নিউ ইয়র্কে অবৈধভাবে আটক অভিবাসীরা পাচ্ছেন ১১ কোটি ২০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ
কৌশলী ইমা: নিউ ইয়র্কের সাফোক কাউন্টির কারাগারে ২০১৭ সালে আটক থাকা ৬০০-র বেশি অভিবাসীকে অবৈধভাবে আটক রাখার দায়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইসিই)-এর অনুরোধে কারাবন্দি রাখার জন্য ১১ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এক ফেডারেল বিচারক। আদালতের নথি অনুযায়ী, সাফোক কাউন্টি ও সেখানকার শেরিফের অফিস ৬৭৪ জনের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের দায়ে আর্থিকভাবে দায়বদ্ধ বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ব্যক্তিদের জামিন দেওয়া বা মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার পরও তারা কারাগারে ছিলেন।
লাতিনো জাস্টিস পিআরএলডিইএফের উপ-মহাপরামর্শক হোসে পেরেজ নিউজনেশনকে বলেছেন, এই রায় বহুল প্রতীক্ষিত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেছে। জুরি নিশ্চিত করেছে যা আমরা সবসময় বলে আসছিলাম সাফোক কাউন্টির কর্মকাণ্ড ১৪তম সংশোধনীর অধীনে গ্যারান্টিকৃত মৌলিক ন্যায়বিচারের অধিকারকে পায়ে মাড়িয়েছে।
এই মামলার সূত্রপাত হয়েছিল এক গুয়াতেমালান বংশোদ্ভূত লং আইল্যান্ডের বাসিন্দার অভিযোগ থেকে। তিনি জানান, নির্ধারিত মুক্তির তারিখ পেরিয়ে যাওয়ার পরও তাকে ‘প্রশাসনিক সুবিধা’র নামে আইসিই’র নির্দেশে আটক রাখা হয়। তার পরিবার ১,০০০ ডলার জামিন দিয়েছিল এই শর্তে যে তিনি অভিবাসন আদালতে হাজির হবেন, কিন্তু তাকে আদালতে না ডেকে ম্যানহাটনে আইসিই’র হেফাজতে নেওয়া হয় এবং পরে নিউ জার্সির এক কারাগারে পাঠানো হয়।
ফেডারেল বিচারক রায়ে বলেন, ওই ব্যক্তি শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির পাশাপাশি স্বাধীনতা হারানো, অপমান ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সাফোক কাউন্টিতে আইসিই’র অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। এই মাসেই হ্যাম্পটন বেসে বেশ কয়েকটি আইসিই অভিযান হয়েছে, যেখানে অস্ত্রধারী কর্মকর্তারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে গ্রাহকদের ধরে নিয়ে গেছেন।
স্থানীয় অধিকারকর্মীরা বলছেন, এসব অভিযানের ফলে অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে। “আমরা এখন দেখছি এজেন্টরা ডেলি আর ছোট দোকান থেকে মানুষকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে,” বলেন আহমেদ পেরেজ, যিনি আইসিই কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী একটি সংগঠন পরিচালনা করেন। দোকানমালিকদের ভাষ্য, জানুয়ারি থেকে মুখোশধারী এজেন্টদের উপস্থিতি গ্রাহকদের দোকানে আসতে নিরুৎসাহিত করছে।
আইসিই জানিয়েছে, সাম্প্রতিক অভিযানে তারা প্রায় ২৫০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, অভিযানের সময় কর্তৃপক্ষ যেন প্রকৃত অপরাধের প্রমাণ দেখায়। অন্যরা বলছেন, তারা কঠোর অভিযানের বিরোধী, কিন্তু আইনি প্রক্রিয়ার যথাযথ প্রয়োগ চান।
এই রায় এমন সময়ে এসেছে, যখন নিউ ইয়র্ক সিটিতে রাজনৈতিক ও আইনি পরিবর্তনের প্রস্তুতি চলছে। নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি আগামী বছর দায়িত্ব নেবেন যিনি জনরক্ষা আইনজীবী ও নাগরিক অধিকারকর্মীদের দৃঢ় সমর্থন পেয়েছেন। তার প্রশাসন নিউ ইয়র্ক সিটি আইন বিভাগ তত্ত্বাবধান করবে এবং স্থানীয় সংস্থাগুলোর ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতার ধরনেও প্রভাব ফেলতে পারে।
অভিবাসন অধিকারকর্মীরা আশা করছেন, মামদানি প্রশাসন ‘সাংকচুয়ারি’ বা অভয়নীতিকে আরও জোরদার করবে যা আইসিই’র সঙ্গে তথ্য আদানপ্রদান সীমিত রাখে। একইসঙ্গে অনেকেই মনে করছেন, অবৈধ আটক চ্যালেঞ্জে ‘হেবিয়াস করপাস’ আবেদন আরও ঘন ঘন ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন আইনি কৌশলও দেখা যাবে।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
গুলির শব্দে হোয়াইট হাউস অবরুদ্ধ, সরিয়ে নেওয়া হলো সংবাদকর্মীদের
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি