সরকারের কর্তাব্যক্তিরা অর্থ উপার্জনে ব্যস্ত: মির্জা ফখরুল
বাংলা প্রেস
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪০ পিএম
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: দেশের কল্যাণের চিন্তা না করে সরকারের কর্তাব্যক্তিরা অর্থ উপার্জনে ব্যস্ত আছেন বলে অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আর এতে দেশের সব ক্ষেত্রে নৈরাজ্য তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগ থেকে ১৭টি নথি খোয়া যাওয়ার ঘটনা গণমাধ্যমে উঠে আসার উদাহরণ দিয়ে শনিবার সকালে ঢাকায় একটি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব এই অভিযোগ করেন।
হোটেল সোনারগাঁওয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরীর ওপর লেখা 'আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী সংবর্ধনা গ্রন্থ' প্রকাশনার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, আজকের খবর—স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগ থেকে ১৭টি নথি খোয়া গেছে। শাহবাগ থানায় ডায়েরি করা হয়েছে। এই হচ্ছে বর্তমানে সরকারের, শাসকদের এবং শাসন ব্যবস্থার অবস্থা। প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিটি জায়গায় চরম নৈরাজ্য চলছে। লক্ষ্য একটি, সেটি হচ্ছে যে, কীভাবে অর্থ উপার্জন করা যায়। মানুষের কল্যাণের জন্য, দেশের কল্যাণের জন্য ওয়েল ফেয়ার স্টেটের জন্য কারও চিন্তাই নেই।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা করোনার সময়ে দেখেছি কীভাবে ভয়াবহভাবে মানুষ মারা যাচ্ছে। তখন তারা (সরকার) অর্থ উপার্জনের উপায় নিয়ে ব্যস্ত। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজির গাড়িচালকের চার শ কোটি টাকা। এই অবস্থা তৈরি হয়েছে এখন।
তিনি বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক উপাচার্য ১৬৯ জন নিয়োগ দিলেন এক রাতে। এর পেছনের কারণ অর্থ উপার্জন। এই যে আমরা সমাজ তৈরি করেছি এই সমাজের কাছ থেকে ভালো কোনো কিছু পাওয়ার আশা করা খুব কঠিন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদহীনতা নিয়ে হতাশা জানিয়ে তিনি বলেন, যখন আমার একজন বোন, মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্ষিত হয় অথবা গ্রামে মা-বোনেরা ধর্ষিত হয় আমি দেখি না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটা প্রতিবাদ মিছিল বেরিয়ে এসেছে। টিপাইমুখে যখন বাঁধ তৈরি করতে যায় সেই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিবাদ মিছিল বের হয় না। গণতন্ত্রকে যখন ধ্বংস করা হয়, ছাত্রদেরকে যখন পিটিয়ে শুইয়ে দেওয়া হয়। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো প্রতিবাদ মিছিল বের হয় না।
তিনি বলেন, এটা দুঃখের কথা। আমাদের তরুণরা, আমাদের যুবকরা তারা যদি জেগে না উঠে তাহলে পরিবর্তনটা আসবে কোথা থেকে। আপনাদের সকলের থেকে থেকে আমি বিশ্বাস করি যে পরিবর্তন আসবে এবং পরিবর্তন আসবে অবশ্যই। হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই।
বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক মনসুর মুসার সভাপতিত্বে ও কবি আবুল হাই শিকদারের সঞ্চালনায় প্রকাশনা অনুষ্ঠানে নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরীর সহধর্মিণী লাকী নাসরিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, অধ্যাপক জাহেদুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুর রহমান সিদ্দিকী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক রেজাউল করীম, অনন্যার প্রকাশক মনিরুল হকের ছেলে বাবুস সালাম দুর্জয়সহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।
বিপি/কেজে
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
রাজনীতি
আমার জানাজা পড়ানোর জন্য ওয়াহাবি বা জামায়াতের প্রয়োজন নেই: ফজলুর রহমান
২ দিন আগে
by বাংলা প্রেস
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি