পররাষ্ট্র দপ্তর
শারীরিক অসুস্থতা থাকলে অভিবাসী ভিসা বাতিল করতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র
নোমান সাবিত: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে অভিবাসনের জন্য আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট শারীরিক বা মানসিক রোগ থাকলে তাদের ভিসা প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে।
এই নীতির অধীনে, যেসব আবেদনকারীকে চিকিৎসা সংক্রান্ত কারণে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করা হবে, তাদের ভিসা কর্মকর্তারা আবেদন নাকচ করতে পারবেন।
পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো একটি অভ্যন্তরীণ বার্তায় বলা হয়েছে, ভিসা প্রদান করার সময় আবেদনকারীর স্বাস্থ্য এবং আর্থিক সামর্থ্য দুই দিকই বিবেচনায় নিতে হবে।
বার্তাটিতে বলা হয়েছে, কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক অসুস্থতা যেমন হৃদরোগ, শ্বাসযন্ত্রের রোগ, ক্যানসার, ডায়াবেটিস, বিপাকজনিত রোগ, স্নায়বিক অসুখ ও মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা চিকিৎসা খাতে লাখ লাখ ডলার ব্যয়ের কারণ হতে পারে।
তাতে আরও যোগ করা হয়, আবেদনকারীর কি পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য আছে যাতে তিনি জীবনের পুরো সময়ের চিকিৎসা খরচ নিজেই বহন করতে পারেন, সরকারি অনুদান বা দীর্ঘমেয়াদি প্রতিষ্ঠানভিত্তিক চিকিৎসা সহায়তার ওপর নির্ভর না করেই?
এই নির্দেশনা কার্যত পুনরায় ফিরিয়ে আনছে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদের বিতর্কিত 'পাবলিক চার্জ' নীতি, যার আওতায় অন্তত ১২ মাসের মধ্যে ৩ বছরের সময়কালে কেউ যদি মেডিকেইড, খাদ্য সহায়তা, কল্যাণভাতা বা সরকারি বাসস্থান সুবিধা গ্রহণ করতেন, তবে তার গ্রিন কার্ড আবেদন বাতিল করা যেত। ফক্স নিউজ খবর প্রথম এই প্রকাশ করে।
নতুন নীতিটি এমন সময় এসেছে যখন ট্রাম্প প্রশাসন আবারও যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিরুৎসাহিত করার অভিযান চালাচ্ছে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে বলেন, এটা কোনো গোপন বিষয় নয় যে, ট্রাম্প প্রশাসন আমেরিকান জনগণের স্বার্থকে সবার আগে রাখছে। এর মধ্যে এমন নীতিও আছে, যা নিশ্চিত করে যে আমাদের অভিবাসন ব্যবস্থা আমেরিকান করদাতাদের ওপর বাড়তি বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়।
সব অভিবাসী ভিসা আবেদনকারী এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে চাওয়া শরণার্থীদের জন্য মেডিকেল পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। তবে নতুন নির্দেশনা এই মূল্যায়নকে আরও কঠোর করছে।
নির্দেশনায় কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে কোনো চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থা বা সম্ভাব্য চিকিৎসা ব্যয়ের ঝুঁকি নিয়ে নিজেরা 'বিবেচনা তৈরি' করতে হবে।
যদিও ভিসা কর্মকর্তাদের কোনো চিকিৎসাগত প্রশিক্ষণ নেই, তবুও তারা আর্থিক অবস্থা, সম্ভাব্য ফেরত যাত্রা, অপরাধমূলক পটভূমি ইত্যাদি নানা বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেন।
ফলে এই পদক্ষেপের ফলে অনেক আবেদন বাতিলের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে কারণ উল্লেখিত অনেক রোগই বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে বিদ্যমান।
বিশ্বে প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (সিডিসি) জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ শতাংশ মানুষ স্থূলকায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, হৃদরোগ বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর প্রধান কারণ।
পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা দ্য হিল–কে বলেন, ভিসা প্রদানের সিদ্ধান্ত সবসময়ই কর্মকর্তার বিবেচনার ওপর নির্ভর করে এসেছে।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, নির্দিষ্ট কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে বলা হয়নি, বরং দেখা হবে আবেদনকারী নিজ খরচে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে সক্ষম কিনা।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, যদি কোনো আবেদনকারীর ডায়াবেটিস থাকে, তাহলে শুধু ইনসুলিনের প্রয়োজন বলেই আবেদন বাতিল করা হবে না, তবে যদি তার চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে মেডিকেইডের প্রয়োজন হয়, তখন ভিসা নাকচ হতে পারে।
প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে 'পাবলিক চার্জ” নিয়মের সংজ্ঞা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করা হয়েছিল। আগে এই পদটি কেবল তাদের জন্য প্রযোজ্য ছিল, যারা সরকারি নগদ সহায়তার ওপর মূলত নির্ভরশীল।
বাইডেন প্রশাসন ২০২২ সালে সেই নিয়ম বাতিল করে পুরোনো সংজ্ঞায় ফিরে যায় যেখানে 'পাবলিক চার্জ' বলতে বোঝানো হয়, যারা প্রধানত সরকারের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করেন। বাইডেন প্রশাসন জানায়, ট্রাম্পের সংজ্ঞা অনেক যোগ্য অভিবাসী পরিবারকে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল, বিশেষ করে যেসব পরিবারে বাবা-মা ও সন্তানের অভিবাসন অবস্থা ভিন্ন ছিল।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
গুলির শব্দে হোয়াইট হাউস অবরুদ্ধ, সরিয়ে নেওয়া হলো সংবাদকর্মীদের
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি