৪ মে ২০২৬

নিউ ইয়র্কে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে আইসিই কর্মকর্তার দোষ স্বীকার

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬, ০১:১১ পিএম
নিউ ইয়র্কে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে আইসিই কর্মকর্তার দোষ স্বীকার

মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা ( আইসিই)

আবু সাবেত: মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা ( আইসিই)-এর সুপারভাইজরি ডিপোর্টেশন কর্মকর্তা হেনরি ইয়াউ আজ যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট জজ কোলিন ম্যাকমাহনের আদালতে ঘুষ গ্রহণ ও দেওয়ার ষড়যন্ত্রের দোষ স্বীকার করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের অ্যাটর্নি জে ক্লেটনের কার্যালয় সুত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 
ঘুষ ও উপঢৌকনের বিনিময়ে ইয়াউ তার ক্ষমতা ও পদমর্যাদার অপব্যবহার করে গোপন আইন প্রয়োগকারী তথ্য অননুমোদিত ব্যক্তিদের কাছে ফাঁস করেন, ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর চলমান তদন্ত সম্পর্কে একজনকে আগাম সতর্ক করেন এবং একটি ব্যাংক জালিয়াতি চক্রের সদস্যদের অনুরোধে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেন, যাকে তারা ভয় দেখাতে ও চুপ করাতে চেয়েছিল।
আদালতের নথি ও অভিযোগ অনুযায়ী, ইয়াউ আইসিই-তে সুপারভাইজরি ডিপোর্টেশন অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন, যা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) অধীন একটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। সংস্থাটির মূল কাজের মধ্যে রয়েছে অপরাধ তদন্ত এবং অভিবাসন আইন প্রয়োগের মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ২০১৫ সাল থেকে ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ইয়াউ আইসিই-তে কর্মরত ছিলেন এবং ২০২১ সালের দিকে তিনি সুপারভাইজরি পদে উন্নীত হন। তিনি ম্যানহাটনে অবস্থিত আইসিই-এর নিউইয়র্ক ফিল্ড অফিসে কর্মরত ছিলেন।
ডিপোর্টেশন অফিসার হিসেবে ইয়াউ বিভিন্ন পাসওয়ার্ড-সুরক্ষিত ডাটাবেসে প্রবেশাধিকার পেয়েছিলেন, যার মধ্যে ছিল ইউএসসিআইএস-এর অভিবাসন আবেদন সংক্রান্ত তথ্য, ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি)-এর সীমান্ত পারাপারের তথ্য, অপরাধমূলক ইতিহাস সংক্রান্ত ডাটাবেস এবং আইসিই-এর গ্রেপ্তার ও বহিষ্কার সংক্রান্ত রেকর্ড।
২০১৫ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ইয়াউ অন্যদের সঙ্গে মিলে একটি ঘুষের চক্রে অংশ নেন। এই চক্রের মাধ্যমে তিনি গোপন আইন প্রয়োগকারী ও অভিবাসন সংক্রান্ত তথ্য ফাঁস করা, বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করা এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার বিনিময়ে ঘুষ গ্রহণ করতেন। তিনি যে তথ্য ফাঁস করেন তার মধ্যে ছিল এফবিআই-এর চলমান তদন্তের তথ্য, বিদেশি নাগরিকদের অভিবাসন অবস্থা এবং সীমান্ত পারাপারের ইতিহাস।
ইয়াউ নগদ অর্থ, দামি রেস্টুরেন্টে আপ্যায়ন এবং উচ্চমূল্যের মদসহ বিভিন্ন ধরনের ঘুষ গ্রহণ করেছেন।
৪৩ বছর বয়সী ইয়াউ ঘুষ গ্রহণের ষড়যন্ত্রের একটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন, যার সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছর কারাদণ্ড। তবে চূড়ান্ত সাজা বিচারক নির্ধারণ করবেন।
এই মামলার তদন্তে FBI গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এছাড়া সিবিপি-এর অফিস অব প্রফেশনাল রেসপনসিবিলিটি, ডিএইচএস-এর অফিস অব ইন্সপেক্টর জেনারেল এবং নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ইনভেস্টিগেশন সহায়তা প্রদান করেছে।
মামলাটি প্রসিকিউশন করছে সংশ্লিষ্ট অফিসের পাবলিক করাপশন ইউনিট ও ভায়োলেন্ট অর্গানাইজেশনস অ্যান্ড ক্রাইম ইউনিট।

* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।

বিপি/এসএম

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি