৬ মে ২০২৬

অক্সফোর্ডের টিকায় অসুস্থ নারী সেরে উঠছেন

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৯ পিএম
অক্সফোর্ডের টিকায় অসুস্থ নারী সেরে উঠছেন
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: সম্প্রতি একজন নারী স্বেচ্ছাসেবকের অসুস্থ হয়ে পড়ার কথা জানিয়ে অক্সফোর্ডের করোনা ভ্যাকসিন পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার এই ভ্যাকসিনের প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকা জানিয়েছে, টিকা গ্রহণের পর জটিল স্নায়বিক সমস্যায় পড়েছিলেন ওই নারী স্বেচ্ছাসেবক। তবে ক্রমশ; তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন। স্ট্যাট নিউজ। অক্সফোর্ডের ফর্মুলায় ডিএনএ ভেক্টর ভ্যাকসিন তৈরি করেছে অ্যাস্ট্রাজেনেকাও। আর এই টিকার ডোজে জটিল স্নায়বিক সমস্যা দেখা গিয়েছিল ওই নারী স্বেচ্ছাসেবকের। তার শির দাঁড়ায় মারাত্মক ব্যথা ছিল। নিউরোলজিক্যাল রোগের উপসর্গও দেখা দিয়েছিল। এ নিয়ে প্রথমবার মুখ খুলেছে ব্রিটিশ-সুইডিশ ফার্ম অ্যাস্ট্রাজেনেকা। সংস্থার সিইও পাস্কাল সরিয়ট বলেছেন, টিকার ইনজেকশন দেওয়ার কিছুদিন পরেই স্পাইনাল ইনফ্ল্যামেশন হতে শুরু করে ওই নারীর। তীব্র প্রদাহ তৈরি হয় স্নায়ুর কোষে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ট্রান্সভার্স মায়েলিটিস রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ট্রান্সভার্স মায়েলিটিস রোগে শির দাঁড়ার দুপাশে যন্ত্রণা হয় রোগীর। স্পাইনাল কর্ডের স্নায়ুতে তীব্র প্রদাহ শুরু হয়। অনেক সময় এই রোগে স্নায়ু আর বার্তা আদান-প্রদান করতে পারে না। মস্তিষ্কে সঙ্কেত পাঠাতেও পারে না। ফলে স্পর্শের অনুভূতি চলে যাওয়া, প্যারালিসিস, পেশির ব্যথা, পেশির খিঁচুনি, ব্লাডার এবং বাওয়েল সিনড্রোমও দেখা দেয় রোগীর। সেই সঙ্গে মাথাব্যথা বা মাইগ্রেনের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। অ্যাস্ট্রাজেনেকার মুখপাত্র ম্যাথিউ কেন্ট বলেছেন, যে নারীর রোগ ধরা পড়েছিল তিনি এখন অনেকটাই সুস্থ। কী কারণে ওই নারীর শরীরে এমন রোগ দেখা দিয়েছিল তার পরীক্ষা চলছে। তৃতীয় পর্যায়ে প্রায় ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের মধ্যে একজনেরই কেন এমন রোগ দেখা দিল, সে বিষয়ে এখনও কিছু জানাতে পারেনি অ্যাস্ট্রাজেনেকা। অক্সফোর্ডের টিকার ট্রায়াল শুরু হয়েছিল এপ্রিল থেকেই। প্রথম দুজনের শরীরে ইনজেক্ট করা হয়েছিল ভ্যাকসিন। তাদের মধ্যে একজন নারীবিজ্ঞানী। নাম এলিসা গ্রানাটো। তার পর প্রথম পর্যায়ে কমসংখ্যক মানুষের শরীরে টিকার পরীক্ষা করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে হাজারের বেশি জনকে টিকা দেওয়া হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চালাচ্ছিল অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩০ হাজার জনকে টিকা দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু ট্রায়ালের মাঝে এক স্বেচ্ছাসেবকের অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর সামনে আসায় ট্রায়াল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় অ্যাস্ট্রাজেনেকা। বিবৃতিতে জানানো হয়, সুরক্ষার জন্যই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ বন্ধ রাখা হয়েছে। সমস্যা খতিয়ে দেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে অক্সফোর্ডের টিকা নিয়ে অযথা উত্তেজনা ছড়াতে না করেছেন বিশ^স্বাস্থ্য সংস্থার শীর্ষ বিজ্ঞানী সৌম্যা স্বামীনাথন। তিনি বলেছেন, টিকার গবেষণা ও প্রয়োগে নানা উত্থান-পতন থাকে। খুব সহজেই কোনো দুরারোগ্য রোগের টিকা চলে এসেছে এমন নজির নেই। অক্সফোর্ডের টিকার প্রথম দুই পর্বের ট্রায়ালের রেজাল্ট সামনে এনেছিল বিশে^র প্রতিষ্ঠিত মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেট। তাদের গবেষণাপত্রে বলা হয়েছিল, এক হাজার ৭৭ জন স্বেচ্ছাসেবককে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল। এই টিকা প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষের রক্তে ভাইরাস প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি করেছে। শরীরের টি-কোষও সক্রিয়। কোনো জটিল পাশর্^প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
বিপি।এসএম
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি