য আলাদা তহবিল বিল পাসের চেষ্টা করেন, কিন্তু ডেমোক্র্যাটরা তা আটকে দেন।
আগামী সপ্তাহে রিপাবলিকানরা সেনাসদস্য, বিমান নিয়ন্ত্রক ও টিএসএ কর্মীদের বেতন, এবং ১ নভেম্বরের আগে বন্ধ হয়ে যেতে পারে এমন খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি (স্ন্যাপ)-এর তহবিল পুনর্বহালের জন্য ভোট আনার চেষ্টা করতে পারে।

বিপি/এসএম

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি