৫ মে ২০২৬

নিউ ইয়র্কে হট্টগোলে শেষ হলো ইতিহাস সেরা 'ব্যর্থ' ফোবানা

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৮ পিএম
নিউ ইয়র্কে হট্টগোলে শেষ হলো ইতিহাস সেরা 'ব্যর্থ' ফোবানা
বিশেষ প্রতিনিধি, নিউ ইয়র্ক: চরম হট্টগোলের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে 'ব্যর্থ' ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন ইন নর্থ আমেরিকা (ফোবানা) সম্মেলন শেষ হয়েছে। গত ৩০ আগষ্ট শুক্রবার শুরু হওয়া ফোবানা সম্মেলন রবিবার মধ্যরাতে হট্টগোলের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত তিন দিনের পৃথক দু'টি ফোবানা সম্মেলনে যা ঘটেছে তা গত ৩২ বছরে আর কখনোই ঘটেনি। চরম অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম আর দর্শকশ্রোতাদের জিম্মি করার ঘটনা দিয়ে গত রবিবার মধ্যরাতে শেষ হয়েছে প্রবাসে বাংলাদেশিদের মিলনমেলা নামে পরিচিত এ ফোবানা সম্মেলন। গত ৩০ আগষ্ট শুক্রবার নিউ ইয়র্কের লং আইল্যান্ডের নাসাউ কলিসিয়াম ও লাগোর্ডিয়া ম্যারিয়ট হোটেলে শুরু হওয়া ৩৩তম ফোবানার পৃথক পৃথক দু'টি সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ৩২ বছর আগে ১৯৮৭ সালে ওয়াশিংটন ডিসি থেকে যাত্রা শুরু হয়েছিল এই ফোবানা সম্মেলনের। নিউ ইয়র্কের নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠক ড্রামা সার্কল এর আয়োজনে এবারে ৩৩ তম ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকার (ফোবানা) সম্মেলনের ৩ দিনেই লোক সমাগম ছিল একেবারেই কম। ১৭ হাজার আসনবিশিষ্ট নিউ ইয়র্কের লং আইল্যান্ডের নাসাউ কলিসিয়ামের মিলনায়তনে তিন দিনে প্রতিদিন গড়ে লোক সমাগম হয়েছিল ৭'শ থেকে ৮'শ। টিকেট কেটে ভেতরে ঢোকার পর প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে কেউ বাইরে গেলে পুনরায় আর ভেতরে ঢুকতে পারবে না এমন শর্ত জুরে দেওয়া হয় দর্শক শ্রোতাদের।ফলে সাধারন দর্শকরা দনিরাপত্তাকর্মিদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ে। ফোবানা কর্তৃপক্ষের এ ধরনের কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ হয়েছেন শতশত দর্শক।মিলনায়তনের ধারন ক্ষমতা ১৭ হাজার কিন্তু লোক সমাগম ঘটে মাত্র ৭/৮'শ। যা দেখে মনে হয়েছিল মিলনায়তনের একটি কোণাও ভরেনি। আর এ কারনেই এবারের নিউ ইয়র্কের ফোবানা সম্মেলনকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে 'চরম ব্যর্থ' বলে অবিহিত করেছেন অনেকেই। গত রবিবার তৃতীয় দিনের অনুষ্ঠান্সূচিতে থাকা তপন চৌধুরী, রিজিয়া পারভীন, বেবী নাজনীন, ফাহমিদা নবী, সামিনা চৌধুরী ও শুভ্র দেবসহ জনপ্রিয় শিল্পীদের গান শুনতে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে ছুটে আসেন প্রবাসীরা। নির্ধারিত মূল্যে টিকেট কেটে ভেতরে প্রবেশ করেন। শিল্পীদের মঞ্চে ওঠার অপেক্ষায় প্রহর গুনতে থাকেন। কিন্তু ফোবানার পৃষ্ঠপোষকদের খুশি করতে আয়োজকদের অহেতুক ও অগোছালো কর্মচূচি দেখে দর্শকশ্রোতারা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। পৃষ্ঠপোষকদের তেল মারতেই অনুষ্ঠানের অধিকাংশ সময় নষ্ট হয় যায়। অল্প সময়ে ঠিকমত গান গাইতে না পেরে ঢাকা থেকে আগত শিল্পীরা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। এছাড়াও প্রিয় শিল্পীদের গান শুনতে না পেরে দর্শকশ্রোতারাও হতাশ হয়ে বাড়ি ফেরেন। যুক্তরাষ্ট্রে ৩৩ বছরের ফোবানার ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভেন্যু নিউ ইয়র্কের লং আইল্যান্ডের নাসাউ কলিসিয়ামে 'চরম ব্যর্থতায়' শেষ হয়েছে তিন দিনের ফোবানা সম্মেলন। দুদিনে অডিটরিয়ামের ভাড়া বাবদ গুনতে হয়েছে তিন লাখ ডলার। ব্যক্তিগত ক্ষোভ আর ক্রোধের বসবতি হয়ে একই শহরে আরেকটি ফোবানা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে লাগোর্ডিয়া ম্যারিয়ট হোটেলে। চরম অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম আর দর্শকশ্রোতাদের জিম্মি করার ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া ফোবানা সম্মেলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ৩৩তম ফোবানার আয়োজক ছিল নিউ ইয়র্কের নাট্য সংগঠন ড্রামা সার্কল। সবার সেরা হতে সংগঠনটি ভেন্যু হিসাবে বেঁছে নেয় লং আইল্যান্ডের নাসাউ কলিসিয়ামের মিলনায়তন। দুদিন অর্থাৎ দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনের ভাড়া বাবদ আয়োজকদের গুনতে হয়েছে ৩ লাখ ডলার বা বাংলাদেশি অর্থে ২ কোটি ৫৩ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। নাট্য সংগঠন ড্রামা সার্কলের অনভিজ্ঞতা এবং দুর্বল প্রচারের কারণে প্রায় ১৭ হাজার আসন ক্ষমতার মিলনায়তনে দ্বিতীয় দিনে ৮ থেকে ১ হাজার দর্শকে উপস্থিতি দেখা গেছে। তৃতীয় দিনে তপন চৌধুরী, বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভীন, ফাহমিদা নবী, সামিনা চৌধুরী ও শুভ্র দেবসহ জনপ্রিয় শিল্পীদের কথা প্রচার করায় দুই থেকে আড়াই হাজার দর্শকের উপস্থিতি দেখা গেছে। কিন্তু তাদেরও হতাশ করেছেন আয়োজকরা। একটি দেশাত্মবোধক গান গাইবার পর জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী বেবী নাজনীনকে মঞ্চ ছাড়তে বলায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। বেবী নাজনীন মঞ্চ ছাড়ার আগেই মাইক হাতে নেন তপন চৌধুরী। তার একটি গান শেষ না হতেই মঞ্চে এসে তার সঙ্গে গলা মেলান আরেক জনপ্রিয় শিল্পী রিজিয়া পারভীন। এর আগে মঞ্চে একটি গান গেয়ে বিদায় নেন শুভ্র দেব। প্রয়াত শিল্পী মাহমুদুন্নবীকে সম্মাননা জানায় ড্রামা সার্কল। তার দুই মেয়ে জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী ফাহমিদা নবী ও সামিনা চৌধুরী সময় স্বল্পতার কারণে খালি গলায় দুই লাইন গেয়ে মঞ্চ থেকে বিদায় নেন। অথচ ফোবানা সম্মেলনের টাইটেল স্পন্সর হওয়ায় টাউন এমডি পক্ষের কর্ণধার রাহাত আল মুক্তাদিরের কবিতা এবং তার ছোট ভাই ফুয়াদ ও বন্ধুরা ব্যান্ডের গান গেয়ে পার করেছেন পুরো একটি ঘণ্টা। এসব নিয়ে দর্শকেরা ক্ষুব্ধ হন। শুরু করেন চেঁচামেচি। অপরদিকে কলকাতার জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তীকেও একটি পুরো এবং পরে অর্ধেক বাংলা গান গেয়ে মঞ্চ থেকে বিদায় নিত হয়েছে। ইমন চক্রবর্তীকে দেড়টি গান গাওয়ার জন্য সম্মানী দিতে হয়েছে আট হাজার ডলার বা ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৮০ টাকা। বাংলাদেশের জনপ্রিয় দুইজন শিল্পী অভিযোগ করেছেন তাদের বেলায় প্রাপ্য সম্মানী দেওয়া হয়নি। অনুষ্ঠানের সময় যখন শেষের পথে দর্শকেরা যখন প্রিয় শিল্পীদের গান শোনার জন্য অধীর অপেক্ষায় তখনই মঞ্চে আসেন ফোবানা কর্মকর্তারা। তারা নতুন কমিটি এবং পরবর্তী ফোবানা সম্মেলনের কথা ঘোষণা করেন। কর্মকর্তাদের ‘অতিকথনে’ দর্শকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করলে আয়োজক সংগঠন ড্রামা সার্কলের সভাপতি ও ফোবানার সদস্য সচিব আবীর আলমগীর বলেন, এটা ফোবানা কনসার্ট নয়, সম্মেলন। অতএব, আমাদের কথা শুনতে হবে। তার এ কথায় দর্শকেরা চিৎকার করে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। মিলনায়তরে ভেতরে যখন ‘হযবরল’ অবস্থা, বাইরে এক্সপো সেন্টারে তখন তীব্র হট্টগোল চলছিল। অর্ধশতাধিক স্টল মালিককে মিলনায়তনের প্রধান ফটকের বাইরে বিক্ষোভ করছিলেন। তাদের হাতে নাজেহাল হয়ে পড়েন ফোবানার আয়োজক সংগঠন ড্রামা সার্কলের সাধারন সম্পাদক পলাশ পিপলু। স্টল মালিকদের অভিযোগ ১০-১২ হাজার লোকের উপস্থিতি ঘটবে বলে তাদের কাছ থেকে ২ হাজার ও ১ হাজার ডলার মূল্যে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রবাসীদের স্বল্প উপস্থিতির কারণে তাদের স্টলের ভাড়াই ওঠেনি। পরে নাসাউ কলিসিয়ামের নিরাপত্তা কর্মীদের মধ্যস্থতায় আয়োজকরা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার অঙ্গীকার করলে স্টল মালিকরা শান্ত হন। প্রতিশ্রুতি মোতাবেক তাদেরকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কিনা তা নিয়ে আশঙ্কা করেছেন অনেকেই। কারন ইতোপুর্বে অনেকে ফোবানাতে এমন ঘটনা ঘটেছে। আদৌ কেউ তাদের ক্ষতিপুরণের অর্থ ফেরত পান নাই। এদিকে, ৩৩তম ফোবানা কনভেনশন নামে আরেকটি আসর বসেছিলো নিউইয়র্কের লাগোর্ডিয়া ম্যারিয়ট হোটেলে। এর আয়োজক বাংলাদেশি আমেরিকান ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি। শুক্রবার সন্ধ্যায় কনভেনশনের উদ্বোধন করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা। অনুষ্ঠানের শেষ দিনে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি ছিল আরও হতাশাজনক। স্বল্প পরিসর,অগোছালো অনুষ্ঠানসূচি আর অপেশাদার শিল্পীর গান নৃত্য বিএনপির নেতাকর্মিদের মঞ্চে দাপাদাপিতে বিএনপির কর্মি সম্মেলনে পরিনিত হয়েছিল এ সম্মেলন। তবে এ অনুষ্ঠানটি ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত। নিউ ইয়র্কের স্থানীয় শিল্পীরা সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন। সাংবাদিকদরা উপেক্ষিত! যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের পর এবার নিউ ইয়র্কের ফোবানা সম্মেলনেও উপেক্ষিত হয়েছেন প্রবাসী সাংবাদিকদরা। গত ৩৩ বছরেও সাংবাদিকদের ভাগ্যে নির্দিষ্ট কোন বসার জায়গা জোটেনি ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোশিয়েশন ইন নর্থ আমেরিকা (ফোবানা) সম্মেলনে। ফোবানা কর্মকর্তাদের দ্বারা প্রায় প্রতি বছরেই সংবাদকর্মিরা উপেক্ষিত হয়ে আসছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাংবাদিকদের জন্য কোন আসন ব্যবস্থা না থাকলেও প্রতি বছরই সামনের সারিতে ফোবানা কমিটির নতুন পুরাতন সদস্য, আদম ব্যবসায়ী, প্রতারক ও ধান্ধাবাজদের বসতে দেখা যায় । নিউ ইয়র্কে গত ৩০ আগষ্ট শুক্রবার নিউ ইয়র্কের লং আইল্যান্ডের নাসাউ কলিসিয়াম ও লাগোর্ডিয়া ম্যারিয়ট হোটেলে শুরু হওয়া ৩৩তম ফোবানা সম্মেলনে যোগ দিতে আসা বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের বাংলাদেশি মিডিয়াকর্মিরা চরমভাবে উপেক্ষিত হয়েছেন অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফোবানা সম্মেলনের খবর সংগ্রহ করতে আসা অনেক সাংবাদিক এ প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে এ তথ্য দিয়েছেন। তারা জানান, এবারের ফোবানা সম্মেলনে প্রবাসের বাংলা মিডিয়াগুলোকে চরমভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। বিশেষ করে নিউ ইয়র্কের বাইরের সংবাদকর্মিরা পড়েছিলেন বিপাকে। প্রতিবছরই ফোবানা সম্মেলনে আয়োজক কমিটি নামকা ওয়াস্তে একটি মিডিয়া কমিটি গঠন করে থাকেন। এই মিডিয়া কমিটির কোন কার্যক্রম চোখে পড়ে না। তারা মিডিয়ার পাশ দিয়ে (বিনা মূল্যে) নিজেদের আত্মীয়-স্বজন বন্ধু বান্ধবদেরকে ফোবানার মঞ্চে ঢোকাতেই ব্যস্ত থাকেন। সাংবাদিকতা করেন না এমন ব্যক্তিরাও গলায় ‘প্রেস পাশ ও ক্যামেরা ঝুলিয়ে’ ফোবানা সম্মেলনে ঘুরতে দেখা গেছে। প্রকৃত সাংবাদিকদের জন্য তাদের করার কিছুই থাকে না। অনেক সন্মেলনেই মিডিয়া কমিটির কর্মকর্তা ও কর্মিদেরকে গ্রিনরুমে বসে বিভিন্ন ষ্টেট থেকে অংশগ্রহন করতে আসা শিল্পী ও সংগঠনের শ্লটের সময়সুচি ঘষামাজা করতেও দেখা গেছে। মিডিয়া সেন্টার থাকলেও সেখানে ছিল না কোন ব্রিফিং-এর ব্যবস্থা। সম্মেলনের অনুষ্ঠান সূচী বা যাবতীয় তথ্যাদিও জানানো হয়নি সম্মেলন কভার করতে যোগদানকারী সাংবাদিকদের। ফলে সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের নানা সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসি থেকে নিউ ইয়র্কের ফোবানা সম্মেলন কভার করতে আসা একটি অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক ও সাংবাদিক জাহিদ রহমান জানান, নিউ ইয়র্কের লং আইল্যান্ডের নাসাউ কলিসিয়ামে অনুষ্ঠিত ফোবানার আয়োজক কমিটির আমন্ত্রণে তিনি সম্মেলনের সংবাদ কভার করতে নিউ ইয়র্কে এসেছিলেন দ্বিতীয় দিনে। কিন্তু কমিটির কেউ তাকে পাত্তাই দেননি। তিনি বলেন, ২৩ আগস্ট বারোটার দিকে ফোবানার সদস্য সচিব আবীর আলমগীরকে ফোন করে তিনি সাংবাদিক পরিচয় দেন এবং নিজের জন্য একটি মিডিয়া পাশ চেয়েছিলেন। জবাবে আবীর বলেন আপনি আসেন আমি মিডিয়া পাশের ব্যবস্থা করবো। যখন ওয়াশিংটন ডিসি থেকে তিনি নিউ ইয়র্কে আসেন। এ সময় তিনি আবীরকে আবারো ফোন দিলে তিনি সরাসরি তা অস্বীকার করেন। পরে জাহিদকে একটি বিনামূল্যের প্রবেশ টিকিট দিতে চাইলে নিজের সম্মান বজায় রাখার জন্য জাহিদ সেই বিনামূল্যের টিকেট গ্রহণে অসম্মতি জানান। ওয়াশিংটন ডিসি'র প্রতারকচক্র পেলেন ৩৫তম ফোবানা সম্মেলনের দায়িত্ব আগামী ২০২১ সালে ৩৫তম ফোবানা সম্মেলনের ‘নিমন্ত্রণকর্তার দায়িত্ব পেছেন বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসি এলাকার একটি শক্তিশালী প্রতারকচক্র। দীর্ঘদিন ধরে এ চক্রটি ফোবানা উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রিয় মিলনমেলা ‘ফোবানা সম্মেলন’র নাম ভাঙিয়ে নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছে। অপসংস্কৃতির মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকেও ভূলুণ্ঠিত করেছে এ চক্রটি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, উত্তর আমেরিকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মিলনমেলা ‘ফোবানা সম্মেলন’ এখন চরম হুমকির মুখে। একদিকে অভ্যন্তরীণ স্বার্থান্বেষী মহল ও অন্যদিকে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র-এই দুই শ্রেণির নীল নকশায় ফোবানা সম্মেলন আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওয়াশিংটন ডিসির এই সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের কেন্দ্রে রয়েছে ‘আমেরিকান বাংলাদেশ বিসনেস অ্যাসোসিয়েশন’ নামে একটি বাণিজ্যিক সংগঠন, যার নতুন নাম হয়েছে ‘বাংলাদেশ আমেরিকান ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি’। এই সংগঠনটি পূর্বেও স্বার্থান্বেষী মহলের সহযোগিতায় ২০০৯ ও ২০১১সালে দুইবার ফোবানা সম্মেলন আয়োজন করে যা ‘ভুয়া ফোবানা সম্মেলন’ হিসেবে পরিচিত রয়েছে। ফোবানা সম্মেলনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে স্বার্থান্বেষী কিছু ব্যক্তি ও প্রতারকচক্র সক্রিয় থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে সম্মেলনটিই যখন কুক্ষিগত হয় তখন আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। বাংলাদেশ আমেরিকান ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি নামক সংগঠনটির পরিচালক অথবা মূলব্যক্তি স্টল বরাদ্দ, বিজ্ঞাপনের অঙ্গীকার, ব্যবসায়িক অঙ্গীকার, ভুয়া কাগজে আদম আমদানি-এমন কোনো কর্মকাণ্ড নেই যা ২০০৯ ও ২০১১ সালের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তিনি করেননি। বিপি।সিএস
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি