৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন নির্মাণে ৬.৩২ কোটি টাকা আত্মসাতের সত্যতা পেল দুদক

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন নির্মাণে ৬.৩২ কোটি টাকা আত্মসাতের সত্যতা পেল দুদক

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন নির্মাণ প্রকল্পে প্রায় ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক ইসমাঈল হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থল ও গণপূর্ত অধিদপ্তরে অভিযান চালিয়ে এসব অনিয়ম শনাক্ত করে।

দুদক জানায়, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর অধীনে প্রকল্পটির কাজে টেন্ডার কারসাজি, প্যাকেজ বিভাজনে অনিয়ম এবং কাজ না করেই বিল তুলে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (এনডিইএল) আটটি সাব-ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজটি করায়।

তদন্তে দেখা যায়, অন্তত চারটি প্যাকেজে কাজের কোনো ভৌত অস্তিত্ব, চুক্তিপত্র বা পরিমাপ বই নেই। অর্থাৎ, কোনো কাজ না করেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এ অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রধানত দায়ী করা হয়েছে।

দুদক জানায়, ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জন্য রেকর্ড ভবন নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের মূলধন অংশের ‘অনাবাসিক ভবন’ খাতে সিসিজিপি অনুমোদিত একমাত্র ডব্লিউ-১ প্যাকেজের কার্যাদেশ ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডকে (এনডিইএল) দেওয়া হয়। এর মূল্য ছিল ১ হাজার ৫৫৭ কোটি ৪ লাখ টাকা।

তবে ডিপিপি, আরডিপিপি কিংবা হোপের অনুমোদন ছাড়াই ২০২৩-২৪ অর্থবছরে একই খাতে আরও আটটি প্যাকেজ সৃষ্টি করা হয়। পরে ই-জিপির মাধ্যমে এসব প্যাকেজের কার্যাদেশ বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়। এসব প্যাকেজের বিপরীতে মোট ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

এনফোর্সমেন্ট টিমের সরেজমিন তদন্তে আটটি প্যাকেজের মধ্যে ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর কাজের কোনো ভৌত অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এমনকি এসব কাজের সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্র কিংবা পরিমাপ বইও পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, ১, ২, ৩ ও ৮ নম্বর প্যাকেজের কাজের অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও এসব কাজ মূলত এনডিইএল কর্তৃক সম্পাদিত হয়েছে বলে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের এনফোর্সমেন্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল ডব্লিউ-১ প্যাকেজের কাজ বিধিবহির্ভূতভাবে আটটি প্যাকেজে বিভাজন করে ই-জিপির মাধ্যমে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। অধিকাংশ কাজের বাস্তব অস্তিত্ব না থাকা সত্ত্বেও বিল পরিশোধের মাধ্যমে সরকারি অর্থের ক্ষতিসাধন ও আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।

এ ঘটনায় তৎকালীন ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামানকে মূলত দায়ী করা হয়েছে বলে এনফোর্সমেন্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তার বক্তব্য বা ব্যাখ্যা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

বিপি/টিআই

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি