অভিবাসীদের ডিএনএ পরীক্ষা করবে যুক্তরাষ্ট্র
নোমান সাবিত: যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) অভিবাসন সুবিধার আবেদনকারীদের কাছ থেকে বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহারের ক্ষেত্র প্রসারিত করার প্রস্তাব দিয়েছে যার মধ্যে ডিএনএ পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবিত বিধিমালা ফেডারেল রেজিস্টার-এ দাখিল করা হয়েছে।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস) প্রায় সব অভিবাসন-সম্পর্কিত আবেদনকারী এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের (যেমন স্পনসর বা আবেদনকারী) কাছ থেকে বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করবে বয়স নির্বিশেষে। শুধুমাত্র যাদের জন্য বিশেষভাবে ছাড় দেওয়া থাকবে, তারাই ব্যতিক্রম হবেন।
এই বিধিতে ডিএইচএস-কে অ-নাগরিকদের গ্রেপ্তারের পর বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের ক্ষমতা দেওয়া হবে এবং 'বায়োমেট্রিকস' শব্দটির আনুষ্ঠানিক সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হবে যার মধ্যে থাকবে আঙুলের ছাপ, মুখের স্ক্যান, চোখের আইরিস স্ক্যান ও ডিএনএ তথ্য।
নিউজউইক-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই প্রস্তাব বিদ্যমান নীতিমালার একটি সম্প্রসারণ। মরগান বেইলি, আইন সংস্থা মেয়ার ব্রাউন-এর পার্টনার ও ডিএইচএস–এর সাবেক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, যে এটি আগের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ উদ্যোগের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হলেও এখন তা প্রায় সকল আবেদনকারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করছে।
বেইলি বলেন, এই প্রস্তাব বয়সসীমা তুলে দিচ্ছে। সাধারণত ১৪ বছরের নিচে ও ৭৯ বছরের উপরে যাদের বয়স, তাদের বায়োমেট্রিক তথ্য নেওয়া হয় না। এখন অনেক ক্ষেত্রেই সেই সীমাবদ্ধতা থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, আগে বায়োমেট্রিক বলতে কেবল আঙুলের ছাপ, স্বাক্ষর ও ছবি বোঝাত। এখন এতে চোখের স্ক্যান, কণ্ঠস্বরের নমুনা, এমনকি ডিএনএ-ও যুক্ত করা হচ্ছে।
বেইলির মতে, কিছু ক্ষেত্রে ডিএনএ পরীক্ষা প্রয়োজনীয় প্রমাণ হিসেবে সহায়তা করতে পারে যেমন জন্ম সনদ বা অন্যান্য নথি না থাকলে পারিবারিক সম্পর্ক প্রমাণে এটি কার্যকর হতে পারে।
তিনি বলেন, এটি সবসময় খারাপ নয়। অনেক সময় আবেদনকারী নিজেই ডিএনএ পরীক্ষা চান, কারণ এটি জেনেটিক সম্পর্কের দৃঢ় প্রমাণ দেয়।
এই বিধিতে বায়োমেট্রিক তথ্য পুনঃব্যবহারের নিয়ম স্পষ্ট করা হয়েছে এবং ডিএনএ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের পরিধি বাড়ানো হয়েছে।
এছাড়া ‘অসাধারণ পরিস্থিতি’-এর আওতায় বায়োমেট্রিক সাক্ষাৎকারে অনুপস্থিত থাকার কারণ মওকুফ করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
বিধিটি গৃহস্থ সহিংসতার শিকার আবেদনকারী বা মানবপাচারের শিকার (টি ভিসা আবেদনকারী)দের 'সু-নৈতিক চরিত্র' প্রদর্শনের প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আনবে। ডিএইচএস জানিয়েছে, এই বিধিতে স্পষ্ট করা হয়েছে কোন কোন উদ্দেশ্যে বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা যেতে পারে।
বেইলি আরও বলেন, এই প্রস্তাব 'ব্যক্তিকেন্দ্রিক' দৃষ্টিভঙ্গি আনে অর্থাৎ ইউএসসিআইএস এখন প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে না দেখে, একজন ব্যক্তির সমগ্র বায়োমেট্রিক রেকর্ডকে বিবেচনায় নেবে।
এই প্রস্তাব এমন সময় এসেছে যখন ফেডারেল সরকার ঘোষণা করেছে দেশে প্রবেশ বা দেশত্যাগের সময় সব অ-নাগরিকের ছবি তোলা হবে, মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তির উন্নতির কারণে।
ফেডারেল রেজিস্টারের সাম্প্রতিক নথি অনুযায়ী, কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) স্থল, সমুদ্র ও বিমানবন্দরে ছবি ও ডেটা সংগ্রহের পরিধি বাড়াচ্ছে, ভ্রমণ নথি জালিয়াতি রোধ ও জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারের জন্য।
এই ব্যবস্থা সব অ-মার্কিন নাগরিককে প্রভাবিত করবে, যার মধ্যে গ্রিন কার্ডধারী ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীরাও অন্তর্ভুক্ত।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
গুলির শব্দে হোয়াইট হাউস অবরুদ্ধ, সরিয়ে নেওয়া হলো সংবাদকর্মীদের
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি