পিছু হটলেন ট্রাম্প

বাংলাপ্রেস ডেস্ক : শুধু পিছুই হটলেন না ট্রাম্প; রীতিমতো ইউটার্নই নিয়ে নিলেন। ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার জবাবে সামরিক পদক্ষেপ বাদ দিয়ে সমঝোতার আহবান জানিয়েছেন তিনি। ইরানের সাথে নিঃশর্ত আলোচনার দাবিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেয়া হয়েছে চিঠিও। এই ইস্যুতে তার নেতৃত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন সিনেটররা। যুক্তরাষ্ট্রে অব্যাহত আছে যুদ্ধবিরোধী মিছিল। বিশ্লেষকরা বলছেন, ঘরে-বাইরে চাপের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প। সোলেইমানিকে হত্যার নির্দেশ দিয়ে অনেক সমীকরণ উল্টে দেয়ার যে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প; বুধবার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তাতে নিজেই জল ঢেলে দেন তিনি। আভাস আসে সমঝোতারও।
যা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেয়া ট্রাম্প প্রশাসনের চিঠিতে আরও স্পষ্ট হয়। যাতে ইরানের সাথে নিঃশর্ত আলোচনার দাবি জানানো হয়। বলা হয়, জাতিসংঘ সনদের ৫১ ধারা মেনেই হত্যা করা হয় সুলেইমানিকে। কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে সোলেমানিকে হত্যার নির্দেশ এবং চাপে পড়ে এমন ইউটার্ন নেয়ায় ট্রাম্পের নেতৃত্বের সক্ষমতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন সিনেট সদস্যরা।
ইরাকে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টোফার হিল মনে করেন, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প যে ভয়াবহ চাপের মুখে, তা স্পষ্ট হয়েছে তার ভাষণেই। বলেন, এর আগে কখনোই এমন হামলার মুখে পড়েনি মার্কিন সেনারা। প্রশ্ন উঠেছে, এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে মার্কিন বাহিনী সক্ষমতা নিয়ে। যাতে ট্রাম্প নিজেও অবাক হয়েছেন। মার্কিন কংগ্রেসের অনেকেই তার ওপর ক্ষুব্ধ। ট্রাম্প হয়তো ভাবছেন, এ মুহূর্তে ইরাক ছাড়লে, তা ইরানিদের জন্য বড় জয়ের কারণ হবে।
তেহরান বলছে, মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের পর কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত মাজিদ তাখত রাভানজি জানান, ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ জারি থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার প্রস্তাব বিশ্বাসযোগ্য নয়। টুইটে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পরিস্থিতিকে আর উত্তপ্ত করতে চায় না তেহরান।
ইরাকে স্বস্তিতে নেই মার্কিন বাহিনী। বৃহস্পতিবার আবারও বাগদাদের গ্রিনজোনে রকেট হামলা হয়েছে। মার্কিন দূতাবাসের ১শ' কিলোমিটারের মধ্যেই গিয়ে পড়ে দুটি রকেট। আর নিজেদের ভূখণ্ড অন্য দুই দেশের ঝামেলা নিয়ে ক্ষুব্ধ সাধারণ ইরাকিরা। তারা বলছে, 'ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে এরকম হামলা ও আমাদের সার্বভৌমত্বকে লঙ্ঘন নিয়ে সরকারকে অবশ্যই সোচ্চার হতে হবে। আমরা সব ধরনের হস্তক্ষেপের বিপক্ষে।'
যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। আমরাও, আমাদের স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ চাই আমরা।
আর সব পক্ষকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। মহাসচিব মুখপাত্র স্টিফান দুজারিক বলেন, 'বিশ্ববাসীর কাছে মহাসচিবের বার্তা স্পষ্ট, অসহিষ্ণুতা বাদ দিয়ে, পারস্পরিক সহযোগিতা ও আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধান করতে হবে। উপসাগরীয় অঞ্চলে আরেকটি যুদ্ধের ভার বইতে পারবে না বিশ্ব। যুদ্ধের কারণে জনমানুষের ভয়াবহ দুর্ভোগের চিত্র ভুলে গেলে চলবে না।' যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত আছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে।
বিপি/আর এল
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
গুলির শব্দে হোয়াইট হাউস অবরুদ্ধ, সরিয়ে নেওয়া হলো সংবাদকর্মীদের
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি