১২ মে ২০২৬

শার্শায় গম চাষে বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষক

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪১ পিএম
শার্শায় গম চাষে বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষক
রাজু রহমান,যশোর জেলা প্রতিনিধি: আমাদের দেশে খাদ্য উৎপাদনে গমের ভুমিকা অনশিকার্য। গমের আটা ময়দা দিয়ে তৈরি করা হয় নানা রকম পিঠা। রুটি পরাটা তৈরিতে আটার বিকল্প নেই। যশোরের শার্শায় এবার গম চাষে বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষক। তাদের চোখে এখন শুধুই দিগন্ত জোড়া সবুজ । মাঠের পর মাঠ জুড়ে কেবল সবুজের সমারহ। যে দিকে চোখ যায় কেবল সবুজ গালিচা চোখে পড়ে। গমের ছোট ছোট সবুজ গাছ  প্রকৃতিতে শোভা বর্ধনে যেন নব সাজে সাজিয়েছে  সমস্ত মাঠ। সবুজের সমারোহ  বিমোহিত করছে মানুষকে। সারা মাঠ জুড়ে এমন মধুময় সবুজ গালিচার দৃশ্য লক্ষণীয় এখন যশোরের শার্শার মাঠে মাঠে। শার্শা উপজেলা কৃষি অফিস জানাই, এ বছর শার্শা উপজেলায় গম চাষে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২শত ৪০ হেক্টর জমি কিন্তু চাষ হয়েছে  ২ শত ৪৬ হেক্টর যা আমাদের লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে ৬ হেক্টর বেশি। গত বছর আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২শত ৪০ হেক্টর। গত বছরে তুলনায় এবছর ৬ হেক্টর জমিতে গমের চাষ বেশি হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা হিসাবে তিনি জানান, প্রতি হেক্টর জমিতে চার থেকে পাঁচ টন গম উৎপাদন হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে ২৪০ হেক্টর জমিতে প্রায় ১২০০ টন গম উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।তবে বিভিন্ন কারণে এই হিসাবের কম-বেশি হতে পারে।   গম চাষের উপযোগী মাটি, অনুকূল পরিবেশ, কৃষি বিভাগ থেকে সুপরামর্শ ও উৎসাহ প্রদান, সময় মত প্রণোদনার বীজ ও সার কৃষকের মাঝে বিতরণ উপজেলার কৃষকদের মাঝে গম চাষের আগ্রহ বাড়িয়েছে। শার্শা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠ পর্যায়ের চাষীদের সাথে কথা বললে তারা জানান,কৃষি বিভাগ থেকে আমরা সুপরামর্শ পেয়েছি।নভেম্বরের ২য় সপ্তাহ হতে ডিসেম্বরের ১ম সপ্তাহ পর্যন্ত গমের চাষ করা যায়। গম চাষে সার, কীটনাশক কম লাগায় স্বল্প খরচে অধিক ফসল পাওয়া সম্ভব। উলাশী ইউনিয়নের খাজুরা গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান,নিজামপুর ইউনিয়নের গোড়পাড়া গ্রামের  কৃষক মুজিবুর রহমান, শার্শা ইউনিয়নের পান্তাপাড়া গ্রামের  কৃষক বজলুর রশিদ সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন গম চাষির সাথে কথা বললে তারা জানান, শার্শা উপজেলার দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি গম চাষের জন্য উপযোগী। সরকারি প্রণোদনায় সার ও গমের বীজ পেয়ে আমরা অত্যন্ত খুশি এবং সময়মতো জমি চাষ করতে পেরে আমরা গমচাষে ভালো ফলনে  সফলতা পাবো এমনটা আশাবাদী। আমরা আশা করছি হেক্টর প্রতি ৪ থেকে ৫ টন গম উৎপাদিত হবে। দাম ভালো হওয়ায় চাষিরা গম চাষে লাভবান হবেন এমনটি ভাবছেন কৃষকরা। আমাদের দেশে সাধারণত যে সমস্ত গমের চাষ হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য  বারি- ১৯,২০,২১,২২,২৩,২৪,২৫,২৬,২৭,২৮,২৯,৩০,৩২,৩৩, বি এ ডাবলিউ -২৪,৩৮,৩৯,৪৩,৪৫২, বি ডাবলিউ এম আর আই -৩ জাত অন্যতম। এর মধ্যে শার্শা উপজেলায় বারি-৩০,৩২,৩৩ জাতের গম চাষ  বেশি হয়েছে। গম চাষে গোড়া পঁচা,ব্লাস্ট,বীজে কালো দাগ রোগ, পাতার মরিচা রোগ,আলগা ঝুল রোগ ও পাতা ঝলসানো রোগ অন্যতম কিন্তু কৃষি বিভাগের আন্তরিকতা ও সার্বিক সহযোগীতার কারণে কৃষকরা রোগ বালাই মুক্ত গম ঘরে তুলতে পারবে এমন আশ্বাস তাদের। উপজেলা কৃষি অফিসার দীপক কুমার সাহা জানান, গম চাষে আমরা আমাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পেরেছি গত বছরের তুলনায় এ বছর ৬ হেক্টর জমিতে বেশি চাষ হয়েছে দেশে খাদ্য ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে  গমের আবাদ বৃদ্ধি করতে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলার ৩০০ বিঘা গম চাষিকে প্রণোদনার সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে। প্রতি বিঘায় ১ কেজি বীজ ২০ কেজি ডিএমপি সার ও ১০ কেজি এমওপি সার প্রদান করা হয়েছে। আবহাওয়া  অনুকুলে থাকায় দ্রুত চাষ করা সম্ভব হয়েছে কৃষি বিভাগের পরামর্শে সময় মত চাষ করায় এ বছর কৃষক কাঙ্খিত ফসল ও ন্যায্য দাম পাবেন এমনটি আশা করছেন কৃষক। বিপি/টিআই  
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি