৫ মে ২০২৬

শিল্প-সংস্কৃতির রাজনীতিকরণ সভ্য দেশের পরিচয় নয়: প্রধানমন্ত্রী

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:১৯ এএম
শিল্প-সংস্কৃতির রাজনীতিকরণ সভ্য দেশের পরিচয় নয়: প্রধানমন্ত্রী

 

 

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্প-সাহিত্য চর্চাকে রাজনীতিকরণ করা কখনোই সভ্য সমাজের পরিচায়ক নয় বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, শিক্ষা-সাহিত্য শিল্পকলা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অর্থাৎ জ্ঞান-বিজ্ঞানে সব শাখায় যাতে দেশ এগিয়ে যেতে পারে, নৈতিক মানসম্পন্ন তেমন একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষে বর্তমান সরকার কাজ করছে। আমাদের এই যাত্রায় দেশের বিজ্ঞজনদের দিক নির্দেশনা অবশ্যই প্রত্যাশিত।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘একুশে পদক-২০২৬’ প্রদান শেষে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে সচিবালয়ে বৈঠক শেষে পায়ে হেঁটে একুশে পদক অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং পুনরায় পায়ে হেঁটে সচিবালয়ে যান প্রধানমন্ত্রী। পদক হস্তান্তর অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি রাষ্ট্র এবং সমাজে কৃতি মানুষদের সংখ্যা যত বেশি বাড়তে থাকবে, সমৃদ্ধি এবং নৈতিকতার মানদণ্ডে সেই সমাজ তত বেশি আলোকিত হতে থাকবে। সুতরাং রাষ্ট্র তার প্রয়োজনেই জ্ঞানীগুণী মানুষদের সম্মানিত করে।

তারেক রহমান বলেন, এই উপলব্ধি থেকেই স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একুশে পদক প্রবর্তন করেছিলেন। এটি শুধু একটি পদকই নয়...বরং এই পদকের মধ্য দিয়ে, ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ঘটনাবলীগুলোকে স্মরণে আনার পাশাপাশি যেসব বিজ্ঞজন শিক্ষা সাহিত্য শিল্পকলা গবেষণা ও চর্চায় নিজেদের এবং রাষ্ট্র ও সমাজকে সমৃদ্ধ করেছেন, তাদের সঙ্গে আপামর জনসাধারণের পরিচয় ঘটে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, শুরুতে তিনটি বিষয়ে পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পুরস্কার ‘একুশে পদক’ এর যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, গবেষণা, শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ সম্ভবত কমপক্ষে ১২টি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য এই সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক অর্জন।

জ্ঞান-বিজ্ঞান কিংবা শিল্প-সাহিত্য চর্চার ধারা আরও শানিত এবং বিকশিত হওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষা গবেষণা এবং শিল্প সাহিত্যের চর্চাকে আরও বেগবান করতে রাষ্ট্র এবং সরকার তার দায়িত্ব অবশ্যই পালন করবে।

জাতীয় ইতিহাসে ফেব্রুয়ারি মাসের গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের আত্মপরিচয়ের স্মারক। বলা যায়, আমাদের সংস্কৃতিচেতনার প্রাণপ্রবাহ একুশে ফেব্রুয়ারি। একুশে ফেব্রুয়ারি একদিকে মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, অপরদিকে এটি ছিল জালেমের বিরুদ্ধে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। সুতরাং, ফেব্রুয়ারি মানেই আত্মপরিচয় উপলব্ধির মাস। আমাদের শেকড় সন্ধানী মাস।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছরের মতো এ বছর আমরা দেশের জ্ঞানী গুণী কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী-ভাষাসংগ্রামীকে একুশে পদকে ভূষিত করেছি। জ্ঞানী গুণীদের কর্ম এবং কর্মময় জীবনের সঙ্গে আপামর জনগণের পরিচয় করিয়ে দেওয়া রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব।

একুশে পদকে ভূষিতদের সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী সবার সৃজনমুখর জীবন আরও দীর্ঘ হোক, কল্যাণময় হওয়ার প্রার্থনা করেন।

 

বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি