পুতিনকে ট্রাম্পের ফোন, জেলেনস্কির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের উদ্যোগ

ইমা এলিস: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার জানিয়েছেন, তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং জেলেনস্কির সঙ্গে সম্ভাব্য সরাসরি বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। এর আগে হোয়াইট হাউসে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ কথা জানান।
ট্রাম্প বলেন, পুতিন ও জেলেনস্কির মধ্যে বৈঠকটি নির্ধারিত সময় ও স্থানে অনুষ্ঠিত হবে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর (ফেব্রুয়ারি ২০২২) দুই নেতা প্রথমবারের মতো মুখোমুখি বসবেন।
ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, ওই বৈঠকের পর আমরা একটি ‘ট্রাইলাট’ করব, যেখানে দুই প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমিও থাকব,এটি প্রায় চার বছর ধরে চলা এক যুদ্ধের জন্য একটি ভালো, প্রাথমিক পদক্ষেপ।
হোয়াইট হাউসে সোমবার ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইউরোপের সাতজন শীর্ষ নেতার উপস্থিতিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প আলাস্কায় পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।
পুতিনকে ফোন দেওয়ার আগে ট্রাম্প বিকেলের বেশিরভাগ সময় জেলেনস্কি ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে কাটান। আলোচনায় যুদ্ধের সমাধান খুঁজে বের করার পথ নিয়ে আলোচনা হয়।
ট্রাম্প লিখেছেন, বৈঠকে আমরা ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা করেছি, যা বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশ দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্র সমন্বয় করবে, রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তির সম্ভাবনা নিয়ে সবাই খুশি।
সোমবারের বৈঠকে ট্রাম্প, জেলেনস্কি ও ইউরোপীয় নেতারা একক অবস্থান তুলে ধরেন। সবাই যুদ্ধ শেষ করার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও বিকেলের আলোচনা জুড়ে কিছু মতপার্থক্যও দেখা যায়।
উদাহরণস্বরূপ, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ বলেন, যুদ্ধবিরতির চুক্তি ছাড়া পুতিনের সঙ্গে আর কোনো বৈঠক করা উচিত নয়। তবে ট্রাম্প বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে বলেন, শান্তি চুক্তির জন্য যুদ্ধবিরতি পূর্বশর্ত নয়।
ইউক্রেনকে কী ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়া হবে, তা নিয়েও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাও জড়িত হতে পারে, তবে ইউরোপই নেতৃত্ব দেবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে ভূখণ্ড সংক্রান্ত ছাড়-দেওয়ার বিষয়টি ইউক্রেনকেই নির্ধারণ করতে হবে। যদিও তিনি আগেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে কিছু ‘ভূমি অদলবদল’ করতে হতে পারে। সোমবার হোয়াইট হাউসের এক শীর্ষ কর্মকর্তার প্রকাশ করা ছবিতে দেখা যায়, ট্রাম্প ও জেলেনস্কি ইউক্রেনের একটি মানচিত্রের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন, যেখানে রুশ বাহিনীর দখলে থাকা অঞ্চলগুলো চিহ্নিত করা আছে।
সোমবারের বৈঠকটি আসে ঠিক তিন দিন পর, যখন ট্রাম্প আলাস্কায় পুতিনের সঙ্গে শীর্ষ সম্মেলনে বসেছিলেন। এটি ছিল ২০১৫ সালের পর পুতিনের প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর। বৈঠক শেষে দুই নেতা অগ্রগতির দাবি করলেও ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা আসেনি।
[বাংলা প্রেস বিশ্বব্যাপী মুক্তচিন্তার একটি সংবাদমাধ্যম। স্বাধীনচেতা ব্যক্তিদের জন্য নিরপেক্ষ খবর, বিশ্লেষণ এবং মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজ আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।] বিপি। সিএসআপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
গুলির শব্দে হোয়াইট হাউস অবরুদ্ধ, সরিয়ে নেওয়া হলো সংবাদকর্মীদের
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি