৬ মে ২০২৬

সবার দৃষ্টি এখন আমেরিকার দিকে

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৯ পিএম
সবার দৃষ্টি এখন আমেরিকার দিকে

বাংলাপ্রেস ডেস্ক : করোনা ভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। কেউ কেউ বলছেন, ২২ লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতে পারে এই ভাইরাস। তবে হোয়াইট হাউসের করোনা টাস্কফোর্সের কর্মকর্তা ডা. ডেবোরা ব্রিক্স বলছেন, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হলেও এক লাখ মৃত্যু কিছুতেই এড়াতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্র।

হোয়াইট হাউসের ব্রিফিংয়ে তিনি বলেছেন, লোকজন সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করলেও যুক্তরাষ্ট্রে এ ভাইরাসে কমপক্ষে ১ লাখ থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার পর্যন্ত মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আগামী দুই/ তিন সপ্তাহ আমেরিকানদের জন্য কঠিন সময়। এ সময়ে তিনি সবাইকে লকডাউন মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যদিকে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু বা আক্রান্তের সংখ্যা আমেরিকায় হওয়ার কারণে এবং আমেরিকাই পারে এ রোগের কার্যকরি প্রতিষেধক বা ওষুধ আবিস্কার করতে; সে প্রত্যাশায় সবার দৃষ্টি এখন আমেরিকার দিকে বলে মন্তব্য করছেন অনেকেই।

ডা. ডেবোরা ব্রিক্সের শঙ্কা বাস্তবে রূপ নিলে তা ভিয়েতনাম যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাদের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে যাবে। তবে এর চেয়েও বড় ভয়ের কথা শুনিয়েছেন তিনি। বলেছেন, সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং মেনে চলা না হলে যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা হবে ১৫ লাখ থেকে ২২ লাখ পর্যন্ত।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনা ভাইরাস মোকাবিলার উদ্যোগে একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজের পরিচালক ডা. অ্যান্থনি ফাউসি। তিনি বলেছেন, এ পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ঠান্ডা মাথায় প্রস্তুত থাকা উচিত। তবে তার প্রত্যাশা, মৃতের সংখ্যা এত বেশি বাড়বে না।

এর আগে গত রোববার সিএনএনের সঙ্গে আলাপকালে যুক্তরাষ্ট্রে এ ভাইরাসে ১০ লক্ষাধিক মানুষ আক্রান্ত এবং দুই লাখ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা প্রকাশ করেন ডা. অ্যান্থনি ফাউসি।

করোনা ভাইরাসকে ‘বাঁচা-মরার ইস্যু’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটির বিস্তারিত ঠেকাতে সরকারের প্রচেষ্টার কথাও জানান তিনি। জনগণের প্রতি আহ্বান জানান, তার প্রশাসনের সামাজিক দূরত্বের দিকনির্দেশনাগুলো মেনে চলতে। জনগণকে দুই সপ্তাহের জন্য ঘরে থাকারও পরামর্শ দেন ট্রাম্প। এ সময় তিনি আশাবাদ জানিয়ে বলেন, তার দেশ শিগগির বিদ্যমান বৈশ্বিক বিপর্যয়ের ‘সুড়ঙ্গের শেষের আলো’ প্রত্যক্ষ করবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি চাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক আসন্ন কঠিন দিনগুলোর জন্য প্রস্তুত থাকুক। আমরা খুব কঠিন দুটি সপ্তাহ পার করতে যাচ্ছি।’

এর আগে গত রোববার সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা-সংক্রান্ত নির্দেশনার মেয়াদ আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প। ওই নির্দেশনায় করোনার বিস্তার ঠেকাতে লোকজনকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও ঘরে থেকে কাজ করার মতো কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়। গত মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ-সংক্রান্ত বিশদ নির্দেশনা প্রকাশ করেন তিনি।

ট্রাম্পের এমন অবস্থানকে তার আগের অবস্থানের বিপরীত হিসেবে উল্লেখ করেছে আল-জাজিরা। কেননা, করোনা মহামারির মধ্যেই গত সপ্তাহে তিনি ইস্টার সানডের প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময় ব্যয় করেছেন। আগামী ১২ এপ্রিল খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান এ ধর্মীয় উৎসব পালিত হওয়ার কথা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অনেক রাজ্য ও স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে লোকজনের অবাধ চলাচল ও জমায়েতের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। এ ব্যাপারে সবচেয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নিউইয়র্ক। সেখানে করোনায় মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যেই আড়াই হাজারের মতো। তবে ইলিনয়, লুজিয়ানা, মিশিগান ও ফ্লোরিডাসহ যুক্তরাষ্ট্রজুড়েই বিভিন্ন স্থানে নতুন করে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের জন্য আরেকটি সংকটময় দিন অতিবাহিত হওয়ার পরই করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক মন্তব্য করেন ট্রাম্প। এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ইতোমধ্যে মার্কিন অর্থনীতি প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছে কোটি কোটি মানুষ।

মার্কিন স্টক এক্সচেঞ্জগুলোতে তালিকাভূক্ত ৩০টি বড় কোম্পানির গড় সূচক কমেছে ৪০০ পয়েন্টেরও বেশি। অর্থাৎ, বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর সূচক কমেছে ১ দশমিক ৯ শতাংশ। গত ১৩৫ বছরের মধ্যে এতটা খারাপ পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি তাদের। সূত্রঃ নবযুগ।

বিপি/আর এল

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি