৫ মে ২০২৬

সম্মেলন ছাড়া দলের কোনো কমিটি করা যাবে না : কাদের

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৯ পিএম
সম্মেলন ছাড়া দলের কোনো কমিটি করা যাবে না : কাদের

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: আওয়ামী সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেছেন, সম্মেলন ছাড়া দলের কোনো কমিটি করা যাবে না। কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়া কোনো কমিটি ভাঙা যাবে না। কমিটি ভাঙতে হলে কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ করবেন। কেন্দ্র ছাড়া কেউ কাউকে সরাসরি বহিষ্কার করতে পারবেন না।

আজ বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের এক যৌথসভায় তিনি এ কথা বলেন। দলের ঢাকা বিভাগের অধীন সব সাংগঠনিক জেলা ও মহানগরের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং সংসদ সদস্যদের নিয়ে এ সভা হয়।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা মোট ২৯টি সম্মেলন করেছি। এর মধ্যে দুটি ঢাকা সিটিতে। কিন্তু ঢাকা বিভাগে এ পর্যন্ত কোনো সম্মেলন হয়নি। শেখ হাসিনার বড় নির্দেশনা হচ্ছে দলকে সাজাতে হবে। সাংগঠনিকভাবে সৃশৃঙ্খল এবং সংগঠনকে সময়ের চাহিদা মেটানো আমাদের অত্যাবশ্যকীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দল ক্ষমতায় থাকায় সাংগঠনিক দুর্বলতা টের পাচ্ছেন না। অনেক জায়গায় দেখা যায়, ৮-১০ বছর হয়ে গেছে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হয়ে আছেন। সেখানে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। আবার অনেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দিচ্ছেন। তাদের অনুমোদন পেতে পেতে ছয় মাস লাগছে। সম্মেলন করতে বললে তারা বলেন, আমাদের তো মেয়াদ শেষ হয়নি। তবে সম্মেলন যেদিন থেকে হবে ক্ষণ গণনা সেদিন থেকে হবে। আপনারা কেন্দ্রীয় সম্মেলন থেকে শিক্ষা নেন।

তিনি বলেন, কমিটি করতে গিয়ে নিজের লোক পকেটে ঢুকাবেন না। এতে দলের কোনো লাভ হয় না। দল ভারী করার জন্য বিতর্কিত ব্যক্তিদের আনবেন না। এপ্রিল থেকে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা ঢেলে সাজাবেন। এর পর জেলাগুলোর সম্মেলন হবে। ঘরে বসে কমিটি করার কালচার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নয় তো দল শেষ হয়ে যাবে।

নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এখন সুসময়, কিন্তু দুঃসময় আসবে না; এটা কখনো ভাববেন না। কেউ কারো থাকবে না। আজকে নিজের মনে করে একজনকে নেতা বানাচ্ছেন। আপনার যখন খারাপ সময় আসবে আপনাকে সালামও দেবে না। কাজেই এসব নেতা বানিয়ে লাভ নেই।

তিনি বলেন, সামনে আমাদের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন। ঢাকা মহানগরেও একটা নির্বাচন আছে। ঢাকা-১০ আসন নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার জন্য সর্বাত্মক কাজের চেষ্টা করতে হবে। এ নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আপনাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, মুজিববর্ষ উদযাপনের নামে কেউ বাড়াবাড়ি করবেন না। অতি উৎসাহী হয়ে এমন কোনো কাজ করবেন না যেটা জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। বঙ্গবন্ধুর ইমেজবিরোধী কোনো কাজ করা যাবে না। বঙ্গবন্ধু প্রতিষ্ঠিত, নতুন করে তাকে প্রতিষ্ঠা করার কিছু নেই। তার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করতে গিয়ে আমরা চাঁদাবাজির দোকান যেন না খুলি। চাঁদাবাজির দোকান আপনাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আমাদের অনেক কর্মসূচি রয়েছে আমাদের অনেক কাজ রয়েছে। খালেদা জিয়াকে নিয়ে বার বার আপনাদের প্রশ্নের জবাব দেব সেই সময় আমাদের নেই। এ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। এই প্রশ্ন দয়া করে আর করবেন না।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, আদালত তার মুক্তির বিষয় ঠিক করবে। এটা কোনো রাজনৈতিক মামলা নয়, এটা করাপশনের মামলা। মামলার যা হবে সেটাই হবে আদালতের সিদ্ধান্তে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতি যদি কোনো ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কোনো কারণে মন্দা দেখা দেয়, তার প্রভাব সারা বিশ্বেই থাকে। করোনাভাইরাস আমাদের অর্থনীতিতে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে সেই অবস্থা এখনো আসেনি। এটা যদি বেশি দিন থাকে তা হলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা আমরা উড়িয়ে দিচ্ছি না।

করোনাভাইরাসের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হলে পদ্মা সেতুর কাজে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, পদ্মা সেতু থেকে চীনের আড়াইশ কর্মী, শ্রমিক স্বদেশে ছুটিতে গেছেন নববর্ষে। তারা এখনো আসেনি। করোনা ভাইরাসের যে প্রতিক্রিয়া এর পরও তিনটি স্প্যান আমাদের বসে গেছে। আগামীকালও একটি স্প্যান বসার কথা। যারা ছুটির কারণে চীনে আছেন আগামী আড়াই মাসের মধ্যে তারা ফিরে না আসলে একটু সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। তবে আগামী দুই মাস কাজের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না।

যৌথসভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল মুহাম্মদ ফারুক খান, আব্দুর রহমান, মো. শাহজাহান খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, প্রচার সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাম, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মোহাম্মদ মন্নাফি, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী এনামুল হক শামীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি