সামরিক বিমানে অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
বাংলা প্রেস
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪২ পিএম
আবু সাবেত: অনথিভুক্ত অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিস্কার বা ফেরত পাঠানো শুরু করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক বিমানের মাধ্যমে ডিপোর্টেশন ফ্লাইট শুরু হয়েছে বলে শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ হাতকড়া পরা ব্যক্তিদের সামরিক বিমানে ওঠার ছবি শেয়ার করেছেন।
লেভিট বলেন, 'ডিপোর্টেশন ফ্লাইট শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সারা বিশ্বকে একটি শক্তিশালী এবং স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছেন: যদি আপনি অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন, তাহলে আপনাকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।'
একটি নতুন আদেশের ফলে সামরিক বিমানের ব্যবহার শুরু করা হয়েছে, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সপ্তাহে স্বাক্ষর করেছেন। তবে ডিপোর্টেশন ফ্লাইট কোনো নতুন ঘটনা নয়।
অভিবাসন সমর্থকদের দ্বারা হোয়াইট হাউসের এই ঘোষণাগুলি সমালোচিত হয়েছে। তারা উল্লেখ করেছেন যে ডিপোর্টেশন ফ্লাইট ইতিমধ্যেই চলছিল।
আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো অ্যারন রাইকলিন-মেলনিক এক্স-এ লিখেছে, 'এরা কি আসলেই বোঝাতে চাইছে যে ডিপোর্টেশন ফ্লাইট আগে থেকে চালু ছিল না?
তিনি আরও বলেন, তারা আপনাদের মিথ্যা বলছে। বাইডেন প্রশাসন ইতিমধ্যেই সীমান্ত থেকে ডিপোর্টেশনকে এমন স্তরে বাড়িয়েছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনেও ছিল না।
ট্রাম্প ২০২৪ সালের প্রচারণায় অভিবাসন নিয়ন্ত্রণকে তার শীর্ষ অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন এবং তার প্রশাসনের কর্মকর্তারা অফিসের প্রথম কয়েকদিনে এই ইস্যুতে নেওয়া যেকোনো পদক্ষেপকে আক্রমণাত্মকভাবে প্রচার করার চেষ্টা করেছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অফিসের প্রথম দিনেই বেশ কিছু নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন যা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের প্রবাহ সীমিত করতে লক্ষ্য করা হয়েছে। ট্রাম্প শরণার্থী গ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত করেন, দক্ষিণ সীমান্তে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন এবং সীমান্তে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ান।
ট্রাম্পের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এজেন্টদের স্কুল, গির্জা এবং ব্যবসার মতো সংবেদনশীল স্থানে গ্রেপ্তার কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন দিয়েছে, যা বাইডেন প্রশাসনের নিয়মের বিপরীত। বাইডেন প্রশাসনের নিয়মে এসব স্থানে গ্রেপ্তারকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) জানিয়েছে যে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তারা ৫৩৮টি গ্রেপ্তার করেছে এবং ৩৭৩টি আটক করেছে।
ট্রাম্পের সীমান্ত বিষয়ক উপদেষ্টা টম হোম্যান বৃহস্পতিবার নিউজন্যাশন-কে বলেন,প্রথম দিন থেকেই বলেছি কেউ বাদ যাবে না। আপনি যদি যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে থাকেন তাহলে আপনার সমস্যা হবে। তবে আমরা প্রথমে জনসুরক্ষার হুমকিগুলোর ওপর ফোকাস করছি।
তবে রেইচলিন-মেলনিক মন্তব্য করেছেন যে, এই পরিসংখ্যান বাইডেন প্রশাসনের সময়কার স্তর থেকে খুব বেশি আলাদা নয়। ট্রাম্প প্রশাসন কেবল সাধারণ আইসিই অপারেশনের ওপর গণ নির্বাসন' স্টিকার লাগিয়েছে। এ তৎপরতা বাড়ানোর ফলে প্রতিক্রিয়াও দেখা দিয়েছে।
ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য বনি ওয়াটসন কোলম্যান (নিউ জার্সি) বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেন যে আইসিই নিউয়ার্ক, নিউ জার্সিতে একটি 'অসাংবিধানিক অভিযান' চালিয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এজেন্টরা ওয়ারেন্ট ছাড়াই অবৈধ অভিবাসী এবং মার্কিন নাগরিকদের আটক করেছে।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টরা সাত অঙ্গরাজ্য থেকে তিন দিনে প্রায় ৫৩৮ অনথিভুক্ত অভিবাসীকে গ্রেপ্তার ও ৩৭৩ কে আটক করেছে। এদের কারও কারও বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির শহরগুলোতে নানা অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগ ছিল।
নিউ ইয়র্কে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিল এল সালভাদরের একজন এমএস-১৩ গ্যাং সদস্য। তিনি
জ্যামাইকার একজন নাগরিক। যিনি নাবালকের যৌন শোষণের অভিযোগে অভিযুক্ত। হন্ডুরাসের একজন নাগরিক যিনি মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর দায়ে অভিযুক্ত।
অনুরূপ গ্রেপ্তার ঘটেছে বোস্টন, ডেনভার, ফিলাডেলফিয়া, আটলান্টা, সিয়াটল, মিয়ামি এবং ওয়াশিংটন, ডিসি-তে।
ন্যায়বিচার বিভাগের একটি স্বারকলিপিতে হুঁশিয়ারি করেছে যে, যারা স্থানীয় এবং রাজ্য কর্মকর্তারা আইসিই-এর সঙ্গে সহযোগিতা করবে না,তাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগ আনা হতে পারে। তবে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলিকে অভিবাসীদের আটকে রাখা বা বিতাড়িত করতে বাধ্য করতে পারে না।
তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সংবিধানকে একতরফাভাবে পরিবর্তন করতে পারেন না। আমরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অফিসের সঙ্গে কাজ করতে রাজি, তবে আমরা দুর্বল বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা করব, যার মধ্যে অভিবাসী সম্প্রদায়ও অন্তর্ভুক্ত।
নিউইয়র্ক সিটির স্কুলগুলিতে অভ্যন্তরীণ স্বারকলিপিতে বলা হয়েছে যে, কোনো পরিস্থিতিতেই আইসিই এজেন্টদের স্কুলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া যাবে না। এনওয়াইপিডি-ও একটি স্বারকলিপিতে জারি করেছে, যেখানে বলা হয়েছে যে কর্মকর্তারা ফেডারেল অভিবাসন প্রয়োগে সহযোগিতা করবেন না।
কুইন্সের করোনাতে একটি টাউন হলে মেয়র অ্যাডামস বলেছেন যে, শিশুরা স্কুলে যাবে। যাদের স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন, তারা হাসপাতালে যাবে। যারা অপরাধের শিকার, তারা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে কথা বলবে। আমরা সব নিউই য়র্কারের জন্য দাঁড়াবো, চিহ্নিত এবং অনথিভুক্ত উভয়ের জন্য। নিউ ইয়র্কে বর্তমানে প্রায় ৪ লক্ষ অনথিভুক্ত অভিবাসী রয়েছে।
নিউ জার্সির নিউয়ার্ক শহরের মেয়র রাস বারাকা জানিয়েছেন যে, বৃহস্পতিবার তার শহরে আইসিই এজেন্টরা একটি অভিযান চালিয়েছে।
তিনি বলেন, আজ ইউএস ইমিগ্রেশন এবং কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট এজেন্টরা নিউয়ার্কের একটি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে অনথিভুক্ত বাসিন্দাদের পাশাপাশি সাধারন নাগরিকদেরও আটক করেছে, কিন্তু কোনো ওয়ারেন্ট দেখায়নি। আটককৃতদের একজন ইউএস সামরিক সেনা যোদ্ধা ছিলেন যার সামরিক ডকুমেন্টের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।”
বারাকা আরও বলেন, আমাদের শহর মানুষের উপর এইভাবে অবৈধ সন্ত্রাস চালানো সহ্য করবে না।
নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি এবং কানেকটিকাটসহ ২২টি রাজ্য এবং ডিসি ও সান ফ্রান্সিসকো ট্রাম্পের আদেশের বিরুদ্ধে ফেডারেল কোর্টে মামলা করেছে, যেখানে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের শিশুদের নাগরিকত্ব বাতিল করার সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
বিপি।এসএম
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তর্জাতিক
দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা বৈঠকে বসেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ও সর্বোচ্চ নেতা
৭ ঘন্টা আগে
by বাংলা প্রেস
আন্তর্জাতিক
সৌদির আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞার পর হরমুজে নৌ অভিযান স্থগিত ট্রাম্পের
৭ ঘন্টা আগে
by বাংলা প্রেস
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি