১১ মে ২০২৬

সৈয়দপুরে পণ্য প্রদর্শনির নামে চলছে বাণিজ্য মেলা

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৮ পিএম
সৈয়দপুরে পণ্য প্রদর্শনির নামে চলছে বাণিজ্য মেলা

এমআর আলী টুটুল, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি : সৈয়দপুরে তৃণমূল নারী সংগঠনের ব্যানারে পণ্য প্রদর্শনি মেলার নামে চলছে বাণিজ্য মেলা। সংগঠনের কোনো কার্যক্রম না থাকলেও প্রতি বছর এ ধরনের মেলা করে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।

সূত্রে জানা যায়, তৃণমূল নারী উদ্দ্যেক্তা নামে সিলেট থেকে পরিচালিত সৈয়দপুরে একটি শাখা করে বিগত তিন/চার বছর আগে নীলফামারী জেলা শাখা উলে­খ থাকলেও শুধুমাত্র সৈয়দপুরের কিছু মহিলাদের নিয়ে এই সংগঠনের কমিটি করা হয়। এবং ঐ কমিটির কোনো সদস্যই তৃণমূল নারী উদ্দ্যেক্তার কর্মকান্ডের সাথে জড়িত নয়।

হিমাংশু মিত্র নামে এক ব্যক্তি শাহিনা আক্তার সাথীকে কেন্দ্রের সভাপতির পরিচয় দিয়ে নিজেই সৈয়দপুরে জেলা কমিটির অনুমোদন দেন। এই কমিটির বর্তমান নীলফমারী জেলা কমিটির সভাপতি দুলালি বেগমকে করা হলেও এই জেলার বাসিন্দা নন, তিনি দিনাজপুর হিলিতে থাকেন। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রমিজা বেগম ও সাধারণ সম্পাদক জেসমিন বেগমকে দিয়ে অলিখিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে সংগঠনটি। তাদের মূল উদ্দ্যেশ্য নারী সংগঠন নামে সহজেই প্রদর্শনি পণ্য মেলার অনুমতি নিয়েই বাণিজ্য করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া। হিমাংশু মিত্র একটি বামফ্রন্ট সংগঠনের পরিচয় দিয়ে এই প্রতিবেদককে বলেন, সংগঠনের আমি চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার।

ফান্ড ক্রিয়েটের জন্য এই মেলা করছি। সদস্যদের কোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, বর্তমান সদস্যরা এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত নয় এবং তিনিনিজেই কয়েকজন বাম ঘারানার মহিলাদের নিয়ে এই কমিটি করেছেন। মেলা উদযাপন সংক্রান্ত রেজুলেশন ঢাকায় বসে করেছেন।

আরো পড়ুন :  সৈয়দপুরে মুক্তিযোদ্ধা পূর্ণ যাচাই বাছাই অনুষ্ঠিত

উদযাপন কমিটিতে যাদের সদস্য করা হয়েছে তারা অনেকেই এই মেলার বিষয়ে অবগত নন এবং প্রত্যেকেই পুরুষ। এই ব্যাপারে কথা হয় সাধারন সম্পাদক জেসমিন বেগমের সাথে তিনি জানান, মেলা উদযাপন ও সংগঠনের কোনো রেজুলেশন তার কাছে নেই। সব কিছু হিমাংশু মিত্র দাদার কাছে আছে। তার সাথে কথা বললেই জানতে পারবেন। এবং এই কমিটির কোনো সদস্যরই পণ্য তৈরির প্রতিষ্ঠান নেই। শুধুমাত্র তৃণমূল নারী উদ্দ্যেক্তাদের তৈরীকৃত পণ্য প্রদর্শনি ও মেলার অনুমতি থাকলেও সেখানে নারীদের তৈরীকৃত কোনো ধরনের পণ্য নেই। সম্পূর্ণ বণিজ্যকভাবে বাজারের বিভিন্ন জিনিসের স্টোল রয়েছে। নাগরদোলা, চর্কি, ট্রেন, ওয়াটারবোট এগুলোর কোনো অনুমতি নেই। প্রশাসনকে বৃদ্ধা আঙ্গুলি দেখিয়ে মেলার পেছন পাশে এসব বসিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।

মেলায় দর্শনার্থিরা পণ্য মেলা ভেবে এসে বাণিজ্য মেলা দেখতে পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সদস্য জানান এই সংগঠনের কোনো কার্যক্রম নেই, মেলা করার সময় হলে তৎপরতা দেখায়। সারা বছর কোনে খোজ নেয় না, শুধু মেলা হলেই প্রশাসনকে দেখানোর জন্য ছবি তুলে পত্রিকায় প্রকাশ করেই এই সংগঠনের কর্মকান্ড চলছে। হিমাংশু মিত্র সিলেট থেকে তার লোকজন এনে এই মেলাটি পরিচালনা করছেন। বর্তমানে জেএসসি, জেডিসি চলমান এবং স্কুল কলেজ গুলোর ফাইনাল পরীক্ষা সামনে তাই এ ধরনের মেলা ছাত্র ছাত্রীদের পড়াশুনায় মনোযোগ বিঘ্ন ঘটায় অভিভাবক মহল এই মেলা বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছেন প্রশাসনকে।

বিপি/আর এল

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি