৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সব সরকারি চাকরিজীবীর জন্য প্রথমবার মোবাইল ভাতা: কোন গ্রেডে কত?

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৩ এএম
সব সরকারি চাকরিজীবীর জন্য প্রথমবার মোবাইল ভাতা: কোন গ্রেডে কত?

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:  নতুন জাতীয় বেতনস্কেল কার্যকর হলে প্রথমবারের মতো সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারীকে মোবাইল ভাতার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতদিন মূলত পঞ্চম গ্রেড পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীরা এ সুবিধা পেতেন। ইন্টারনেট ও ডিজিটাল যোগাযোগে বাড়তি ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভাতার পরিধি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

গত ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মোবাইল ভাতার আওতা সম্প্রসারণের বিষয়টি জানানো হয়।

কোন গ্রেডে কত মোবাইল ভাতা

সচিব কমিটির সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে প্রথম থেকে তৃতীয় গ্রেডের কর্মকর্তারা মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং চতুর্থ ও পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১ হাজার টাকা করে মোবাইল ভাতা পাচ্ছেন।

জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এর প্রস্তাবে নতুন করে ষষ্ঠ থেকে দশম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মাসে ৫০০ টাকা এবং একাদশ থেকে বিংশ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ৪০০ টাকা মোবাইল ভাতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী ভাতার হার ছিল—১ম থেকে ৩য় গ্রেড: মাসে ১,৫০০ টাকা; ৪র্থ ও ৫ম গ্রেড: মাসে ১,০০০ টাকা; ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম গ্রেড: মাসে ৫০০ টাকা এবং ১১তম থেকে ২০তম গ্রেড: মাসে ৪০০ টাকা।

এই হারে ভাতা দিতে হলে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশন বাদে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক আর্থিক সংশ্লেষ প্রায় ৬০৬ কোটি টাকা হতো।

সুপারিশ কমিটির সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল ভাতার আওতা সব গ্রেডে রাখার বিষয়ে একমত হলেও ভাতার হার কিছুটা যৌক্তিকীকরণের সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি।

কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের কর্মচারীরা মাসে ৫০০ টাকা এবং ষষ্ঠ থেকে বিংশ গ্রেডের কর্মচারীরা মাসে ১৫০ টাকা মোবাইল ভাতা পাবেন।

অর্থাৎ, জাতীয় বেতন কমিশনের প্রস্তাবের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ভাতার হার কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে। তবে সব গ্রেডকে ভাতার আওতায় রাখার বিষয়টি বহাল থাকছে।

সচিব কমিটির এক কর্মকর্তা জানান, সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগে মোবাইল ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা এখন সব স্তরের কর্মচারীর ক্ষেত্রেই রয়েছে। ফলে সব গ্রেডকে মোবাইল ভাতার আওতায় আনার প্রস্তাবটি যৌক্তিক। তবে এর ফলে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভাতার হার যৌক্তিক করার প্রয়োজন রয়েছে।

ধাপে ধাপে কার্যকর হবে নতুন বেতনস্কেল

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। বেতনস্কেল বাস্তবায়নের আর্থিক সংশ্লেষ এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর এর প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে চলতি ২০২৬-২৭ এবং আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে এটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন বেতনস্কেলের আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক সরকারি কর্মচারী উপকৃত হবেন। পাশাপাশি প্রায় সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগীও এর সুফল পাবেন।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্যও ভাতা

শুধু মোবাইল ভাতাই নয়, নতুন জাতীয় বেতনস্কেলে সরকারি কর্মচারীদের জন্য আরও কিছু নতুন সুবিধা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমবারের মতো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত রয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতি সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।
বিপি>টিডি
 

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি