৬ মে ২০২৬

সৈয়দ ইবরাহিম কল্যাণ পার্টি থেকে বহিস্কার

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪১ পিএম
সৈয়দ ইবরাহিম কল্যাণ পার্টি থেকে বহিস্কার
বাংলাপ্রেস ঢাকা: সরকার পতনের একদফা দাবিতে আন্দোলন ছেড়ে ভোটে আসায় বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো দলটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সৈয়দ ইবরাহিম ছাড়াও দলটির মহাসচিব আব্দুল আউয়াল মামুন এবং অতিরিক্ত মহাসচিব আব্দল্লাহ আল হাসান সাকিবকেও দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। এতে বলা হয়েছে, নির্বাহী কমিটির অধিকাংশ সদস্যদের মতামত তোয়াক্কা না করে যুক্তফ্রন্ট নামের জোট করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, সৈয়দ ইবরাহিমকে বহিস্কার করতে দলটির নির্বাহী কমিটির দুই তৃতীয়াংশ সদস্য মত দিয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সাবেক চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বীর প্রতীক নির্বাহী কমিটির অধিকাংশের মতামতকে তোয়াক্কা না করে অফিস নোটিশ ব্যতিত ১৩১ জনের নির্বাহী কমিটির মধ্য থেকে ১৫ জনের গোপন বৈঠকে বাংলাদেশের মানুষের চিন্তা চেতনার বিপরীতে দলীয় আদর্শকে জলাঞ্জলি দিয়ে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদ ও অবৈধ নির্বাচনকে বৈধতা দিতে কথিত যুক্তফ্রন্ট নামীয় নির্বাচনী জোটে যোগদান করায় নির্বাহী কমিটির দুই তৃতীয়াংশ সদস্য বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির গঠনতন্ত্রের ধারা-২০, উপধারা-ঙ এর অনুচ্ছেদ-১ অনুযায়ী একাধিক বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বীর প্রতীককে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভাইস চেয়ারম্যান শামছুদ্দিন পারভেজকে। এতে আরও বলা হয়, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামছুদ্দিন পারভেজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নির্বাহী কমিটির প্রথম সভায় স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করতে ১২ দলীয় জোটের সাথে রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালনের সিদ্ধান্ত হয়। পার্টির নিবেদিতপ্রাণ নির্বাহী কমিটির সদস্যগণের সমন্বয়ে বাংলাদেশ কল্যাণ পর্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি পূণঃগঠন করা হয়। পরবর্তীতে পুণঃগঠিত নির্বাহী কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তক্রমে- দলীয় নীতি নৈতিকতা ও আদর্শকে উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত লোভ ও স্বার্থসিদ্ধির জন্য যুক্তফ্রন্ট গঠন করে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহনে পার্টির সাবেক চেয়ারম্যানকে প্ররোচিত করায় পার্টির সাবেক মহাসচিব আব্দুল আউয়াল মামুন এবং সাবেক অতিরিক্ত মহাসচিব আব্দল্লাহ আল হাসান সাকিবকে পার্টি থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়। কল্যাণ পার্টি দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির একদফা দাবিতে চলমান আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। গত ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে বিএনপির মহাসমাবেশের দিন একই দাবিতে বিজয়নগর এলাকায় আলাদা সমাবেশও করেছে কল্যাণ পার্টি। অনেকটা চমক দেখিয়েই গত ২২ নভেম্বর আন্দোলনের মাঠ ছেড়ে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ও বালাদেশ মুসলিম লীগকে (বিএমএল) সাথে নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে নির্বাচনে আসার ঘোষণা দেয় দলটি। সে সময় গণমাধ্যমকে সৈয়দ ইবরাহিম বলেছিলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন আছে। তবে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনে যাওয়া বা না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জরুরি। যুক্তফ্রন্ট মনে করছে নির্বাচনে যাওয়ার প্রয়োজন আছে।’ কক্সবাজার-১ চকরিয়া পেকুয়া আসনে নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম। ২০০৭ সালে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আত্মপ্রকাশ করে কল্যাণ পার্টি। দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম। যুক্তফ্রন্ট গঠনের আগে কল্যাণ পার্টি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে ছিল। পরে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) নেতৃত্বে হওয়া ১২ দলীয় জোটে যুক্ত হয়। বিপি>আর এল
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি