৫ মে ২০২৬

সুপ্রিম কোর্টের রায়

সমলিঙ্গ বিবাহে অস্বীকৃতি জানাতে পারবেন টেক্সাসের বিচারকরা

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৫, ১১:২২ পিএম
সমলিঙ্গ বিবাহে অস্বীকৃতি জানাতে পারবেন টেক্সাসের বিচারকরা

ইমা এলিস: যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের বিচারক এবং জাস্টিস অব দ্য পিসরা যারা আইনত বিবাহ সম্পাদনের অনুমতি পান এখন থেকে 'গভীর ধর্মীয় বিশ্বাসের' ভিত্তিতে কোনো সমলিঙ্গ বিবাহ সম্পাদন করতে অস্বীকার করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। বিচারকদের আচরণবিধির নতুন ব্যাখ্যা প্রকাশ করে এ তথ্য জানিয়েছে টেক্সাস সুপ্রিম কোর্ট।
রাজ্যের সর্বোচ্চ আদালত ২৪ অক্টোবর বিচারকদের আচরণবিধিতে এই নতুন ব্যাখ্যা যুক্ত করে। এতে বলা হয়েছে, কোনো বিচারক যদি গভীরভাবে ধারণ করা ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে প্রকাশ্যে কোনো বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পাদন থেকে বিরত থাকেন, তবে তা এই আচরণবিধির লঙ্ঘন নয়।
এই মন্তব্যটি রাখা হয়েছে আচরণবিধির এমন অংশে, যা বিচারকের বিচারবহির্ভূত কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করে। পরিবর্তনটি আসে এমন এক সময়ে, যখন একটি ফেডারেল আপিল আদালত চলতি বছরের শুরুর দিকে টেক্সাস সুপ্রিম কোর্টকে রাজ্য আইনের একটি প্রশ্ন পরিষ্কার করার অনুরোধ জানিয়েছিল।
ওই মামলায় উত্তর টেক্সাসের এক কাউন্টি কর্মকর্তা ফেডারেল আদালতে মামলা করেন তার আশঙ্কা ছিল, যদি তিনি সমলিঙ্গ দম্পতির বিবাহ সম্পাদন করতে অস্বীকৃতি জানান, অথচ বিপরীত লিঙ্গের দম্পতির বিবাহ সম্পাদন অব্যাহত রাখেন, তবে তাকে শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে।
ওই কর্মকর্তা, জ্যাক কাউন্টির বিচারক ব্রায়ান আমফ্রেস, যুক্তি দেন যে সমলিঙ্গ বিবাহ সম্পাদন করা তার ধর্মীয় বিশ্বাসের পরিপন্থী, এবং তাকে এ ধরনের বিবাহ করতে বাধ্য করা হলে তা তার প্রথম সংশোধনী অধিকার লঙ্ঘন করবে।
মামলাটি পরবর্তীতে পঞ্চম সার্কিট আপিল আদালতে গিয়ে পৌঁছায়, এবং আদালত টেক্সাস সুপ্রিম কোর্টের কাছে এই বিষয়ে মতামত চায়। যদিও রাজ্যের সর্বোচ্চ আদালত সরাসরি সেই প্রশ্নের উত্তর দেয়নি, তবে তাদের আচরণবিধির এই পরিবর্তন আমফ্রেসের মামলার পক্ষে সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিভিন্ন মিডিয়া আমফ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি চলমান মামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (আরবানা-শ্যাম্পেইন) সংবিধান আইনের অধ্যাপক জেসন মাজোনে, যিনি এই মামলাটি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন, বলেন টেক্সাস সুপ্রিম কোর্টের ব্যবহৃত বিস্তৃত ভাষা এমন একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে, যেখানে বিচারকরা শুধু সমলিঙ্গ বিবাহই নয়, বিপরীত লিঙ্গের বিবাহও প্রত্যাখ্যান করতে পারেন।
মাজোনের মতে, এই ব্যাখ্যা এমনকি আন্তঃজাতিগত বিবাহ -এর ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, টেক্সাস সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্যের ভাষা অনুযায়ী, যদি কোনো বিচারক বলেন ‘ধর্মীয় কারণে আমি আন্তঃজাতিগত বিবাহ সম্পাদন করব না’—তাহলে সেটিও এই মন্তব্যের আওতায় পড়বে, এবং বিচারকের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।
যদিও টেক্সাসে সমলিঙ্গ বিবাহ এখনও বৈধ, মাজোনে মনে করেন, রাজ্যটি এখন এক ধরনের ব্যতিক্রম তৈরি করছে যেখানে সমলিঙ্গ দম্পতিদের জন্য একটি নতুন প্রতিবন্ধকতা যুক্ত হলো। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে একটি ফেডারেল সাংবিধানিক বিতর্ক তৈরি করতে পারে, এবং এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মাজোনে যুক্তি দেন, যৌন অভিমুখের কারণে কোনো বিবাহ অনুষ্ঠান অস্বীকার করা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী এবং এর সমান সুরক্ষার ধারা লঙ্ঘন করে, যা সরকার কর্তৃক বৈষম্য থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা দেয়।
তিনি বলেন, কেউ কেউ যুক্তি দিচ্ছেন সমলিঙ্গ দম্পতিরা চাইলে এমন কোনো বিচারকের কাছে যেতে পারেন, যিনি বিবাহ সম্পাদন করতে রাজি কিন্তু তিনি এতে দ্বিমত পোষণ করেন।
মাজোনে ব্যাখ্যা করেন, কেবল বিকল্প সুযোগ থাকা মানেই সমান সুরক্ষার সমস্যা সমাধান হয়েছে এমনটা নয়। 
টেক্সাস সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের পর এলজিবিটিকিউ অধিকারকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ইকুয়ালিটি টেক্সাস-এর অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী ব্র্যাড প্রিচেট বলেন, কোনো ব্যক্তির ধর্মীয় স্বাধীনতা অন্যকে ক্ষতি করার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়, আমার মনে হয়, এই ধরনের রায় মানুষকে সেই ক্ষমতাই দিচ্ছে।
প্রিচেট আরও বলেন, আমাদের কমিউনিটি টেক্সাসে কয়েক দশক ধরে বৈষম্যের শিকার এবং এই বৈষম্য ক্রমেই বাড়ছে ও আরও গভীর হচ্ছে।
টেক্সাসের এসিএলইউ বলেছে, তারা বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
এসিএলইউ ও এলজিবিটিকিউ-এর নীতিনির্ধারণ ও অ্যাডভোকেসি স্ট্র্যাটেজিস্ট অ্যাশ হল বলেন, এটা সত্যিই হতাশাজনক। বিচারক মানে একজন জনসেবক। তিনি যদি সাধারণ জনগণের জন্য বিবাহ সম্পাদনের প্রস্তাব দেন, কিন্তু তারপর বলেন ‘এই দম্পতি যদি এলজিবিটিকিউ হয়, তবে নয়’ তাহলে সেটি বৈষম্য, জনসেবা নয়।

বিপি/এসএম

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি