৬ মে ২০২৬

এএফসি'র নতুন প্রতিবেদন

নিউ ইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলের প্রতি ৭ জনের মধ্যে ১ জন শিক্ষার্থী গৃহহীন

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৫, ১০:৩১ পিএম
নিউ ইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলের প্রতি ৭ জনের মধ্যে ১ জন শিক্ষার্থী গৃহহীন

নোমান সাবিত: গত বছর নিউ ইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলগুলোর ১ লাখ ৫৪ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী গৃহহীন ছিল, নিউ ইয়র্কের 'অ্যাডভোকেটস ফর চিলড্রেন' (এএফসি) প্রকাশিত সোমবারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এই সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় পাবলিক সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রতি সাতজন শিক্ষার্থীর মধ্যে একজনের সমান।

এই চমকপ্রদ পরিসংখ্যান ২০২৪–২০২৫ শিক্ষাবর্ষকে পরপর দশম বছর হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যখন ১ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর স্থায়ী বাসস্থান ছিল না। এটি ছিল প্রথম শিক্ষাবর্ষ যেখানে অস্থায়ী আবাসনে থাকা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি হয়েছে।

নিউ ইয়র্ক রাজ্য শিক্ষা বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে শহরের পরিবারগুলো আশ্রয় ও খাদ্যের মতো মৌলিক চাহিদা মেটাতে সংগ্রাম করছে। গত মাসে স্কুল সরঞ্জাম কেনার সামর্থ্য না থাকায় শহরজুড়ে অসংখ্য 'ব্যাকপ্যাক ও স্কুল সাপ্লাই' বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর প্রায় ৬৫ হাজার গৃহহীন শিশু শহরের আশ্রয়কেন্দ্রে কিছু সময় বসবাস করেছে। আরও ৮২ হাজারের বেশি শিশু 'ডাবলড আপ' অবস্থায়, অর্থাৎ অন্য কারও সঙ্গে অস্থায়ীভাবে বসবাস করেছে। গৃহহীনতার সামগ্রিক হার আগের শিক্ষাবর্ষের তুলনায় বেড়েছে এবং সর্বোচ্চ ছিল ব্রঙ্কসের স্কুলগুলোতে, এরপর ম্যানহাটনের স্কুলগুলোতে।

কমিউনিটি স্কুল জেলার হিসেবে দেখা গেছে, ইস্ট হারলেম (ডিস্ট্রিক্ট ৪), হাইব্রিজ ও গ্র্যান্ড কনকোর্স (ডিস্ট্রিক্ট ৯), ব্রাউনসভিল (ডিস্ট্রিক্ট ২৩) এবং বুশউইক (ডিস্ট্রিক্ট ৩২)-এর স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতি পাঁচজনের একজনকে গৃহহীন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে।

গবেষকরা বলেছেন, শিক্ষার্থীরা যখন গৃহহীন থাকে বা আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করে, তখন তারা তাদের শিক্ষাজীবনে 'ভয়াবহ বাধার' সম্মুখীন হয়।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অনুপস্থিতির হার বেড়ে যায়, ফলাফল খারাপ হয় এবং উচ্চ বিদ্যালয় থেকে স্নাতক হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

এএফসি–এর অস্থায়ী আবাসনে থাকা শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করা পরিচালক জেনিফার প্রিংগল বলেন,

'২০২৩–২০২৪ শিক্ষাবর্ষের তথ্য অনুযায়ী, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা প্রতি আটজন শিক্ষার্থীর একজন স্কুল ছেড়ে দিয়েছে। এটি স্থায়ীভাবে বসবাসরত শিক্ষার্থীদের তুলনায় তিনগুণ বেশি ড্রপআউট হার।'

তিনি আরও জানান, চার বছরের স্নাতক হার আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল ৬২%, যেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসরত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তা ৮৫%। গৃহহীন শিশুদের জন্য শিক্ষা অর্জনের পথে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে।

প্রিংগল বলেন, উদাহরণস্বরূপ, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা পরিবারের ৪০%–এর বেশি এমন স্থানে রাখা হয়, যা শিশুদের স্কুল বরোর বাইরে। অর্থাৎ, শুধু আলাদা পাড়া বা স্কুল জেলা নয় সম্পূর্ণ আলাদা বরো।

 

সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ

বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশের পর, অধিকারকর্মীরা শহর সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন গৃহহীনতার সঙ্গে সংগ্রামরত পরিবারগুলোর সহায়তায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে। ক্রিস্টিন কুইন, যিনি উইন সংস্থার প্রেসিডেন্ট ও সিইও যা গৃহহীন পরিবারকে আশ্রয় ও সহায়তা প্রদান করে তিনি গৃহহীন শিক্ষার্থীর ক্রমবর্ধমান সংখ্যাকে 'নৈতিক ব্যর্থতা ও শহরের জন্য এক কঠোর সতর্কবার্তা বলে অভিহিত করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা জানি, গৃহহীন শিক্ষার্থীদের পথ অনেক কঠিন তারা নিয়মিত অনুপস্থিতি থেকে শুরু করে এমন অনেক মানদণ্ডে পিছিয়ে পড়ে, যা তাদের স্থায়ীভাবে বসবাসরত সহপাঠীরা সহজেই অর্জন করে।

অধিকারকর্মীরা বলেন, নতুন মেয়র প্রশাসন দায়িত্ব নিলে এই সমস্যার সমাধানে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। মারিয়া ওডম, 'অ্যাডভোকেটস ফর চিলড্রেন অব নিউ ইয়র্ক (এএফসি)–এর নির্বাহী পরিচালক, বলেন যে শহরটি বর্তমানে আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাসরত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে 'ব্যর্থ' হচ্ছে।

তিনি বলেন,গৃহহীন শিক্ষার্থীরা স্কুলে সফল হতে যে সহায়তা প্রয়োজন তা নিশ্চিত করা পরবর্তী মেয়রের প্রধান অগ্রাধিকার হতে হবে। তাঁকে শহরজুড়ে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে একটি উদ্যোগের নেতৃত্ব দিতে হবে, যাতে প্রশাসনিক জটিলতা দূর হয়, এই উদ্বেগজনক প্রবণতা উল্টানো যায়, এবং গৃহহীন শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন স্কুলে যেতে পারে ও তাদের সাফল্যের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা সহায়তা পায়।

কুইন সিটি হল থেকে দৃঢ় পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের শহর যখন নতুন মেয়রকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, এটি এই সংকটের প্রতি নতুনভাবে মনোযোগ দেওয়ার এবং অবশেষে পরিবারগুলোর গৃহহীনতার মহামারী শেষ করার এক সুবর্ণ সুযোগ। আমি সিটি হলের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানাই সাহসী ও নতুন সমাধান গ্রহণ করতে, যাতে আরও বেশি পরিবার স্থায়ী আবাস পায় এবং এই সংকট একবারে চিরতরে শেষ হয়।

বিপি/এসএম

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি